
ছোট মনিটরে একসঙ্গে কাজ করতে গেলে বারবার একটি উইন্ডো থেকে অন্যটিতে যেতে হয়। আবার সবকিছু একই সঙ্গে দেখতে চাইলে উইন্ডোগুলো ছোট করে ফেলতে হয়, যা দীর্ঘ সময় কাজের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। বারবার ট্যাব বদলানোর এই অভ্যাস শুধু কাজের গতি কমায় না, মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন করে তোলে।
এই জায়গাতেই আল্ট্রা ওয়াইড মনিটর বদলে দিতে পারে পুরো কর্মঅভিজ্ঞতা। প্রশস্ত পর্দায় একই সঙ্গে একাধিক উইন্ডো পাশাপাশি রাখা যায়। ফলে স্প্রেডশিটের তথ্য দেখতে দেখতে ই-মেইলের উত্তর দেওয়া কিংবা মিটিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি খোলা, সবই সম্ভব হয় একই স্ক্রিনে।
অর্থাৎ, কাজের জন্য জায়গা বাড়ানোর পাশাপাশি কমে যায় বারবার উইন্ডো পরিবর্তনের ঝামেলাও। দিনের ব্যস্ত সময়ে এই ছোট্ট সুবিধাই কাজের স্বাচ্ছন্দ্যে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
তবে শুধু বড় পর্দা হলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয় না। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাজ করার ক্ষেত্রে রেজ্যুলেশন, ছবির স্বচ্ছতা, রঙের নির্ভুলতা এবং কনট্রাস্টের মতো বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চোখের আরাম নিশ্চিত করতে কম নীল আলো এবং ফ্লিকার-ফ্রি প্রযুক্তির মতো সুবিধাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই ধরনের প্রয়োজন মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে আধুনিক আল্ট্রা ওয়াইড মনিটর। এর মধ্যে স্যামসাংয়ের ওডিসি নিও জি৯ বিশেষভাবে নজরকাড়া। ৫৭ ইঞ্চির এই মনিটরটি বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে বড় মনিটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বড় ও বাঁকানো পর্দার কারণে এতে তৈরি হয় একটি বিস্তৃত কর্মপরিসর। একাধিক উইন্ডো পাশাপাশি রেখে কাজ করার সুযোগ থাকায় যাঁদের প্রতিদিন একসঙ্গে অনেক তথ্য, সফটওয়্যার কিংবা ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে কার্যকর একটি সমাধান।
ভাবুন, এক পাশে স্প্রেডশিট, মাঝখানে ভিডিও মিটিং আর অন্য পাশে ই-মেইল, সবকিছুই একই পর্দায়। আলাদা আলাদা উইন্ডোতে ছুটে বেড়ানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায়।
যাঁদের কাজের বড় অংশই ছবি, গ্রাফিক্স কিংবা ভিডিও নিয়ে, তাঁদের চাহিদা আবার কিছুটা ভিন্ন। গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও সম্পাদনার মতো কাজে শুধু বড় স্ক্রিন নয়, প্রয়োজন উজ্জ্বল রঙ, গভীর কনট্রাস্ট এবং তীক্ষ্ণ ছবি।
এই জায়গায় রয়েছে ৪৯ ইঞ্চির ওডিসি ওএলইডি জি৯। আল্ট্রা ওয়াইড স্ক্রিনের সঙ্গে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ওএলইডি প্রযুক্তি, যা উজ্জ্বল রঙ ও তীক্ষ্ণ কনট্রাস্টের জন্য পরিচিত। ফলে বড় পর্দার সুবিধার সঙ্গে পাওয়া যায় আরও immersive visual experience।
কাজের বাইরেও আধুনিক মনিটরের ব্যবহার এখন অনেক বিস্তৃত। যাঁরা অবসরে গেম খেলতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে আলাদা প্রযুক্তি।
স্যামসাংয়ের ওডিসি জি৬-কে বিশ্বের প্রথম ৫০০ হার্টজ ওএলইডি মনিটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুতগতির গেমিংয়ে বেশি রিফ্রেশ রেটের মাধ্যমে মসৃণ দৃশ্য এবং কম ল্যাগের অভিজ্ঞতা দেওয়াই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
অর্থাৎ, একই ব্র্যান্ডের মনিটর হলেও ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অভিজ্ঞতাটা একেবারেই আলাদা, কেউ পাবেন বড় কর্মপরিসর, কেউ ভিজ্যুয়াল কাজের জন্য উন্নত ডিসপ্লে, আবার কেউ পাবেন দ্রুতগতির গেমিংয়ের সুবিধা।
দিনের বড় একটি সময় কম্পিউটারের সামনে কাটানো মানুষের জন্য মনিটর এখন কেবল একটি ডিসপ্লে নয়; এটি কাজের অভিজ্ঞতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্ক্রিনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে তথ্য সাজানো সহজ হয়, একাধিক কাজের মধ্যে যাতায়াত কমে এবং নিজের কাজের পরিবেশটাও আরও গোছানো মনে হয়।
বিশেষ করে ব্যস্ত কর্মজীবনে যেখানে একই সময়ে অনেক দায়িত্ব সামলাতে হয়, সেখানে একটি প্রশস্ত ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত মনিটর সময় বাঁচানোর পাশাপাশি কাজকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ মানেই শুধু নতুন কোনো ডিভাইস কেনা নয়। যে ডিভাইসটি প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবহার করছেন, সেটি যদি আপনার কাজকে একটু সহজ করে, স্ক্রিনের জায়গা বাড়ায় এবং চোখ ও মনকে কিছুটা স্বস্তি দেয়, তাহলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড।