
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ লিওনেল মেসিকে চেনেন ফুটবলের জাদুকর হিসেবে। বিশ্বকাপ, ব্যালন ডি'অর কিংবা অসংখ্য রেকর্ডে দীর্ঘ তাঁর অর্জনের তালিকা। তবে মাঠের বাইরেও যে তিনি গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল হোটেল চেইন, তা অনেক ভক্তেরই অজানা। স্পেনের ছয়টি পর্যটন গন্তব্যে ছড়িয়ে আছে তাঁর ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এমআইএম হোটেলস।

মেসির হোটেল ব্র্যান্ড এমআইএম হোটেলস-এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। এমআইএম (MiM) নামটি এসেছে মেসি ও ম্যাজিস্টিক–এর সমন্বয়ে। মেসির মালিকানাধীন হোটেলগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব শুরুতে ছিল স্পেনের ম্যাজেস্টিক হোটেল গ্রুপের কাছে। সেই অংশীদারত্বের স্মারক হিসেবেই ব্র্যান্ডটির নাম রাখা হয় এমআইএম হোটেলস। বর্তমানে স্পেনের ছয়টি জনপ্রিয় গন্তব্যে তাঁর বিলাসবহুল বুটিক হোটেল আছে। গন্তব্য হলো ইবিৎজা, মায়োর্কা, সিটজেস, সোতোগ্রান্দে, বাকেইরা-বেরেত ও অ্যান্দোরা।

২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে বিশ্বের অন্যতম আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠান মেলিয়া হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল এমআইএম হোটেলসের পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এরপর হোটেলগুলো যুক্ত হয় দ্য মেলিয়া কালেকশন-এ। তবে এমআইএম নামটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে আর মালিকানা এখনও মেসির কাছেই আছে।

প্রতিটি হোটেলে আছে মেসির ব্যক্তিগত ছোঁয়া। নির্বাচিত ‘মেসি স্যুইট’-এ রাখা হয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের স্মারক সংগ্রহ ও স্বাক্ষরসংবলিত ব্যালন ডি'অরের রেপ্লিকা, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

আধুনিক ও অভিজাত নকশার এই হোটেলগুলোর ইন্টেরিয়র করেছেন খ্যাতনামা ডিজাইনার লুইস বুস্তামান্তে ও লাসারো রোসা-ভিওলান। সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে পাহাড়ি স্কি রিসোর্ট –প্রতিটি হোটেলই গন্তব্যভেদে আলাদা অভিজ্ঞতা পাবেন ভ্রমণপ্রেমীরা।

অবকাশযাপনকে আরও আরামদায়ক করতে হোটেলগুলোতে আছে স্পা, হাইড্রোথেরাপি, ওয়েলনেস ট্রিটমেন্ট ও বিশ্রামের ব্যবস্থা। সোটোগ্রান্দে, বাকেইরা বেরেত ও অ্যান্ডোরার হোটেলগুলোতে গলফ, স্কি ও ট্রেকিংয়ের মতো আউটডোর কার্যক্রমও উপভোগ করা যায়।

সব হোটেল একই ধরনের নয়। মায়োর্কা, সিটজেস ও ইবিৎজা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। অন্যদিকে অ্যান্দোরা, সোতোগ্রান্দে ও বাকেইরা বেরেত সবার জন্য। আর কয়েকটি হোটেলে ছোট পরিসরের করপোরেট সভা ও বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থাও আছে।

শুধু বিলাসিতাই নয়, পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যেও গুরুত্ব দিয়েছে এমআইএম হোটেলস। ছয়টি হোটেলই LEED সনদপ্রাপ্ত।

অনেক তারকার মতো বিচিত্র ব্যবসায় নাম না লিখিয়ে, মেসি তাঁর বিনিয়োগকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন লাইফস্টাইল, স্পোর্টস ও হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে। তাই ফুটবলের বাইরে তাঁর এই হোটেল চেইনও আজ হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডেরই অনবদ্য সম্প্রসারণ।