মাত্র ৩ বছর বয়সে হয়েছিলেন বিশ্বের কনিষ্ঠতম রাজা, ৩৪ বছরেই কীভাবে মারা গেলেন উগান্ডার ওয়ো
শেয়ার করুন
ফলো করুন

মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন উগান্ডার তোড়ো রাজ্যের রাজা ওয়ো নাইমবা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ। সেই রাজা ওয়ো ২৭ আগস্ট মারা গেছেন ৩৪ বছর বয়সে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন ওয়ো
বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন ওয়ো

তোড়ো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোমিইরে আকিইকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। তবে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত তোড়ো একটি ছোট ঐতিহ্যবাহী রাজ্য। এর অবস্থান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সীমান্তের কাছে। উগান্ডা বর্তমানে একটি প্রজাতন্ত্র এবং নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়।

রাজপরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত প্রতীকী তবে সমাজে প্রভাব আছে এর
রাজপরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত প্রতীকী তবে সমাজে প্রভাব আছে এর

তবে ঔপনিবেশিক আমলের আগের সময় থেকে চলে আসা কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র এখনো দেশটিতে টিকে আছে। এসব রাজপরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত প্রতীকী হলেও দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে তাঁদের প্রভাব বেশ শক্তিশালী।

বিজ্ঞাপন

তিন বছর বয়সেই রাজা

১৯৯৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মাত্র তিন বছর বয়সে তোড়োর সিংহাসনে বসেন ওয়ো। তাঁর বাবা রাজা রুকিরাবাসাইজা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো অলিমি তৃতীয়ের মৃত্যুর পর তিনি রাজা হন।

মাত্র তিন বছর বয়সে তোড়োর সিংহাসনে বসেন ওয়ো
মাত্র তিন বছর বয়সে তোড়োর সিংহাসনে বসেন ওয়ো

শিশু বয়সেই রাজা হয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে আসেন ওয়ো। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজকীয় দায়িত্বও ধীরে ধীরে তাঁর হাতে আসে। ২০১০ সালে ১৮তম জন্মদিনে তিনি তোড়োর রাজার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় উগান্ডার ফোর্ট পোর্টালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজকীয় দায়িত্ব পালনে দেখা যায়।

চিকিৎসা নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে

রাজা ওয়োর মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির সরকারের একজন মন্ত্রী বালাম বারুগাহারা জানিয়েছিলেন, রাজা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে তিনি কী রোগে ভুগছিলেন বা তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট অসুস্থতার সম্পর্ক ছিল কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

খুব কম বয়সেই মারা গেলেন রাজা ওয়ো
খুব কম বয়সেই মারা গেলেন রাজা ওয়ো

তোড়ো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোমিইরে আকিইকি রাজা ওয়োর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘অপরিমেয় ক্ষতি’।

অবিবাহিত ছিলেন, উত্তরাধিকার নিয়ে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মৃত্যুর সময় রাজা ওয়ো অবিবাহিত ছিলেন। তবে তোড়ো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি একজন উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন এবং ‘রাজমুকুটের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত’।

অবিবাহিত হলেও তিনি একজন উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন
অবিবাহিত হলেও তিনি একজন উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উগান্ডাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে রাজাকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেন। দেশটির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বিরোধী রাজনীতিক ববি ওয়াইন এক্সে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে মর্মান্তিক খবর! মহামান্য রাজার আত্মা চিরশান্তিতে থাকুক।’

তাঁর তারুণ্যই ছিল শক্তি’

রাজা ওয়োর মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও তোড়ো রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর তারুণ্য ও নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়েছিল। এ বছরের এপ্রিলে রাজার জন্মদিন উপলক্ষে এক বার্তায় তোড়ো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজা তাঁর জনগণের বাস্তবতা থেকে দূরে নন; বরং তিনি এই প্রজন্মেরই অংশ। তিনি শিখছেন, বেড়ে উঠছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ছিল

তাঁর তারুণ্য কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং শক্তি ছিল
তাঁর তারুণ্য কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং শক্তি ছিল

ওই বার্তায় আরও বলা হয়েছিল, তাঁর তারুণ্য কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং শক্তি। তাঁর মধ্যে ছিল নতুন উদ্যম, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং তোড়োর জন্য ভিন্ন ভবিষ্যৎ কল্পনা করার সাহস।

মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসা সেই শিশুরাজা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তোড়োর ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ছিলেন। ৩৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু তাই শুধু একটি রাজপরিবারের জন্য নয়, উগান্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও বড় শোকের ঘটনা হয়ে এসেছে।

সূত্র: সি এন এন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ০৪
বিজ্ঞাপন