হাল ফ্যাশন লাইফস্টাইল গাইডলাইন: ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে কী জিজ্ঞেস করতে পারেন আর কী পারেন না, হয়রানি হলে কী কী করবেন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দুনিয়া চষে বেড়াচ্ছেন, বহু সাফল্য ও অর্জনে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করছেন নারীরা। অথচ আমাদের দেশের চিত্রটি এই দিক দিয়ে খুবই হতাশাব্যঞ্জক। সম্প্রতি এক অত্যন্ত অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হন বাংলাদেশের তিন নারী। নেপাল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের সময় বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের ফোন করে তাঁদের বিদেশ ভ্রমণ ও পেশা সম্পর্কে জানতে চাওয়া এবং পোশাক, আর্থিক সামর্থ্য ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

সম্প্রতি ইমিগ্রেশনের সময় এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বাংলাদেশের তিন নারীর বিদেশযাত্রা আটকে যায়
সম্প্রতি ইমিগ্রেশনের সময় এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বাংলাদেশের তিন নারীর বিদেশযাত্রা আটকে যায়

এই নারীদের একজন বলেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন সদস্য তাঁকে বলেছেন, অবিবাহিত মেয়েরা একা দেশের বাইরে যেতে পারবে না। কাল বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন বিদেশযাত্রায় বাধা পাওয়া অবিবাহিত ওই তিন নারী। নেপাল ভ্রমণের জন্য যেতে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন ও বিমান টিকিট নিয়ে গত ৮ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তাঁরা। তবে তাঁদের বিদেশযাত্রা আটকে যায়।

বিজ্ঞাপন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এখন বিশ্বজুড়েই নারীদের সোলো ট্র্যাভেলে যাওয়া এক সাধারণ বিষয়। তবে বাংলাদেশের কন্টেক্সটে যেন নারীদের সবকিছুতে বাধা দেওয়ার মানসিকতার কারণে সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই দিকটা বিবেচনা করলে সোলো ট্র্যাভেলের আগে কিছু আইনি বিষয় আগেই জেনে যাওয়া ভালো। যেমন: ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে কী জিজ্ঞেস করতে পারেন আর কী পারেন না, হয়রানি হলে কী কী করবেন ইত্যাদি। বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট কোন একটি একক আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না, বরং এটি বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ এবং সরকারি নীতিমালার সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসব আইন ও নীতিমালার মধ্যে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ (এবং ২০২৩ সালের সংশোধন)’, ‘বৈদেশিক আইন, ১৯৪৬ (The Foreigners Act, 1946)'',‘নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫১ (The Citizenship Act, 1951)’, ‘পাসপোর্ট আইন অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশের (The Bangladesh Passport Order, 1973’ ও ট্র্যাভেল রুলস গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিক ইমিগ্রেশন আইন ও নীতি প্রয়োগের মূল দায়িত্বে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP) পাসপোর্ট প্রদান, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ এবং ইমিগ্রেশন সেবা পরিচালনা করে।

বিজ্ঞাপন

ইমিগ্রেশন পুলিশ বা অফিসারের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে। তাঁর প্রধান কাজ হলো বিমানবন্দর, স্থলবন্দর বা সমুদ্রবন্দরে দেশের অভিবাসন আইন প্রয়োগ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ  প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভ্রমণের বৈধতা ও নথি যাচাই করা এবং নির্দিষ্ট ঝুঁকির যথাযথ অনুসন্ধান করা। এই দায়িত্ব পালনকালে একজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা  দেশত্যাগকারী ও দেশে প্রবেশকারী যাত্রীদের পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করতে পারবেন। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, থাকার মেয়াদ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে যাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারার পাশাপাশি জাল কাগজপত্র ব্যবহারকারী, অবৈধভাবে বসবাসকারী বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনকারীদের সনাক্ত করে আটক করা এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

ইমিগ্রেশন পুলিশ বা অফিসারের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে
ইমিগ্রেশন পুলিশ বা অফিসারের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে
ছবি: প্রতীকী ও এআই দিয়ে তৈরি

