
সামান্য সচেতনতা আপনাকে যেমন অপচয় কমাতে সাহায্য করবে, তেমনি পরিবেশবান্ধব কিছু ঘরোয়া সমাধানও এনে দিতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ভাতের মাড়ের কয়েকটি দারুণ ব্যবহার।

ভাতের মাড় ঠান্ডা হওয়ার পর তা গাছে দেওয়া যেতে পারে। এতে থাকা স্টার্চ ও কিছু খনিজ উপাদান মাটির গুণাগুণ উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মাড়ে যেন লবণ না থাকে এবং অতিরিক্ত ব্যবহার না করা হয়।

রাসায়নিক ক্লিনারের বিকল্প হিসেবে ভাতের মাড় ব্যবহার করা যেতে পারে। মোছার পানির সঙ্গে সামান্য মাড় মিশিয়ে নিলে মেঝের ময়লা তুলতে সুবিধা হয় এবং পৃষ্ঠ আরও সতেজ দেখায়। বিশেষ করে টাইলস বা কাঠের মেঝেতে এটি কার্যকর হতে পারে।

ভাতের মাড়ে থাকা স্টার্চ তেল ও খাবারের জমে থাকা আস্তরণ নরম করতে সাহায্য করে। খুব ময়লা বা তৈলাক্ত বাসন কিছুক্ষণ ঠান্ডা মাড়ে ভিজিয়ে রেখে পরে ধুয়ে নিলে পরিষ্কার করা তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।
যারা বাড়িতে জৈব সার বা কম্পোস্ট তৈরি করেন, তারা লবণবিহীন ভাতের মাড় কম্পোস্ট বিনে যোগ করতে পারেন। এতে উপকারী অণুজীবের কার্যক্রম বাড়তে পারে, যা জৈব বর্জ্য দ্রুত পচতে সাহায্য করে।

প্রাচীনকাল থেকেই ভাতের মাড় কাপড়ের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রান্নাঘরের তোয়ালে, সুতি ন্যাপকিন বা অন্যান্য ধোয়া যায় এমন কাপড় কিছুক্ষণ মাড়ে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিলে সেগুলো আরও সতেজ অনুভূত হতে পারে।
বর্তমান সময়ে টেকসই জীবনযাপন ও অপচয় কমানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে। সেই জায়গা থেকে ভাতের মাড়ের পুনর্ব্যবহার একটি সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস হতে পারে। ছোট্ট এই পদক্ষেপ পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা অনেক সময় দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু উপাদান অবহেলায় ফেলে দিই, যেগুলোর রয়েছে নানা ব্যবহারিক মূল্য। ভাতের মাড়ও তেমনই একটি উপাদান। গাছের যত্ন থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার, বিভিন্ন কাজে এটি হতে পারে আপনার ঘরোয়া সহকারী।
তাই পরেরবার ভাত রান্না করলে মাড় ফেলে দেওয়ার আগে একবার ভাবুন। হয়তো এই সাধারণ পানিই আপনার ঘরের একাধিক সমস্যার সহজ সমাধান হয়ে উঠতে পারে।
ছবি: এআই