পৃথিবীর হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য যেভাবে নতুন করে ফিরে এল
শেয়ার করুন
ফলো করুন

চোখের সামনে নেই, এমন অনেক মানুষ, স্থান ও বস্তুর অনেকটা বাস্তবসম্মত রূপ চিত্রিত করতে পারে এআই মিডজার্নি ইমেজ জেনারেটর। এখানে এটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের আদি রূপ।

পৃথিবীর বুক থেকে কালের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন মানবসভ্যতার গৌরবময় নিদর্শন হিসেবে সযত্নে আর বহু আয়াসে গড়ে তোলা সেভেন ওয়ান্ডার্স বা সপ্তাশ্চর্যগুলো দেখতে আসলে কেমন ছিল? এমন প্রশ্ন হয়তো অনেকের মনেই আসে। এই আগ্রহ থেকেই এআই মিডজার্নি ইমেজ জেনারেটর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের আদি রূপ। আজকাল এআই নিয়ে আমরা প্রায়ই অনেক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, নিরাপত্তাহীনতা, অবিশ্বাস বা এমন সব নেতিবাচকতায় ভুগে থাকি। অথচ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই আমাদের নতুন দিনে আধুনিক সভ্যতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এটি আমাদের প্রতিস্থাপিত করতে নয়; বরং আমাদের কাজে সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করা যায় অগণিত উপায়ে। সম্প্রতি মিডজার্নির মতো এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে সৃজনশীল শিল্প পেয়েছে এক নতুন মাত্রা। এর মাধ্যমে আমরা চোখের সামনে নেই, এমন অনেক মানুষ, স্থান ও বস্তুর অনেকটা বাস্তবসম্মত রূপ চিত্রিত করতে পারি। এবারে তবে মিডজার্নির তুলিতে এই হারিয়ে যাওয়া যাওয়া সপ্তাশ্চর্যের স্বরূপ দেখার প্রয়াসে মেতে ওঠা যাক। ছবিগুলো মিডজার্নি ওপেন ডোমেইনের ফ্রি টু ইউজ সংগ্রহ থেকে পাওয়া।

বিজ্ঞাপন

১. গিজার গ্রেট পিরামিড

১/৭
একে খুফুর পিরামিডও বলা হয়। কারণ, এখানেই ফারাও (সম্রাট) খুফুকে সমাহিত করা হয়। মিসরের নীল নদের পশ্চিম পাড়ে এখনো আছে এই বিশাল পিরামিড। এটি নির্মাণ খ্রিষ্টের জন্মের ২ হাজার ৬০০ বছর আগে।
একে খুফুর পিরামিডও বলা হয়। কারণ, এখানেই ফারাও (সম্রাট) খুফুকে সমাহিত করা হয়। মিসরের নীল নদের পশ্চিম পাড়ে এখনো আছে এই বিশাল পিরামিড। এটি নির্মাণ খ্রিষ্টের জন্মের ২ হাজার ৬০০ বছর আগে।
বিজ্ঞাপন

২. অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি

২/৭
এথেন্সের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গ্রিসের অলিম্পিয়াতে এই মূর্তির ডিজাইন করেন গ্রিক ভাস্কর ফিডিয়াস। সময়টা খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩২ সাল। গ্রিক দেবাধিরাজ জিউসের মূর্তিটি ছিল প্রায় ৪২ ফুটের মতো লম্বা ও ৬ ফুট ব্যাসার্ধের। সাতজন মিস্ত্রি আড়াই বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে মূর্তিটি তৈরি করেন।
এথেন্সের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গ্রিসের অলিম্পিয়াতে এই মূর্তির ডিজাইন করেন গ্রিক ভাস্কর ফিডিয়াস। সময়টা খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩২ সাল। গ্রিক দেবাধিরাজ জিউসের মূর্তিটি ছিল প্রায় ৪২ ফুটের মতো লম্বা ও ৬ ফুট ব্যাসার্ধের। সাতজন মিস্ত্রি আড়াই বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে মূর্তিটি তৈরি করেন।