এছাড়া মানব পাচার, চোরাচালান বা অন্যান্য অপরাধ রোধে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে একসাথে কাজ করার অধিকারী। অর্থাৎ মানব পাচার, জাল কাগজপত্র, অপরাধীর দেশত্যাগ কিংবা আইনগত নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে তাদের প্রয়োজনীয় যাচাই করতে পারেন  এবং কোনো যাত্রীর বিষয়ে যৌক্তিক সন্দেহ দেখা দিলে আইনসম্মতভাবে প্রশ্নও করতে পারবেন। কিন্তু সন্দেহের ভিত্তি হতে হবে তথ্য, আইন ও পেশাগত মানদণ্ডে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবিবাহিত কি না কিংবা একা ভ্রমণ করছেন কেন, স্বামী কোথায়, অভিভাবক কে বা অভিভাবক জানেন কিনা-  এই প্রশ্নগুলো এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। নিরাপত্তা যাচাই ও ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার হস্তক্ষেপ এক বিষয় নয়। রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট আর মোরাল পুলিশিংও এক নয়।

আমাদের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বৈধভাবে বিদেশ ভ্রমণে যেতে হলে পাসপোর্ট ও ভিসা লাগে। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হয়  এবং গন্তব্য দেশের ভিসা সঠিক ও বৈধ হতে হয়। সংশ্লিষ্ট  এয়ারলাইন্সের চেক-ইন থেকে নেওয়া বোর্ডিং পাস এবং প্রস্থানকালীন পূরণকৃত ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হয়। ভ্রমণকারী চাকরিজীবী হলে অফিসিয়াল আইডি কার্ড ও NOC (অনাপত্তিপত্র), ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এবং শিক্ষার্থী হলে স্টুডেন্ট আইডি বা কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির চিঠি বা অনুমতিপত্র লাগে।  কাজের উদ্দেশ্যে গেলে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (BMET ছাড়পত্র), বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র লাগে।

একজন নাগরিক কেন বিদেশ যাচ্ছেন, গন্তব্য কোথায়, কোথায় থাকবেন তিনি, কার কাছে থাকবেন বা হোটেল বুকিং আছে কি না এবং ভ্রমণের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চাইতে পারেন বা সে বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে আসার রিটার্ন ফ্লাইট টিকিট আছে কি না বা বিদেশ ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাশ টাকা, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড কিংবা ব্যাংক সলভেন্সি/স্টেটমেন্টের প্রমাণ দেখাতেও বলতে পারেন।

কাগজপত্র ঠিক থাকলেও যদি কোনও নাগরিকের বিদেশ যাত্রায় বাধা দেওয়া হয়, তবে সেটা বেআইনি হবে
কাগজপত্র ঠিক থাকলেও যদি কোনও নাগরিকের বিদেশ যাত্রায় বাধা দেওয়া হয়, তবে সেটা বেআইনি হবে

অর্থাৎ এক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা অফিসার পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট দেখবেন, ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে আইনসম্মত প্রশ্ন করতে এবংমানব পাচারের কোনো ঝুঁকি থাকলে সেটা যাচাই করতে পারবেন। কিন্তু যদি বৈধ পাসপোর্ট,  বৈধ ভিসা, সঠিক এয়ার টিকেট, হোটেল রিজার্ভেশন, ভ্রমণের বৈধ উদ্দেশ্য থাকাসহ ভ্রমণ সংক্রান্ত অন্যান্য নথি ঠিক থাকলেও কোনও নাগরিকের বিদেশ ভ্রমণ বা বিদেশ যাত্রায় বাধা দেওয়া হয়, তবে সেটা বেআইনি হবে।

