
ঈদুল আজহায় বাড়ির রান্নাঘরগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঈদের আগে থেকেই রান্নাঘরের সেটিংস এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া উচিত, যাতে ঈদের দিনগুলো ঘরে নির্বিঘ্নে ভালোভাবেই কাটানো যায়। তাই প্রথমেই একটা চেকলিস্ট তৈরি করে ফেলতে হবে, যাতে বোঝা যায় কোনো কাজগুলো এগিয়ে রাখলে ভালো।

বাড়িতে বা রান্নাঘরে যদি পোকামাকড়, যেমন উই বা তেলাপোকার আনাগোনা থাকে, তাহলে কীটনাশক ব্যবহার করে ঘর পরিষ্কার করতে হবে।
কোরবানির আগেই সিঙ্ক, ক্যাবিনেট এবং রেফ্রিজারেটরের সবকিছু একবার চেক করে নেওয়া আবশ্যক।

কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, মাংস কাটার সরঞ্জাম, যেমন ছুরি ও বঁটি ধার করিয়ে নেওয়া জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে, লোহার সরঞ্জাম পরিষ্কার করার পর যেন পানি লেগে না থাকে, না হলে মরিচা পড়ে যেতে পারে। এসব ধারালো জিনিস অবশ্যই বাড়ির ছোট সদস্যদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
পেপার টাওয়েল, গারবেজ ব্যাগ, পলিথিন, স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস, যেকোনো কাউন্টার টপ বা সরঞ্জাম পরিষ্কার করার জন্য সুতি কাপড় বা মাইক্রোফাইবার ক্লথ, স্যালভন, ডিটারজেন্ট এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিসপত্র মজুত রাখা ভালো। ঝামেলা এড়াতে অনেক লোকের জন্য আয়োজিত পার্টিতে ডিসপোজিবল প্লেট, গ্লাসও কিনে রাখা যায়।

বাড়তি জিনিসপত্র ও ঝামেলা থেকে বাঁচতে ন্যূনতা বা মিনিমালিজমের তুলনা নেই। তাই উৎসবের আগেই অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলে দিলে বা কাউকে দিয়ে দিলে সুবিধা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে অনলাইন কেনাবেচার পেজের সাহায্যে বিক্রিও করা যেতে পারে।

যেহেতু কোরবানির ঈদ তাই রক্ত, তেল-চর্বি রান্নাঘরে সিঙ্ক, কুকিং স্পেস, কাউন্টার, তৈজসপত্র ও ফ্রিজের ভেতরে-বাইরে লেগে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে এসব দাগ ফেলে রেখে দেওয়া যাবে না। সঙ্গে সঙ্গেই পরিষ্কার করে ফেলতে হবে ডিশ ওয়াসার লিকুইড, লেবুর খোসা ভেজানো সাবানপানি বা লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে।
ধাতব পাত্রগুলোতে তেল চিটচিটে ভাব দূর করার জন্য হলুদের গুঁড়া আর পানির মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়। চীনামাটি, কাচ বা মেলামাইনের তৈজসপত্রের তেলতেলে ভাব সরাতে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস বা সিট্রাস ফলের নির্যাসমিশ্রিত ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উত্তম। এতে মাংসের গন্ধও দূর হয়।
মার্বেল বা কাঠের তৈরি কিচেনের কাউন্টার টপে হলুদ বা লেবুজাতীয় কিছু পড়লে রং নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই এমন কিছু পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সুতি কাপড় আর কম ক্ষারযুক্ত তরল সাবান ব্যবহার করে পরিষ্কার করা উচিত।

এবার ডিপক্লিনিংয়ের পালা। সিঙ্ক, চুলা, বড় হাঁড়ি-পাতিলে ঈদের সময় ডিপক্লিনিংয়ের প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে বেকিং সোডা, সাদা ভিনেগার, বোরক্স, গরম পানি ব্যবহার করলে ভালো পরিষ্কার হয়। মাংসের চর্বি আটকে সিঙ্কের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে এই ঈদে। তাই প্রতিবার সিঙ্কের কাজ শেষে দেড়-দুই মগ গরম পানি ঢেলে দেওয়া উচিত।
ক্লিনিংয়ের পর সুবাসিত ঘর কার না পছন্দ হয়, সতেজ সুবাসের জন্য ঘরে তৈরি ক্লিনিং লিকুইডের সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েল যুক্ত করা যায় বা সেন্টেড ক্যান্ডেল ও এয়ার ফ্রেশনারও এ ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর।
ছবি: পেকজেলসডটকম