৩. রোডসের মূর্তি

৩/৭
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বীর আলেকজান্ডারের রাজ্যের মধ্যে ছিল আটলান্টিক সাগরের মেডিটেরিয়ান অঞ্চলের রোডস দ্বীপ। খ্রিষ্টপূর্ব ২৯২ থেকে ২৮০ অব্দে সেখানে ব্রোঞ্জ দিয়ে গ্রিক সূর্যদেবতা হিলিয়াসের একটি বিশালাকায় মূর্তি নির্মাণ করা হয়।  
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বীর আলেকজান্ডারের রাজ্যের মধ্যে ছিল আটলান্টিক সাগরের মেডিটেরিয়ান অঞ্চলের রোডস দ্বীপ। খ্রিষ্টপূর্ব ২৯২ থেকে ২৮০ অব্দে সেখানে ব্রোঞ্জ দিয়ে গ্রিক সূর্যদেবতা হিলিয়াসের একটি বিশালাকায় মূর্তি নির্মাণ করা হয়।

৪. আর্টেমিসের মন্দির

৪/৭
 আর্টেমিসের মন্দির বা ডায়নার মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫০ অব্দে ইফেসাস অঞ্চলে। পুরোটাই মার্বেল পাথরের তৈরি।  মন্দিরের প্রতিটি দেয়ালজুড়ে বসানো ছিল মণি, মুক্তা, রুবি, পান্না আর হীরক খণ্ডের মতো মহামূল্যবান রত্নরাজি।
আর্টেমিসের মন্দির বা ডায়নার মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫০ অব্দে ইফেসাস অঞ্চলে। পুরোটাই মার্বেল পাথরের তৈরি।  মন্দিরের প্রতিটি দেয়ালজুড়ে বসানো ছিল মণি, মুক্তা, রুবি, পান্না আর হীরক খণ্ডের মতো মহামূল্যবান রত্নরাজি।

৫. আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর

৫/৭
খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় দ্বিতীয় টলেমির রাজত্বকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২৮০ অব্দের দিকে ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী দ্বীপ ফ্যারোসে লাইটহাউস তৈরি করা হয়। সিনিডাসের সস্ট্রাটাস ডিজাইনের পেছনে মাস্টারমাইন্ড ছিলেন।
খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় দ্বিতীয় টলেমির রাজত্বকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২৮০ অব্দের দিকে ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী দ্বীপ ফ্যারোসে লাইটহাউস তৈরি করা হয়। সিনিডাসের সস্ট্রাটাস ডিজাইনের পেছনে মাস্টারমাইন্ড ছিলেন।

৬. হ্যালিকারনেসাসের সমাধি মন্দির

৬/৭
বর্তমান তুরস্কের বোদরামে ছিল প্রাচীন শহর কারিয়া। তারই হ্যালিকারনেসাস নামক স্থানে এক বিশালাকায় সমাধি মন্দির বানানো হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে। মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ মার্বেল পাথরে। সেই সময়ের সেরা ভাস্করদের দিয়ে এটি বানানো হয়েছিল।
বর্তমান তুরস্কের বোদরামে ছিল প্রাচীন শহর কারিয়া। তারই হ্যালিকারনেসাস নামক স্থানে এক বিশালাকায় সমাধি মন্দির বানানো হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে। মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ মার্বেল পাথরে। সেই সময়ের সেরা ভাস্করদের দিয়ে এটি বানানো হয়েছিল।

৭. ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান

৭/৭
 উদ্যানটি ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে নির্মিত হয়। ৪০০০ শ্রমিক রাতদিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল এই বাগান। ৫ থেকে ৬ হাজার প্রকার ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল এই ঝুলন্ত বাগানে। ৮০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বাগানের সুউচ্চ ধাপগুলোতে নদী থেকে পানি উঠানো হতো মোটা প্যাঁচানো নলের সাহায্যে।
উদ্যানটি ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে নির্মিত হয়। ৪০০০ শ্রমিক রাতদিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল এই বাগান। ৫ থেকে ৬ হাজার প্রকার ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল এই ঝুলন্ত বাগানে। ৮০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বাগানের সুউচ্চ ধাপগুলোতে নদী থেকে পানি উঠানো হতো মোটা প্যাঁচানো নলের সাহায্যে।

ছবি: মিডজার্নি ওপেন ডোমেইনের ফ্রি টু ইউজ সংগ্রহ

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ২২: ০০
বিজ্ঞাপন