বাংলাদেশের মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এ সম্পর্কিত রায়ে বলা হয়েছে, ‘বিদেশ ভ্রমণের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা ব্যতীত কোন নাগরিকের বৈধ বিদেশ ভ্রমণ আটকে দেওয়া যাবে না।’ এমনকি কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হলেই যে তার বিদেশ যাত্রা আটকে দেওয়া যাবে বিষয়টা নয়। আটকে দেওয়ার জন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকতে হবে। এমনকি কোন ব্যক্তির কোন অপরাধের জন্য সাজা হয়ে যাওয়ার পর যদি উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে  আপিল করে জামিনে মুক্ত থাকে তবে তিনিও বৈধভাবে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন, যদি  আদালতের এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা না থাকে। এ ক্ষেত্রে বিবাহিত-অবিবাহিত, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-লিঙ্গ নির্বিশেষে একই বিধান। আমাদের সংবিধান বৈষম্যহীনতার এই সুরক্ষা আমাদেরকে দিয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এ বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ অনুচ্ছেদ ২৮-এ  নাগরিকদের প্রতি ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, লিঙ্গ প্রভৃতি কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে  । অনুচ্ছেদ ২৮(১) এ বলা হয়েছে, ‘ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।’ অনুচ্ছেদ ২৮(২) বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকিবে।’ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। অনুচ্ছেদ ৩১-এর মূল কথা হলো, কোনও নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।  অনুচ্ছেদ ৩২ এ  জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের মূল কথা হলো, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতি ব্যতিরেকে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই অনুচ্ছেদটি  নাগরিকদেরকে মৌলিক জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বেআইনি বা স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে। রাষ্ট্র চাইলেই কোনো ব্যক্তির জীবন বা স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারবে না, যদি না তা সুনির্দিষ্ট কোনো বৈধ আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়।

সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের যে অধিকারগুলো রয়েছে সেগুলো হলো, বাংলাদেশের সর্বত্র স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার,
যেকোনো স্থানে বসবাস ও স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার, বাংলাদেশ ত্যাগ করা এবং পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসার অধিকার। এই অধিকারটি সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত একটি অন্যতম মৌলিক অধিকার, তবে এটি একচ্ছত্র বা নিরঙ্কুশ নয়; জনস্বার্থ ও শৃঙ্খলার সুরক্ষায় রাষ্ট্র এর ওপর যুক্তিসঙ্গত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। তবে এই ধরনের বিধিনিষেধ অবশ্যই প্রণীত আইনের মাধ্যমে হতে হবে। জনস্বার্থে যুক্তিসঙ্গতভাবে তা করতে হবে। আইনের সমর্থন ছাড়া শুধুমাত্র নির্বাহী আদেশে কারও স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা অসাংবিধানিক হবে।

ইমিগ্রেশনে হয়রানির শিকার হলে করণীয়

ইমিগ্রেশন বা বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানাতে হবে।
তর্ক না করে শান্ত থেকে অফিসারের নাম, পদবি বা ব্যাজ নম্বর এবং ঘটনার সময় ও কাউন্টার নম্বর নোট করুন। সম্ভব হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি সঙ্গে রাখতে হবে।

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি সঙ্গে রাখতে হবে
সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি সঙ্গে রাখতে হবে

কবিমানবন্দরে দায়িত্বরত অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা অথবা  শিফট ইনচার্জ, ডিউটি অফিসার বা নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) বিষয়টি অবিলম্বে অবহিত করতে পারেন। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের ২৪ ঘণ্টার হটলাইন নম্বর-এ কল করে সহায়তা চাওয়া যায়। হটলাইন নাম্বারটি হলো ০১৩২০০০৭৫৮৮। এছাড়া পুলিশের বিশেষ শাখার ইমিগ্রেশন, বাংলাদেশ পুলিশ পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল নম্বরে যোগাযোগ করেও প্রতিকার চাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিয়ে বিমানবন্দর বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইমিগ্রেশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া দিতে হবে।

আবেদন বা অভিযোগ সব সময় লিখিত হওয়াই ভালো পুলিশের ইমিগ্রেশন কমপ্লেন পেজে অনলাইনেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়েও সেবা বা হয়রানির বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করা যাবে।

পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মমতাজ পারভীন
পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মমতাজ পারভীন

এছাড়া সরকারি সেবায় অসন্তুষ্ট হলে জাতীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা ( GRS) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করা যায়। অভিযোগ করে যদি এই সব প্রক্রিয়ার কোনটির মাধ্যমেই যদি প্রতিকার পাওয়া না যায়,তবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট রিট দায়ের করার সুযোগ আছে। রিট দায়ের করার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আগে অভিযোগ দাখিল করতে হবে।

এসব ক্ষেত্রে প্রতিটি কেইসই আলাদা। তাই নিচের তথ্যগুলোকে একটি সাধারণ আইনি গাইডলাইন হিসেবে নেওয়া উচিত ও সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত আমাদের।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট

প্রতীকী ছবি: এআই, পেকজেলস ও ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬: ৩৯
বিজ্ঞাপন