
ডিজিটাল দুনিয়া সাধারণত তরুণদের জন্য, এমন ধারণা এখনও অনেকের মনে। কিন্তু সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়ে এক নতুন গল্প লিখেছেন ইংল্যান্ডের নরফোকের বাসিন্দা ইয়ান স্মিথ।
একসময় তিনি ছিলেন একজন ডেন্টিস্ট। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করার পর অবসর নেন ২০২২ সালে। অবসর জীবনে তিনি লেখালেখি শুরু করেন, একটি উপন্যাস লেখেন এবং সেটি প্রকাশের চেষ্টা করেন। কিন্তু শতাধিক প্রকাশকের কাছে পাঠিয়েও তেমন সারা পাননি। এই জায়গায় অনেকেই থেমে যেতেন। কিন্তু ইয়ান থামেননি।
ইয়ানের স্ত্রী একদিন মজা করে বলেছিলেন। তিনি হয়তো ১০০ জন ফলোয়ারও পাবেন না। আর সেটাই যেন হয়ে ওঠে তার প্রেরণা।
প্রথমে তিনি ভাবলেন, “১০০ পারলে ১,০০০, তারপর ১ লাখ”—কিন্তু বাস্তবতা সেই কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়।
আজ তার ফলোয়ার সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি।
গত দেড় বছর ধরে ইয়ান প্রতিদিন দুইটি করে ভিডিও পোস্ট করছেন। তার ভিডিওর মূল বিষয় পজিটিভিটি, জীবনবোধ, এবং অনুপ্রেরণামূলক বার্তা।
প্রতি সপ্তাহে তিনি লাইভেও আসেন, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ যুক্ত হয়। তার কথাগুলো যেন বয়স, ভাষা বা দেশের সীমা পেরিয়ে সবার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিওটির ভিউ প্রায় ৫৯ মিলিয়ন। আরও অবাক করার বিষয় হলো—তার দর্শকদের বড় একটি অংশ ২০-এর কোঠার তরুণ-তরুণী।
একজন ৮১ বছর বয়সী মানুষ, ছোট একটি ফোন ক্যামেরার সামনে বসে কথা বলছেন—আর সেই কথাগুলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্বে।
ইয়ান নিজেই বলেছেন, তার সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো—তিনি প্রায় কোনো নেতিবাচক মন্তব্য পাননি। বরং মানুষ তার ভিডিও থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে, নিজের জীবনে প্রয়োগ করছে।
এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়। নতুন কিছু শুরু করার জন্য কখনোই দেরি হয় না। বয়স কোনো সীমা নয়, বরং অভিজ্ঞতা একটি শক্তি।
ইয়ান স্মিথ শুধু একজন টিকটকার নন, তিনি অনুপ্রেরনার ডিজিটাল ভার্সন, তার মতে — ‘যে স্বপ্ন দেখতে জানে, তার জন্য নতুন পথ সবসময় খোলা।’
ডিজিটাল যুগে যেখানে ট্রেন্ড দ্রুত বদলায়, সেখানে এই ৮১ বছর বয়সী মানুষের সরল, আন্তরিক কথা প্রমাণ করে, এখনো সবচেয়ে বড় কনটেন্ট মানবিকতার গল্প, মানুষের গল্প।
তথ্য সূত্র ও ছবি: বিবিসি