পারমাণবিক যুদ্ধ লাগলে সবাইকে নিরাপদে রাখতে পারবে বিশ্বের একটি মাত্র দেশ, দেখুন তাদের বিস্ময়কর বাংকার
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিশ্বে এমন খুব কম দেশ আছে যেখানে প্রায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেই বিরল উদাহরণগুলোর একটি হলো ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড। দেশটিতে বিস্তৃত একটি ভূগর্ভস্থ বাংকার বা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টার ব্যবস্থা রয়েছে, যা যুদ্ধ, পারমাণবিক হামলা কিংবা বড় কোনো দুর্যোগের সময় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

যুদ্ধ, পারমাণবিক হামলা কিংবা বড় কোনো দুর্যোগের সময় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে সুইস বাংকার
যুদ্ধ, পারমাণবিক হামলা কিংবা বড় কোনো দুর্যোগের সময় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে সুইস বাংকার
শীতল যুদ্ধের সময় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা আরও বাড়ে, তখনই এসব বাংকার বানানো হয়
শীতল যুদ্ধের সময় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা আরও বাড়ে, তখনই এসব বাংকার বানানো হয়

কেন তৈরি করা হয়েছে এই বাংকার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের অনেক দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। যদিও সুইজারল্যান্ড সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবুও যুদ্ধের ভয়াবহতা দেশটির নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলে। পরে শীতল যুদ্ধের সময় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা আরও বাড়ে।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে ১৯৬৩ সালে সুইস সরকার একটি আইন পাস করে, যেখানে বলা হয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেই থেকেই শুরু হয় বড় আকারের বাংকার নির্মাণ কর্মসূচি। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৩ লাখের বেশি বাংকার রয়েছে। ধারণা করা হয়, এসব বাংকারে প্রায় দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। অর্থাৎ সংকটের সময় পুরো দেশের মানুষকে ভূগর্ভে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৩ লাখের বেশি বাংকার রয়েছে
সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৩ লাখের বেশি বাংকার রয়েছে
শক্তিশালী বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দরজা থাকে বাংকারে
শক্তিশালী বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দরজা থাকে বাংকারে

কেমন এই আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার

সুইজারল্যান্ডের বাংকারগুলো শুধু ছোট গর্ত বা সামান্য আশ্রয়কেন্দ্র নয়। অনেক বাংকারই সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ ছোট শহরের মতো। এগুলো শক্ত কংক্রিট দিয়ে তৈরি এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের ধাক্কাও সহ্য করতে পারে। বাংকারগুলোর ভেতরে সাধারণত থাকে—

শক্তিশালী বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দরজা

বাতাস পরিশোধনের ব্যবস্থা, যাতে বিষাক্ত গ্যাস ঢুকতে না পারে

পানি ও খাবারের মজুত

বিদ্যুৎ ও জেনারেটর

শোবার জায়গা ও টয়লেট

কিছু বড় বাংকারে এমনকি হাসপাতাল, রান্নাঘর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কমান্ড সেন্টারও রয়েছে।

বাড়িতেও আছে ব্যক্তিগত বাংকার

বিজ্ঞাপন

সুইজারল্যান্ডের একটি বিশেষ বিষয় হলো—অনেক বাড়ির নিচেও ছোট বাংকার তৈরি করা হয়। নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় বাংকার বানানো আইনত বাধ্যতামূলক ছিল অনেক বছর ধরে। যদি কেউ বাংকার তৈরি না করে, তাহলে তাকে সরকারকে অতিরিক্ত কর দিতে হতো। এই কারণে অনেক বাসাবাড়ির বেজমেন্টই আসলে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

 বাড়ির নিচেও ছোট বাংকার তৈরি করা হয়
বাড়ির নিচেও ছোট বাংকার তৈরি করা হয়
এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সুইজারল্যান্ডের এই বাংকার ব্যবস্থা আবারও আলোচনায় এসেছে
এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সুইজারল্যান্ডের এই বাংকার ব্যবস্থা আবারও আলোচনায় এসেছে

আজকের সুইজারল্যান্ড পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ। তবুও তারা এই বাংকার ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করেনি। কারণ তাদের ধারণা, যেকোনো বড় সংকটের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সুইজারল্যান্ডের এই বাংকার ব্যবস্থা আবারও আলোচনায় এসেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সিভিল ডিফেন্স সিস্টেমগুলোর একটি। সব মিলিয়ে, সুইজারল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ বাংকারগুলো শুধু যুদ্ধের সময় আশ্রয় দেওয়ার জন্যই নয়, বরং একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও নাগরিক সুরক্ষার অনন্য উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হয়।

সূত্র: সিবিসি

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০: ৩২
বিজ্ঞাপন