সালামি আদায় করা ও সালামি দেওয়া থেকে বাঁচার ৩টি করে অব্যর্থ কৌশল
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ঈদের চাঁদ আকাশে দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে চিন্তায় পড়ে যান। তাঁরা হলেন আমাদের পাড়া-মহল্লা কিংবা অফিসের বড় ভাই,বড় আপু বা সিনিয়র সম্প্রদায়। অন্যদিকে, জুনিয়ররা সুযোগ খুঁজতে থাকে সিনিয়রের পকেট থেকে কিছু ডিজিটাল বা অ্যানালগ সালামি আদায়ের জন্য। অনেকে দরাজ হাতে সালামি দিলেও অনেক সিনিয়রদের কাছ থেকে সালামি আদায় করার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

জুনিয়ররা সুযোগ খুঁজতে থাকে সিনিয়রের পকেট থেকে কিছু ডিজিটাল বা অ্যানালগ সালামি আদায়ের জন্য
জুনিয়ররা সুযোগ খুঁজতে থাকে সিনিয়রের পকেট থেকে কিছু ডিজিটাল বা অ্যানালগ সালামি আদায়ের জন্য

প্রশংসায় মিলবে সালামি

ঈদের দিন সকালে সিনিয়রের ইনবক্সে একটি বিশাল ভক্তিপূর্ণ মেসেজ যাবে। তাতে লেখা থাকবে: "ভাইয়া, আপনার মতো বড় হৃদয়ের মানুষ এই এলাকায় আর একটাও নেই।" সামনাসামনিও করতে পারেন এই কাজ। প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলে তিনি আর সালামি না দিয়ে থাকতে পারবেন না।

সিনিয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলে তিনি আর সালামি না দিয়ে থাকতে পারবেন না।
সিনিয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলে তিনি আর সালামি না দিয়ে থাকতে পারবেন না।

আবেগময় স্মৃতিচারণ

যদি প্রথম ধাপে কাজ না হয়, তবে দ্বিতীয় অস্ত্র হলো আবেগ। "ভাইয়া, মনে আছে সেই ছোটবেলার কথা? আপনি আমাকে চকলেট কিনে দিতেন!” সিনিয়রের মন যখন একটু নরম হবে, ঠিক তখনই বিকাশ নম্বর জানিয়ে দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল টেকনিক

এই জমানায় সালামি চাওয়াটা অনেক স্মার্ট হয়ে গেছে। সরাসরি টাকা না চেয়ে অনেকে এখন কিউআর কোড পাঠিয়ে দেন।

এখন কিউআর কোড পাঠিয়ে সালামি চান অনেকেই
এখন কিউআর কোড পাঠিয়ে সালামি চান অনেকেই

"আরে ছোট ভাই, ক্যাশ তো সব শেষ, এখন তো ব্যাংক বন্ধ!" কিংবা "বিকাশে তো লিমিট শেষ হয়ে গেছে রে!" এই ধরনের অজুহাত শুনলে বুঝবেন সিনিয়র এখন ডিফেন্সিভ মোডে আছেন। এক্ষেত্রে দমে গেলে চলবে না। পালটা জবাব হতে হবে: "ভাইয়া সমস্যা নেই, আমার তো রকেট আর নগদও আছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আপনি যদি সেই সিনিয়র হন তবে টেবিল ঘুরিয়ে চিন্তা করতে হবে আপনাকে। জুনিয়ররা হুটহাট ইনবক্সে উঁকি দিয়ে ‘ভাইয়া, কোলাকুলি করতে আসছি’ বলে যে ইঙ্গিত দেয়, তার আসল অনুবাদ হলো: "ভাইয়া, সালামি দিন।" কিন্তু পকেটে যখন টান পড়ে তখন সালামি এড়ানো অনেক সময় কালের দাবী হয়ে যায়। আবার সারাবছর দেখা বা কথা নেই, খোঁজখবরও রাখেনা, কিন্তু ঈদের সময় সালামির আবদার করা জুনিয়রদের সবার দাবি যে মানতেই হবে তার কোনো মানে নেই।

লতায় পাতায়, অমাবস্যার চাঁদ আর হ্যালির ধুমকেতুদের এড়ানো যেতেই পারে
লতায় পাতায়, অমাবস্যার চাঁদ আর হ্যালির ধুমকেতুদের এড়ানো যেতেই পারে

কৌশল ১: ‘অদৃশ্য’ হওয়ার জাদু

ঈদের দিন সকালে যখন জুনিয়রদের মেসেজ আসতে শুরু করবে, তখন প্রথম কাজ হলো হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের ‘লাস্ট সিন’ বন্ধ করে দেওয়া। অথবা ফোনটাকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। গোস্টিংও করতে পারেন সিজনাল জুনিয়রদেরকে।

বিকাশে এমন চমৎকার সব ঈদকার্ড দিয়ে অল্পস্বল্প সালামি দিলেও বেশ খুশি হবে সবাই
বিকাশে এমন চমৎকার সব ঈদকার্ড দিয়ে অল্পস্বল্প সালামি দিলেও বেশ খুশি হবে সবাই

কৌশল ২: টেকনিক্যাল প্রবলেম

এখনকার যুগে সবচাইতে সফল অজুহাত হলো প্রযুক্তির ওপর দোষ চাপানো। জুনিয়র সালামি চাইলেই খুব আফসোসের সাথে বলুন: "আরে বলিস না, বিকাশের সার্ভার তো ডাউন! টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখি অ্যাপই খুলছে না।"

কৌশল ৩: পাল্টা সালামি অ্যাটাক

জুনিয়ররা যখন সালামি চাইবে, তখন আপনি নিজেই তাদের আগে সালামি চান। তাদের বলুন: "আরে তোরাই তো এখন ইনকাম করছিস, তোরাই তো এবার আমাদেরকে সালামি দিবি।" আক্রমণই যখন রক্ষণকৌশল, তখন জুনিয়ররা সালামি চাওয়ার বদলে রণে ভঙ্গ দেবে। একে আমরা বলতে পারি ‘রিভার্স সাইকোলজি।

আসলে সালামি ঈদের আনন্দের এক বড় অংশ। একে চাপে পরিণত না করে সিনিয়রদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যা মেলে তা নিয়েই খুশি থাকা শ্রেয়। এদিকে ছোটদের সালামি দিয়ে তাদেরকে এইটুকু আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করাই যায় সিনিয়রদের পক্ষ থেকে।

ছবি: এআই ও ফেসবুক

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৬: ২২
বিজ্ঞাপন