২০ বছর বয়সীদের ইলন মাস্কের বিশেষ পরামর্শ, এআই যুগে কেন একটি মাত্র দক্ষতায় আটকে থাকা যাবে না
শেয়ার করুন
ফলো করুন

২০ বছর বয়সে ক্যারিয়ার নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে, কী হতে চাই? কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বদলে দেওয়া কর্মজগতে প্রশ্নটা হয়তো একটু বদলানো দরকার। ইলন মাস্কের পরামর্শ, একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা বা চাকরির পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে আটকে না রেখে শেখার পরিধি বাড়াতে হবে। জানতে হবে নানা বিষয়ে, তৈরি করতে হবে বদলে যাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।

শুধু একটি বিষয় জানলেই কি চলবে?

দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের বলা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বেছে নাও, সেটিতে দক্ষ হয়ে ওঠো এবং সেই দক্ষতাকেই নিজের ক্যারিয়ারের ভিত্তি বানাও। কিন্তু এআইএর অগ্রগতিতে এই ধারণা এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

আজ এআই কোডিং, ডিজাইন, গবেষণা, ফাইন্যান্স কিংবা কনটেন্ট তৈরির মতো একাধিক ক্ষেত্রেই দ্রুত দক্ষ হয়ে উঠছে। ফলে শুধু নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে পারার ওপর যদি কারও পেশাগত পরিচয় পুরোপুরি নির্ভর করে, ভবিষ্যতে সেই কাজের কিছু অংশ প্রযুক্তি সহজেই করে ফেলতে পারে।

তবে এর মানে এই নয় যে বিশেষায়িত দক্ষতার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাচ্ছে। বরং একটি বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকা যেমন জরুরি, তেমনই সেই জ্ঞানের সঙ্গে অন্য ক্ষেত্রের ধারণা যুক্ত করতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নিজের ক্ষেত্রের বাইরে শেখার অভ্যাস করুন

মাস্কের এই ভাবনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে, শেখার গণ্ডি ছোট না রাখা। আপনি প্রযুক্তিতে কাজ করলেও মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারেন। মার্কেটিং করলে ডেটা ও এআই–এর সঙ্গে পরিচিত হওয়া দরকার। ডিজাইনের সঙ্গে ব্যবসার ধারণা যুক্ত হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনও বদলে যেতে পারে।

অর্থাৎ, সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা তৈরি করতে হবে, যাতে এক ক্ষেত্রের ভাবনা অন্য ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। বিজ্ঞান, ইতিহাস, প্রযুক্তি, ব্যবসা, মানুষের আচরণ কিংবা ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপণার মত বিষয় এতদিন পেশার বাইরে থাকলেও ভবিষ্যতে এগুলোও মানুষের দক্ষতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

একটি দক্ষতা নয়, তৈরি করুন ‘টি–শেপড’ স্কিল

বিভিন্ন বিষয়ে শেখার কথা শুনে অনেকের মনে হতে পারে, তাহলে কি সবকিছুই একসঙ্গে শিখতে হবে?

বিষয়টি আসলে তা নয়। ‘জেনারেলিস্ট’ হওয়া মানে সবকিছু অল্প অল্প করে জেনে থেমে যাওয়া নয়। বরং বিভিন্ন বিষয়ে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করার পাশাপাশি একটি বা দুটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করা যেতে পারে।

এই ধারণাটিকেই ‘টি–শেপড স্কিল সেট’ দিয়ে বোঝানো যায়। এর অর্থ হলো, একদিকে থাকবে নানা বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান, অন্যদিকে থাকবে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গভীর দক্ষতা। ধরুন, কেউ একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার। এর সঙ্গে যদি তিনি ব্র্যান্ডিং, ব্যবসা, সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই টুল সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তাহলে তাঁর দক্ষতার পরিধি স্বাভাবিকভাবেই আরও বাড়বে।

এআই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে `সংযোগ তৈরি'র ক্ষমতা

আগামী দিনে সুযোগ তৈরি হতে পারে এমন সব জায়গায়, যেখানে একাধিক ক্ষেত্র একসঙ্গে কাজ করছে। এঅই এখন শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়<bha>;</bha> স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন, ম্যানুফ্যাকচারিং, ফাইন্যান্স, রিটেইল ও মিডিয়াতেও এর প্রভাব পড়ছে।

তাই শুধু এঅই জানলেই সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করতে পারে, সেই সমস্যাটি আসলে কী এবং মানুষের প্রয়োজন কোথায়। এসব বোঝার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, প্রযুক্তি জানা আর সমস্যাকে বোঝা। দুটির মধ্যে সেতু তৈরি করতে পারাটাই ভবিষ্যতে বড় দক্ষতা হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

২০ বছর বয়সে ক্যারিয়ার ঠিক করা মানেই সারাজীবনের সিদ্ধান্ত নয়

২০ বছর বয়সে জীবনের পরবর্তী ৩০ বছর কেমন হবে, তা নির্ভুলভাবে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। আজকের নিরাপদ বলে মনে হওয়া চাকরি বা পেশার ধরনও কয়েক বছর পর বদলে যেতে পারে। আবার এমন অনেক নতুন কাজ তৈরি হতে পারে, যার অস্তিত্বই এখন নেই।

তাই ‘আমি কী হব?’ প্রশ্নটির পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও জরুরি ‘আমি কী শিখতে থাকব?’

ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপটিই যে চূড়ান্ত পরিচয় হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং সময়ের সঙ্গে নিজের দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে নতুন দিকে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি থাকাই হতে পারে বড় শক্তি।

কৌতূহলকে পুরনো হতে দেবেন না

শেষ পর্যন্ত এই পরামর্শের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ বিষয়, কৌতূহল। একটি চাকরির পদবি যেন আপনার শেখার সীমা ঠিক করে না দেয়। নিজের পেশায় দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নতুন কিছু শেখা, প্রশ্ন করা, পরীক্ষা করা এবং ভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী থাকা জরুরি। বিশেষায়িত জ্ঞান আপনাকে মূল্যবান করে তুলতে পারে, কিন্তু কৌতূহল আপনাকে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করতে পারে।

এআই যতই দ্রুত বদলাক, সবকিছু আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। বরং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত থাকার চেয়ে ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কিছু শেখার মানসিকতাই হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০ বছর বয়সে তাই হয়তো নিখুঁত ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার চেয়ে নিজের শেখার ক্ষমতাকে শক্তিশালী করাই বেশি জরুরি। একটি বিষয়ের গভীরে যান, পাশাপাশি চোখ খোলা রাখুন অন্য জগতের দিকেও। কারণ ভবিষ্যতে সফলতার পথ হয়তো একটিমাত্র রাস্তা দিয়ে যাবে না।

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩৯
বিজ্ঞাপন