
দীর্ঘ চুলের পরিচর্যার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যচর্চা এবং রাসায়নিকমুক্ত হেয়ার কেয়ারের নানা পদ্ধতি নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন রেণু। তবে এত লম্বা চুলের মালিক হওয়ার গল্পটি শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে; ২০১৫ সালে।

চুলের দৈর্ঘ্য যদি হয় প্রায় ৯ ফুট, তাহলে তা সামলানো কতটা কঠিন হতে পারে, ভাবুন তো! চুল আঁচড়ানো, ধোয়া, শুকানো কিংবা জট ছাড়ানো—প্রতিটি কাজই তখন হয়ে উঠতে পারে ঘণ্টার পর ঘণ্টার আয়োজন। ভারতের উত্তরাখণ্ডের হলদ্বানির বাসিন্দা রেণু ধরিয়ালের কাছে অবশ্য এসবই এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য ২৭১ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি। এই দীর্ঘ চুলই তাঁকে এনে দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি।
রেণু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার। দীর্ঘ চুলের পরিচর্যার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যচর্চা ও রাসায়নিকমুক্ত হেয়ার কেয়ারের নানা পদ্ধতি নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি। তবে তাঁর এত লম্বা চুলের গল্প শুরু হয়েছিল আরও আগে—২০১৫ সালে।

এক দশক ধরে চুলে কাঁচি ছোঁয়াননি
রেণুর চুলের এই দৈর্ঘ্য রাতারাতি তৈরি হয়নি। প্রায় এক দশক ধরে চুল বড় করেছেন তিনি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০১৫ সাল থেকে একবারও চুল কাটেননি রেণু।
দীর্ঘ সময় চুল না কাটার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যাও করতে হয়েছে তাঁকে। কারণ চুল যত লম্বা হয়, তা সুস্থ রাখা ও দৈনন্দিন জীবনে সামলানোও তত কঠিন হয়ে পড়ে। রেণুর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটি আরও বড়—তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট।
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মাপার পর রেণুর চুলের দৈর্ঘ্য পাওয়া যায় ২৭১ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। সেই মাপই এনে দেয় তাঁকে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি।
আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেলেন
জীবিত নারীদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা চুলের অধিকারী হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন রেণু। তাঁর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ইউক্রেনের আলিয়া নাসিরোভার দখলে। তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য ছিল ২৫৭ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার বা ৮ ফুট ৫ দশমিক ৩ ইঞ্চি।
রেণুর চুল সেই দৈর্ঘ্য ছাড়িয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিক মাপ ও যাচাইয়ের পর ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি দীর্ঘ চুলের স্বীকৃতি পান তিনি।

এত লম্বা চুলের যত্ন কীভাবে নেন?
প্রায় ৯ ফুট লম্বা চুল রাখা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ সময়ের পরিচর্যা। চুল ধোয়া, শুকানো থেকে শুরু করে জট ছাড়ানো—সবকিছুতেই রেণুকে বাড়তি সময় দিতে হয়।
সাধারণভাবে কয়েক মিনিটে শেষ করা যায় এমন কাজও তাঁর ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা সময় নিতে পারে। চুলে জট না লাগা এবং ভেঙে যাওয়া ঠেকাতে প্রতিটি ধাপই করতে হয় ধীরে ও সতর্কতার সঙ্গে।
এত লম্বা চুলের পরিচর্যায় ধৈর্যই যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামান্য অসাবধানতাতেও চুলে জট লাগতে পারে বা চুল ভেঙে যেতে পারে। তাই প্রতিদিনের পরিচর্যায় বাড়তি মনোযোগ দেন রেণু।
দামি সেলুন নয়, নিজের তৈরি পণ্য
চুলের যত্নে রেণু প্রাকৃতিক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেন। বাণিজ্যিক হেয়ার ট্রিটমেন্ট, দামি সেলুনের সেবা কিংবা কঠিন রাসায়নিকযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলেন তিনি।
বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরেই তৈরি করেন রাসায়নিকমুক্ত জৈব শ্যাম্পু ও হেয়ার অয়েল। চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
রেণুর সৌন্দর্যচর্চার দর্শনেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। দীর্ঘ চুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ধরে রাখাকেও গুরুত্ব দেন তিনি।

খোলা চুলে চলাফেরা নয়
রেণুর চুল এতটাই লম্বা যে প্রতিদিনের কাজে তা খোলা রেখে চলাফেরা করা কঠিন। মাটিতে লেগে যাওয়া কিংবা বিভিন্ন জায়গায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই দৈনন্দিন জীবনে চুল বড় একটি বেণি করে রাখেন তিনি। এতে চুল মাটিতে ঘষা খাওয়া থেকে রক্ষা পায়, পাশাপাশি এত লম্বা চুল সামলানোও সহজ হয়।
তবে বেণি করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। জট যাতে না লাগে এবং চুলের গোড়া ও আগা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হয় তাঁকে।
ইউটিউবে শেয়ার করেন পরিচর্যার অভিজ্ঞতা
রেণুর চুলের পরিচর্যা এখন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অংশ নয়। ইউটিউবার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা ও সৌন্দর্যচর্চার নানা পদ্ধতি নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি।
বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে চুলের যত্ন নিতে আগ্রহী নারীদের জন্য তাঁর কনটেন্টে থাকে বিভিন্ন পরামর্শ। রাসায়নিকমুক্ত উপায়ে তৈরি হেয়ার কেয়ার পণ্যের রেসিপিও শেয়ার করেন তিনি।
দীর্ঘ চুলের পরিচর্যার অভিজ্ঞতাই তাঁর কনটেন্টের অন্যতম বিষয়। কীভাবে নিয়মিত চুলের যত্ন নিতে হয়, কীভাবে জট ও চুল ভেঙে যাওয়া এড়ানো যায়—এসব নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন রেণু।

শুধু রেকর্ড নয়, এক দশকের ধৈর্য
রেণু ধরিয়ালের ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা চুল প্রথম দেখায় বিস্ময় জাগাতেই পারে। কিন্তু এই রেকর্ডের পেছনে রয়েছে প্রায় এক দশকের ধৈর্য, নিয়মিত পরিচর্যা ও চুল না কাটার সিদ্ধান্ত। ২০১৫ সালে কাঁচি থেকে দূরে থাকার যে যাত্রা শুরু করেছিলেন রেণু, তা শেষ পর্যন্ত তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি। এই চুল এখন শুধু তাঁর সৌন্দর্যের অংশ নয়; এক দশকের পরিচর্যা, ধৈর্য ও ব্যক্তিগত আগ্রহেরও প্রতীক। আর সেই অভিজ্ঞতাই ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন রেণু।
সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, মাতৃভূমি ইংলিশ, হিন্দুস্টান টাইমস
ছবি: ইন্সটাগ্রাম