তেলে টইটম্বুর শীর্ষ ১০ দেশ কোনগুলো? তেলের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কী
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতির পেছনে যে শক্তিটি নীরবে কিন্তু গভীরভাবে কাজ করে, তা হলো তেল। আধুনিক সভ্যতার প্রায় প্রতিটি চাকা ঘোরে এই কালো সোনার ওপর ভর করে। কোন দেশ কতটা শক্তিশালী, বৈশ্বিক প্রভাব কতখানি—তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হয় তাদের তেলসম্পদের ওপর। প্রমাণিত তেল মজুতের হিসাবে বিশ্বে শীর্ষে থাকা দেশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

১. ভেনেজুয়েলা: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল

১/১১
 বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলাতেই। দেশটির তেল মূলত অরিনোকো বেল্ট অঞ্চলে অবস্থিত, যা ভারী ও অতিভারী তেলের জন্য পরিচিত। বিপুল তেলসম্পদ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি উৎপাদনে পুরোপুরি সুবিধা নিতে পারছে না। সাম্প্রতিক মাদুরো ঘটনাই তার প্রমাণ।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলাতেই। দেশটির তেল মূলত অরিনোকো বেল্ট অঞ্চলে অবস্থিত, যা ভারী ও অতিভারী তেলের জন্য পরিচিত। বিপুল তেলসম্পদ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি উৎপাদনে পুরোপুরি সুবিধা নিতে পারছে না। সাম্প্রতিক মাদুরো ঘটনাই তার প্রমাণ।
বিজ্ঞাপন

২. সৌদি আরব: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল

২/১১
মধ্যপ্রাচ্যের তেলরাজ্য হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব বহু দশক ধরে বৈশ্বিক তেলবাজারে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সহজে উত্তোলনযোগ্য তেল ও শক্তিশালী উৎপাদন অবকাঠামো দেশটিকে বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলরাজ্য হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব বহু দশক ধরে বৈশ্বিক তেলবাজারে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সহজে উত্তোলনযোগ্য তেল ও শক্তিশালী উৎপাদন অবকাঠামো দেশটিকে বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
বিজ্ঞাপন

৩. কানাডা:  প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ১৭১ বিলিয়ন ব্যারেল

৩/১১
কানাডার তেলসম্পদের বড় অংশই আসে অয়েল স্যান্ডস থেকে, বিশেষ করে আলবার্টা প্রদেশে। প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশটি উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী।
কানাডার তেলসম্পদের বড় অংশই আসে অয়েল স্যান্ডস থেকে, বিশেষ করে আলবার্টা প্রদেশে। প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশটি উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী।

৪. ইরান: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ১৫৮ বিলিয়ন ব্যারেল

৪/১১
বিশ্বের প্রাচীন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি ইরান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির তেল ও গ্যাস সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বের প্রাচীন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি ইরান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির তেল ও গ্যাস সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখছে।

৫. ইরাক: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল

৫/১১
যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তুলনামূলক কম খরচে তেল উত্তোলনের সুযোগ দেশটিকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।
যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তুলনামূলক কম খরচে তেল উত্তোলনের সুযোগ দেশটিকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

৬. কুয়েত: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ১০১ বিলিয়ন ব্যারেল

৬/১১
আয়তনে ছোট হলেও কুয়েত তেলসম্পদে বিশাল। দেশটির অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে তেলের ওপর নির্ভরশীল এবং এটি ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য।
আয়তনে ছোট হলেও কুয়েত তেলসম্পদে বিশাল। দেশটির অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে তেলের ওপর নির্ভরশীল এবং এটি ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য।

৭. সংযুক্ত আরব আমিরাত: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ব্যারেল

৭/১১
 আবুধাবিকেন্দ্রিক তেলক্ষেত্রগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশ্বের শীর্ষ তেলসমৃদ্ধ দেশের তালিকায় রেখেছে। তেলের পাশাপাশি দেশটি এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
আবুধাবিকেন্দ্রিক তেলক্ষেত্রগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশ্বের শীর্ষ তেলসমৃদ্ধ দেশের তালিকায় রেখেছে। তেলের পাশাপাশি দেশটি এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

৮. রাশিয়া: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৮০ বিলিয়ন ব্যারেল

৮/১১
 বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি শক্তি রাশিয়া শুধু তেল নয়, গ্যাস সম্পদেও শীর্ষে। ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি শক্তি রাশিয়া শুধু তেল নয়, গ্যাস সম্পদেও শীর্ষে। ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৯. লিবিয়া: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ব্যারেল

৯/১১
 আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে লিবিয়ায়। তবে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উৎপাদন নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে।
আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে লিবিয়ায়। তবে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উৎপাদন নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে।

১০. নাইজেরিয়া: প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ব্যারেল

১০/১১
 আফ্রিকার বৃহত্তম তেল উৎপাদক নাইজেরিয়া। নাইজার ডেল্টা অঞ্চলে অবস্থিত তেলক্ষেত্রগুলো দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
আফ্রিকার বৃহত্তম তেল উৎপাদক নাইজেরিয়া। নাইজার ডেল্টা অঞ্চলে অবস্থিত তেলক্ষেত্রগুলো দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশ: প্রমাণিত তেলের মজুদ প্রায় ২৮–৩০ মিলিয়ন ব্যারেল

১১/১১
বাংলাদেশে এখনও বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু হয় নি আর তেমন রিজার্ভও নেই। গ্যাসের সঙ্গে কিছু তেল পাওয়া যায় সিলেটের কৈলাশটিলার মতো গ্যাসফিল্ড থেকে
বাংলাদেশে এখনও বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু হয় নি আর তেমন রিজার্ভও নেই। গ্যাসের সঙ্গে কিছু তেল পাওয়া যায় সিলেটের কৈলাশটিলার মতো গ্যাসফিল্ড থেকে

সূত্র: ওয়ার্ল্ডোমিটার, ইনভেস্টোপিডিয়া

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩৮
বিজ্ঞাপন