বাংলাদেশের সুশি ক্রেজ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

হাল ফ্যাশন ডেস্ক

জাপানি এই কৌতূহল–জাগানো এবং কিছুটা অ্যাডভেঞ্চারাস খাবারটি এখন আর নতুন নয় আমাদের কাছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সুশি এখন এ দেশে সুশি কালচার ও ক্ষেত্রবিশেষে সুশি ক্রেজ তৈরি করেছে বলা যায়।

বন্ধুরা মিলে কোথাও একসঙ্গে খেতে যাওয়া, সপ্তাহন্তে উদ্‌যাপন, কারও জন্মদিন বা সুখবর উপলক্ষে ট্রিট দিতে একসময় এ দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল চায়নিজ রেস্তোরাঁ। এরপর এল কাবাব আর বারবিকিউ প্লেস। তবে গত দশক ধরে সুশির ব্যাপারে নাগরিক তরুণদের আগ্রহ বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। প্রাপ্তবয়স্করাও পিছিয়ে নেই। তাই তো সুশি জয়েন্টের সংখ্যা বেড়েই চলেছে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা ইত্যাদি এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

সুশি আসলে গঠনগতভাবে বেশ সহজ–সরল। মূলত তাজা বা হিমায়িত মাছের কাঁচা স্লাইস, সিরকা, মিষ্টি, লবণ মেশানো আঠালো ভাত আর মচমচে কাগজের মতো পাতলা সামুদ্রিক শেওলার শিট বা নরিই এর মূল উপাদান। স্যামন ও টুনা মাছই বেশি জনপ্রিয়। সঙ্গে দেওয়া হতে পারে স্যামন মাছের ডিম। এতে ভাপিয়ে নেওয়া কাঁকড়া, চিংড়ি, অক্টোপাস থেকে শুরু করে মক ক্র্যাব স্টিক বা সুরিমি, অ্যাভোকাডো, শসা ও গাজরকুচি, টোফু, রোল করা মিষ্টি দেওয়া ডিমের অমলেট ইত্যাদি অনেক কিছু দেওয়া হয়। রাইস ভিনেগার দেওয়া ভাতের টেক্সচার ও টক-মিষ্টি স্বাদও মুখে লেগে থাকার মতো। তারপরে চপস্টিক ধরে ব্রহ্মতালু ঝাঁজিয়ে দেওয়া ওয়াসাবি পেস্ট আর উমামি স্বাদের সয়াসসে ডুবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটি তো আরেক পর্যায়ে নিয়ে যায় পুরো সুশির কারবারকে।

বিজ্ঞাপন

আমাদের দেশে এখন জাপানি রেস্তোরাঁগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে একদিকে যেমন ফুড ট্র্যাভেল প্রোগ্রামগুলো এতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, তেমনি কিশোর-তরুণদের জাপানি অ্যানিমে এবং কমিকসের প্রতি অসম্ভব ঝোঁকও এর অন্যতম কারণ। জাপানি খাবারের বর্ণবৈচিত্র্য ও অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার বিষয়টি আবার পরিণত খাদ্যরসিকদের আকৃষ্ট করছে সমানতালে।

ইজাকায়া
ইজাকায়া
ছবি: ফেসবুক পেজ
সুশি তেই
সুশি তেই
ছবি: ইন্সটাগ্রাম হ্যান্ডর

সব মিলিয়ে নানা রকমের সুশি, জাপানি রামেন, টেম্পুরা, অমুরাইস, জাপানিজ কটন চিজকেক এস এখন খুব জনপ্রিয় এ দেশে। এর মধ্যে কিয়োশি, ইজুমি, উমাই, টোকিও এক্সপ্রেস, সুশি সামুরাই, সুশি তেই, ইজাকায়া, মিদোরি ইত্যাদি সুশি জয়েন্টের সুশির বেশ সুনাম রয়েছে। এ ছাড়া মেঘহেঁশেলকেন্দ্রিক সুশি ডেলিভারি সার্ভিস রয়েছে সুশি ক্লাব, বিডি, ডাইসুকি সুশি, ইতামে উইথ লাভ, ওশি সুশি ইত্যাদি নামের।

যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, সুশি এখনো এ দেশে খুবই ব্যয়বহুল একটি খাবার। যখন–তখন ইচ্ছা করলেই সুশি জয়েন্টে গিয়ে সুশি খাওয়ার ব্যাপারটি এখনো জনসাধারণের নাগালের বাইরে। আবার সুশি ঘরে বানানোও চাট্টিখানি কথা নয়। যারা পারদর্শী এ ব্যাপারে, তাদের জন্য কোরিয়ান বা জাপানি দোকান ও অনলাইন পেজে সুশির উপকরণ মিলবে একটু খোঁজ করলেই।

অবশ্য একটি ব্যাপার স্বীকার করতেই হবে তা হচ্ছে, সুশি অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত একটি খাবার। ক্ষতিকর চর্বিমুক্ত প্রোটিন, ভিটামিন, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড—কী নেই এতে! একই সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্রবান্ধব ও স্বাদকোরকে ঝড় তোলা এমন খাবার আসলে জীবনে বড়ই প্রয়োজন। অন্যান্য বাইরের খাবার যেমন পিৎজা, ফ্রাইড চিকেন, বিরিয়ানির তুলনায় সুশি এককথায় স্বাস্থ্যকর এক ট্রিট।

আমাদের দেশে সুশির মধ্যে সাশিমি, মাকি আর নিগিরি সুশি বেশি জনপ্রিয়। তবে সুশির পরিবেশনায় আছে নানা বৈচিত্র্য। এ দেশে জাপানিজ সুইট অ্যান্ড সাওয়ার মেয়োনিজকে ডায়নামাইট সস বলে পরিবেশন করা হয় অনেক সুশি জয়েন্টে। কেউবা চিংড়ি বা কাঁকড়ার টেম্পুরার ক্রাম ছড়িয়ে দেন ওপরে। কোথাও বা একেবারে সোজাসাপটা মাছের স্লাইস আর নরি দিয়েই সুশি বানানো হয়। ওপর থেকে টর্চ বা আগুনের শিখায় একটু তাতিয়ে নেওয়া মাছের রোল সুশি খুব জনপ্রিয় ঢাকায়। এ ছাড়া বিখ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া রোল তো আছেই।

একটি কথা বলতেই হবে। হালের এই সুশি ক্রেজ বেশ সুদূরপ্রসারী কায়দায়ই বাড়িয়ে চলেছে ভক্তকুল। এতে ভাটা পড়ার তেমন কোনো কারণই নেই। চলুক তবে স্বাস্থ্যকর, রঙিন, সুস্বাদু সুশি কালচার এ দেশীয় উপকরণের ফিউশন ঘটিয়ে।

মডেল: নূর জাহান, তপু আরিয়ান

লোকেশন: ইজাকায়া

ছবি: সাইফুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২২, ০৬: ১৮
বিজ্ঞাপন