ছোটবেলা থেকেই মানুষের প্রতি একধরনের গভীর সহমর্মিতা অনুভব করেছি। অন্যকে সাহায্য করা, তা যত ছোটই হোক, সব সময়ই আমার বিশ্বাস ও ভালো লাগার জায়গা ছিল।
কিশোর বয়স থেকেই নিজের মতো করে সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তবে এসব কাজ কখনো প্রকাশ্যে শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিনি। মনে হতো, এগুলো একান্তই ব্যক্তিগত—মনের তাগিদে করা কিছু নীরব প্রয়াস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে উপলব্ধি করি, এই কাজগুলো প্রকাশ করলে হয়তো অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে এগিয়ে আসতে, বদলে দিতে পারবে কারও জীবন। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় কাইন্ডনেস্ট ফাউন্ডেশনের পথচলা।
কাইন্ডনেস্ট ফাউন্ডেশন এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, যাকে বলে হাঁটতে শেখা শিশুর মতো। কিন্তু এর স্বপ্ন অনেক বড়—বৃহৎ পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছানো, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া।
কড়াইল বস্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। তাদের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল। চেষ্টা করেছি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকতে। পথের মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে কারও মুখে সামান্য হাসি ফোটানো পর্যন্ত—প্রতিটি উদ্যোগই আমার কাছে মূল্যবান।
আমার কাজ শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পথপ্রাণীদের প্রতিও সমানভাবে দায়িত্ব অনুভব করি। তাদের জন্যও কাজ করে যাচ্ছি। কারণ, তারাও ভালোবাসা, যত্ন ও নিরাপত্তার অধিকার রাখে। কাইন্ডনেস্ট ফাউন্ডেশন কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সব অসহায়ের জন্য, তা সে মানুষ হোক বা প্রাণী।
বর্তমানে আমি নিজের সামর্থ্য দিয়েই এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে ভবিষ্যতে এমন মানুষদের পাশে পেতে চাই, যাঁরা সত্যিই পরিবর্তন আনতে চান—যাঁরা মানবতা ও সহমর্মিতায় বিশ্বাস করেন।
আগামী দিনে শিশুদের শিক্ষা ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। আগে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে এ বিষয়গুলোতে কাজ করেছি, এখন কাইন্ডনেস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টাকে আরও বিস্তৃত করতে চাই।

এই যাত্রা কেবল শুরু হয়েছে, সামনে অনেক পথ বাকি। তাই আপনাদের সমর্থন কামনা করছি, যেন সব সময় শক্তি, সামর্থ্য ও মমতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।
কারণ, শেষ পর্যন্ত এই পৃথিবীকে সত্যিকার অর্থে সুন্দর করে তোলে একটাই জিনিস—সহমর্মিতা।
লেখক: কাইন্ডনেস্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা