
এর আগে মহাকাশে গেলে বিশেষ ব্যাগের সাহায্য নিয়ে অত্যন্ত ঝামেলাপূর্ণভাবে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হতো নভোচারীদের। এ নিয়ে বহু বছর ধরেই গবেষণা চলে আসছে। শুনতে অদ্ভুত হলেও, আর্টেমিস-২ এর গ্রাউন্ড ব্রেকিং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হচ্ছে এর টয়লেট। আসলে ইতিহাসে এই প্রথম সুপার হাইটেক টয়লেট থাকছে মহাকাশযানে। কিন্তু এর জন্য ২৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচের পরও দেখা গেল যান্ত্রিক ত্রুটি। প্রথম ছয় ঘণ্টায় ব্যবহার করা যায়নি এই বহুল আলোচিত টয়লেট। কিছু টেকনিক্যাল গ্লিচের কারণে সঠিক সিগন্যাল দিচ্ছিল না এই টয়লেটের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, জানা গেছে নাসার বরাতে। তবে এখন এটি পুরোপুরি কাজ করছে বলে নাসা থেকে জানানো হয়েছে। চলুন তবে জেনে নিই আর্টেমিস-২ এর এই উচ্চপ্রযুক্তির টয়লেট নিয়ে নানা তথ্য।

আকার ও ওজন: ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা এই টয়লেট আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) তুলনায় ৬৫ শতাংশ ছোট ও ৪০ শতাংশ হালকা।
শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা জিরো গ্র্যাভিটি প্রযুক্তি: এটি একটি ‘ডুয়াল-ফ্যান সেপারেটর’ বা দ্বৈত পাখাবিশিষ্ট সাকশন সিস্টেম ব্যবহার করে, যা প্রস্রাব ও মলকে টেনে নেয়, যাতে তা কেবিনের ভেতরে ভেসে না বেড়ায়।
থ্রিডি-প্রিন্টেড টাইটানিয়াম: এটি মজবুত টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি, যা বর্জ্য পরিশোধনে ব্যবহৃত অ্যাসিডিক রাসায়নিকের ক্ষয় রোধ করতে পারে।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা: আর্টেমিস মিশনে টয়লেটটি মহাকাশযানের ভেতরে একটি ঘেরা ও ব্যক্তিগত জায়গায় রাখা হয়েছে।
এটি যেভাবে কাজ করে
প্রস্রাব ব্যবস্থা: এতে একটি ফানেল এবং হোস পাইপ রয়েছে, যা নারী ও পুরুষ উভয় নভোচারী ব্যবহার করতে পারেন। সাকশন বা বাতাসের টানে প্রস্রাব সরাসরি একটি ট্যাঙ্কে জমা হয়।
মলত্যাগ ব্যবস্থা: টয়লেটের সিটে বাতাসের প্রবাহ থাকে, যা কঠিন বর্জ্যকে একটি সংগ্রহকারী ক্যানিস্টারে নিয়ে যায়।
সংরক্ষণ ও নিষ্কাশন: আর্টেমিস-২ মিশনের জন্য প্রস্রাব জমা করে মহাকাশে ছেড়ে দেওয়া হবে, কিন্তু শক্ত বর্জ্য ব্যাগে ভরে একটি বিশেষ ক্যানিস্টারে জমা রাখা হয় এবং পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে বলে উল্লেখ করা আছে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা: আগের টয়লেটগুলোর তুলনায় এটি অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়, ফলে নভোচারীদের জন্য এটি ব্যবহার করা সহজ।
পায়ের ভারসাম্য: শূন্য অভিকর্ষে টয়লেটে বসে থাকার জন্য বিশেষ ‘ফুট রিস্ট্রেইন্ট’ বা পা আটকে রাখার ব্যবস্থা আছে।
বিকল্প ব্যবস্থা: যদি মূল সিস্টেমটি নষ্ট হয়ে যায়, তবে ব্যাকআপ হিসেবে অ্যাপোলো আমলের পুরোনো পদ্ধতির ব্যাগও সঙ্গে রাখা হয়েছে।
তথ্য: বিবিসি, নাসা, স্পেস ডট কম
ছবি: ইন্সটাগ্রাম