
ঢাকার রাস্তার ফুটপাতে পাহাড়ি খাবারের কার্ট দেখেই মানুষ প্রথমে একটু চমকে যাচ্ছে—পাহাড়ি খাবার! ফুডকার্টটির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ও অনেকে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। ব্যাপারটি বেশ নতুন। নতুন হলেও খাবারের স্বাদে মুগ্ধ ভোজনবিলাসীরা।
মুংডি, ফ্রাইড চিকেন সালাদ, সেদ্ধ চিকেন সালাদ ও স্যুপ—এই চার ধরনের পাহাড়ি খাবার পাওয়া যাচ্ছে এই ফুডকার্টে। প্রতি পদের খাবারের দাম মাত্র ৫০ টাকা। দাম কম হওয়ায় সব ধরনের ভোজনরসিকেরা এখানে পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে আসছেন।
মুংডি পাহাড়ি খাবারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ। সমতলের খাদ্যপ্রেমীদের কাছে মুংডি সহজলভ্য নয়। এ ছাড়া রাজধানীতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেলা কিংবা কোনো আয়োজন ছাড়া সচরাচর পাহাড়ি খাবার পাওয়া যায় না। আর দাম বেশি হওয়ায় রেস্তোরাঁগুলোতে মন চাইলেই যাওয়া হয়ে ওঠে না। পাহাড়ি খাবারের সঙ্গে শহুরের মানুষের পরিচয় করিয়ে দিতেই মুংডিকে স্ট্রিট ফুড হিসেবে এনেছেন পাহাড়ি খাবারের উদ্যোক্তারা।

‘পাহাড়ি খাবার’-এর কর্ণধারদের একজন জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এ উদ্যোগ গ্রহণের মূল ভাবনা হলো পাহাড়ি খাবারের সঙ্গে ঢাকার মানুষের সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়া। ঢাকার মানুষের সঙ্গে এই পাহাড়ি খাবারের পরিচয় করিয়ে দিতে চাই, যেন অন্তত কাউকে বলতে না হয়, ভাই মুংডি কী?’

বান্দরবান ঘুরতে গেলে শখ করে খাওয়া হয়। আর একান্তই খেতে মন চাইলে যেতে হবে নামীদামি কোনো রেস্তোরাঁয়, যেখানে সবার জন্য খাবারের মূল্য সুলভ না-ও হতে পারে। তাই পাহাড়ি খাবার স্ট্রিট ফুড হিসেবে পাওয়া সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন ভোজনরসিকেরা। খুব অল্প সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে বেশ সাড়া পেয়েছে এই পাহাড়ি খাবারের ফুডকার্ট। দাম কম হওয়ায় একবার হলেও চেখে দেখছেন অনেকে।
মুংডি মূলত বান্দরবানে স্থানীয়দের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। মুংডি রান্নার পদ্ধতি হচ্ছে, এটা হাতে বানানো আতপ চালের নুডলস, অথবা মেশিনেও বানানো হয়। এটাকে নুডলসের মতো গরম পানিতে সেদ্ধ করতে হয়। এরপর খাবারটা মোটামুটি প্রস্তুত হয়ে যায়। মুরগি দিয়ে তৈরি করে রাখা স্যুপটা নুডলসের ওপর দিয়ে দেওয়া হয়। স্বাদ বাড়াতে চিকেন, ডালের বড়া, ধনেপাতা, বেরেস্তা ছাড়াও স্পেশাল মসলা যোগ করা হয় এতে। সবশেষে যেটা অবশ্যই দেওয়া হয়, সেটা হলো লেবু। লেবু দিয়েই পরিবেশন করা হয়।

মুংডির পাশাপাশি ‘পাহাড়ি খাবার’-এ পাওয়া যাবে দুই ধরনের চিকেন সালাদ। ফ্রাইড চিকেন সালাদ, সেদ্ধ চিকেন সালাদ, যেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে তৈরি করা হয়। রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লেবুর সঙ্গে ভাজা কিংবা সেদ্ধ চিকেন মিশিয়ে হয় এই সালাদ।


জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, স্ট্রিট ফুড হিসেবে এই হেলদি খাবারগুলো আমরা দিতে চাই। আমরা যেমন হাসি মুখে খাবার পরিবেশন করতে চাই, ঠিক তেমনি আমাদের খাবার খেয়ে কাস্টমারের মধ্যে আনন্দ দেখতে চাই। পাহাড়ি খাবারের প্রতি মানুষজনের ভালোবাসা দেখে ভবিষ্যতে আরেকটি শাখা কার্ট করার চিন্তা করছেন নবীন এই উদ্যোক্তা।
ছবি: আশিকুর রহমান