
চায়ের আয়োজনে কাপ-পিরিচ আর কেটলি তো লাগবেই। কিন্তু তাতে যদি নজরকাড়া রিকশা পেইন্ট আর ব্যানার আর্ট করা থাকে, তবে তা এক দারুণ ব্যাপার হয়। অনলাইন উদ্যোগ ‘নৈসর্গিক’-এর এই কেটলিগুলোতে নিজের নাম ও পছন্দমতো মজার সব কথা লিখিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় পুরো ব্যাপারটি পেয়েছে অন্য মাত্রা।

এ নিয়ে কথা হচ্ছিল নৈসর্গিকের কর্ণধার কাজী শবনমের সঙ্গে। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করলেও মূলত ২০১৮ সালে তিনি রিকশা পেইন্টিংয়ের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। চা-প্রেমী কাজী শবনমের কাছে চা আয়োজন করে পান করার ব্যাপার। পরিবারের সবাই মিলে বা অতিথিদের আপ্যায়নে চায়ের তৈজসটি যেন বিশেষভাবে নজর কাড়ে, এমন ইচ্ছা ছিল তাঁর সব সময়। আর তাই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিকশা পেইন্ট ও ব্যানার আর্ট ব্যবহার করার কথা ভাবেন তিনি।


ফলাফল চমকপ্রদ বলে প্রমাণিত হয়। আবার নৈসর্গিক থেকে নিজের নাম ও পছন্দমতো শব্দাবলি লিখিয়ে নেওয়া যায় চায়ের তৈজসপত্রে। বিষয়টি বেশ সাড়া জাগিয়েছে। ফলে সম্প্রতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যাচ্ছে নৈসর্গিকের পণ্য।
কাজী শবনমের মতে, ইন্টারনেট দেখে নিজের মতো করে উজ্জ্বল সব রং সহযোগে তুলি চালালেই তা রিকশা পেইন্ট হবে না। নৈসর্গিকের সব পণ্য যুগ যুগ ধরে বংশানুক্রমে রিকশা পেইন্ট ও ব্যানার আর্টের কাজ করেন, এমন শিল্পীদের দিয়ে আঁকানো হয়।

তাঁদের যোগ্য পারিশ্রমিকের ব্যাপারেও সচেতন থাকেন শবনম, বললেন তিনি। সারা বিশ্বেই এমন কিছু আর্ট ঘরানার কাজ এখন নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে, বাড়ছে এগুলোর প্রতি আগ্রহ। আমাদের দেশের রিকশা পেইন্টের কাজ নৈসর্গিকের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক চায়ের আয়োজনে।
ছবি: নৈসর্গিক
হিরো ইমেজ: মুন্নি লাল