
জনপ্রিয় ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ক্যানভার সঙ্গে এ সময়ে পরিচিত নন, এমন প্রযুক্তি–সচেতন মানুষ নেই বললেই চলে। ছোটখাটো টেমপ্লেট ডিজাইন থেকে শুরু করে সিভি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ, ক্যানভা সবই করে দিতে পারে মাত্র কয়েক মিনিটে। এটি একটি অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ডিজাইন অ্যাপ। এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। মেলানি পারকিন্স নামের এক নারী তাঁর দুই সহকর্মী, ক্লিফ ওবরেখট ও ক্যামেরন অ্যাডামসের সঙ্গে মিলে এই উদ্যোগ নেন। মেলানি পারকিন্সের জন্ম অস্ট্রেলিয়াতেই।

তাঁর মালয়েশিয়ান বাবা ও মা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি সেখানে গ্রাফিকস ডিজাইনিংও শেখাতেন। গ্রাফিকস ডিজাইনিং কোর্সের ক্লাস নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর মাথায় এমন একটি ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা আসে, যা মানুষের জন্য পেশাদার ডিজাইনিং বিষয়কে সহজ করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায় প্রথমে ‘ফিউশন বুকস’ নামের একটি ইয়ারবুক তৈরির মধ্য দিয়ে। ফিউশন বুকস এক অর্থে ছিল ক্যানভার ভিত্তি। এরই আপডেটেড রূপ হলো আজকের ক্যানভা।
ক্যানভার শুরুর গল্প এতটা সহজ আর সাফল্যমণ্ডিত ছিল না। মেলানি ও তাঁর সহপ্রতিষ্ঠাতাদের সামনে এসেছে অনেক চ্যালেঞ্জ। ব্যবসার স্টার্টআপ হিসেবে ক্যানভাকে পরপর অনেকগুলো প্রত্যাখ্যান ও সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। গ্রাফিকস ডিজাইনিংয়ের পরিপূরক তৈরি করার ব্যাপারে শুনতে হয় বিদ্রূপও। তবে ক্যানভা বিনিয়োগ সংগ্রহে সফল হয় সিলিকন ভ্যালি থেকে। বিল তাই নামের একজন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট তাদের এ কাজে সহায়তা করেছিলেন।

ক্যানভায় কাজ করতে হলে গ্রাফিক ডিজাইনার হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু প্রাথমিক ওয়েব টুলস ও অ্যাপ চালানোর দক্ষতা দিয়েই যে কেউ ঘরে বসে দক্ষ ডিজাইনারদের মতো ডিজাইন তৈরি করে ফেলতে পারবেন। এতে সময়ও বাঁচে। এ কারণেই ক্যানভার এত গ্রহণযোগ্যতা এবং তা দিন দিন বাড়ছে। ক্যানভার দেওয়া তথ্যানুসারে, বর্তমানে ফরচুন ফাইভ হানড্রেড তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৫ শতাংশ তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। এই প্ল্যাটফর্মের নতুন সংযোজন হচ্ছে ক্যানভা ডকস ও ক্যানভা শিটস। এই নতুন সংযোজনের সঙ্গে মাইক্রোসফট অফিস ও গুগল ওয়ার্কস্পেসের মতো জনপ্রিয় ও পুরোনো প্রযুক্তিগুলোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
ক্যানভা আরও জানায়, ২০২১ সালে এই প্রতিষ্ঠানের আয় ছিল মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তিন বছরের ব্যবধানে, ২০২৪ সালে এসে তা তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। একে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেলানি পারকিন্স বলেন, ‘ক্যানভার লক্ষ্য ছিল ডিজাইন করা খুবই কঠিন, এই ভুল ধারণাকে ধ্বংস করা। আমরা বরাবরই মানুষের কাছে ডিজাইনকে সহজ ও সহজলভ্য করতে চেয়েছি। আমরা আমাদের উদ্দেশ্যে সফল, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
ক্যানভার এই সাফল্য কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে নারীর ভূমিকা যে কতটা জরুরি, তারই প্রমাণ ক্যানভা। মেলানি পারকিন্স শুধু প্রযুক্তি ক্ষেত্রে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা নন, একজন মিশ্র নারী হিসেবেও এ ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য অনুপ্রেরণা জোগায়।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম হ্যান্ডল ও পেকজেলসডটকম