
প্লাস্টিক দূষণের তাৎক্ষনিক ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কথা বলে শেষ করা সম্ভব না। আর আশার কথা, সম্প্রতি এই জাতীয় ও বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের দেশে নেওয়া হচ্ছে কিছু জরুরি পদক্ষেপ। ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে কোনো পলিথিন ও পলিপ্রপিলিন ব্যাগ রাখা যাবে না এবং ক্রেতাদেরকে দেওয়া যাবে না, এমন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা। এর আগে সরকারি অফিসে একবার ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশংসনীয় এই পদক্ষেপগুলো প্লাস্টিক দূষণমুক্ত পৃথিবীর দিকে আমাদের এগিয়ে দেবে। এখন শুধু বাকি রইল স্থানীয় বাজারগুলোতে পলিথিন ব্যাগ নিয়ন্ত্রণ করা। তাহলেই আশা করা যায় আমরা জাতি হিসেবে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারব। তবে প্রশ্ন হলো, আপাতদৃষ্টিতে সুবিধাজনক এই পলিথিন ব্যাগের বিকল্প কী হতে পারে। আগের যুগে মানুষ চটের থলে আর খালুই নিয়ে বাজারে যেত। এখনও অনেক পরিবেশবান্ধব বিকল্প রয়েছে এই প্লাস্টিক ব্যাগের।

কাগজের ব্যাগ
শপিংয়ে কাগজের ব্যাগ নতুন কোনো ট্রেন্ড নয়। গ্রোসারি শপ বা দোকানে বাদামি কাগজের ব্যাগ বেশ পরিচিতই আমাদের। মলগুলোতেও শপিং ব্যাগ হিসেবে অনেকেই কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করেন। ক্রেতাদের উচিত সচেতনভাবে পলিথিনের ব্যাগ না নিয়ে কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা। কাগজের ব্যাগ পরিবেশবান্ধব। কারণ সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় এটি। এক্ষেত্রে অবশ্য রিসাইকেল করা ব্যাগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ক্যানভাস ব্যাগ
ক্যানভাস ব্যাগগুলো তৈরি করা হয় সিনথেটিক ফেব্রিক, রিসাইকেল্ড সুতি ও ক্যানভাসের সংমিশ্রণে। কাগজের ব্যাগের তুলনায় এই ব্যাগ বেশি স্থায়ী। ধুয়ে পরিষ্কার করে অনেকবার ব্যবহার করা যায়। আবার বারবার কাগজের ব্যাগের মতো কেনারও প্রয়োজন হয় না। ক্যানভাস ব্যাগগুলো একাধারে সুবিধাজনক, ফ্যাশনেবল ও ট্রেন্ডি।


কাপড়ের ব্যাগ
পুনর্ব্যবহার উপযোগী কাপড়ের ব্যাগ ওপরের সবগুলো ব্যাগের চেয়ে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী। হাতের কাছে থাকা যেকোনো কাপড় কেটে নিজেই ঘরে বসে তৈরি করে নেওয়া যায় এমন ব্যাগ। আবার বাজারে সহজে কিনতেও পাওয়া যায় কাপড়ের ব্যাগ। ব্যাগগুলো টাকাও বাঁচায় আবার পৃথিবীতে প্লাস্টিকও কমায়।
দীর্ঘস্থায়ী প্লাস্টিকের ব্যাগ
যদি পরিবেশ অবমুক্ত না করা হয় তবে দীর্ঘস্থায়ী প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করা যায়। মাছ, মাংস ইত্যাদি কেনাকাটার জন্য পানিরোধী ব্যাগ না হলে অসুবিধা হতে পারে। তাই এই অপশনটিও মাথায় রাখতে হবে।


চটের ব্যাগ
যুগযুগ ধরে চটের ব্যাগ ও বস্তা বাজারে প্রচলিত রয়েছে এদেশে। কাঁচাবাজার বা মুদী বাজার করতে এই ব্যগগুলোর প্রচলন ফিরিয়ে আনতে হবে।
পাটের সোনালি ব্যাগ

বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খানের উদ্ভাবিত পাটের বিশেষ পানিরোধী প্লাস্টিক ব্যাগের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়ে আশার আলোর কথা শোনা যাচ্ছে সম্প্রতি। এই ব্যাগ আসলে অনেক ভালো সমাধান হতে পারে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে।