
প্রিয় রং তার সাদা। সাদা শাড়িতেই বেশি দেখা মেলে নিশির। অনেকটা অস্পষ্ট দীর্ঘাঙ্গী অবয়বের কথা বলে সবাই, যারাই নিশির কবলে পড়েছে। আজানুলম্বিত কেশরাজির কারণে হঠাৎ করে মুখটা চোখে পড়ে না। অবশ্য না পড়াই ভালো। সে মুখখানির ভয়াল রূপে রক্ত হিম হয়ে যেতে বাধ্য যে কারো। নিশুতি রাতে ঘুমের মাঝেই যাকে ইচ্ছে হয় ডেকে নেয় নিশি। বলা হয়, নিশির ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য নাকি কারোই নেই। সাদা শাড়ি তার কিছুটা আলুথালু। লম্বা আঁচল লুটিয়ে পড়ছে ভূমিতে। মৃত মানুষের মতো ফ্যাকাশে লাগে দেখতে নিশিকে। চোখ দুটো কেমন জ্বলে ওঠে একটু হয়তো। হাসিটি তার অতীব ভয়ংকর। যেন ভেতরের সবটুকু শক্তি নিংড়ে শেষ করে দেয় নিশির সেই হাসি। তাতে নিষ্ঠুরতার হাতছানি আছে কোথায় যেন। খুবলে নেবে হৃদয়, নাকি বরফশীতল হাতে চেপে ধরবে গলা? সে প্রশ্নের উত্তর নিশির ডাকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আচ্ছন্ন হয়ে তাকে অনুসরণ করা হতভাগ্য মানুষগুলো ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না। তবে নিশির ডাকে বেহুঁশ হয়ে ঘোরের মধ্যে তার পিছু নেওয়া মানুষদের মধ্যে যারাই বেঁচে ফিরেছে, তাদের আর কিছুই মনে পড়েনা কী হয়েছে, কোথায় হয়েছে। হয়তো সেই ভয়াল নিশি পোহালে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় পথের ধারে বা ঝোপজঙ্গলে অচেতন অবস্থায়। অনেকে বলে স্লিপ ওয়াকিং বা ঘুমের মধ্যে অর্ধচেতন অবস্থায় হাঁটাচলা করার প্রবণতা আর হ্যালুসিনেশন মিলেই নিশির এমন সব গল্প মুখে মুখে প্রচলিত হয়েছে যুগে যুগে। তবুও নিশুতি রাতে নিশির ডাকের ভয় মাঝে মাঝে আমাদের চেতনা অবশ করে দেয়। কারণ, নিশি ডাকলে আর ফেরা হয় না অনেকেরই।








ফটোগ্রাফি: অনিক মজুমদার
লাইটস: শুভ্রদেব হালদার
রূপ ও কেশসজ্জা: আব্রাহাম আহাম্মেদ অপু
লোকেশন: দোতলা ( ফ্যাশনের সুপরিচিত যৌথ উদ্যোগ)
নিশির শাড়ি: রঙ বাংলাদেশ
মডেল: জেসিফার
বিশেষ কৃতজ্ঞতা: দোতলাবাসী