রেনেসন্স ঢাকার আসিয়ান উইকেন্ড থিম নাইট: এক টেবিলেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রসনাভ্রমণ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

একটি দেশের সংস্কৃতিকে চেনার অনেক উপায় হল, তার সংগীত, পোশাক, স্থাপত্য কিংবা ভাষা। তবে ভ্রমণপ্রেমীরা জানেন, একটি দেশের সবচেয়ে আন্তরিক পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার রান্নায়। এক বাটি টম ইয়াম, ধোঁয়া ওঠা নাসি গোরেং, সিঙ্গাপুরের লাকসা কিংবা নারকেলের দুধে তৈরি কোনো মিষ্টান্ন শুধু ক্ষুধা মেটায় না; প্রতিটি পদ বহন করে শত শত বছরের ইতিহাস, সমুদ্রপথের বাণিজ্য, অভিবাসন, মসলা-পথের আদান-প্রদান এবং মানুষের জীবনযাপনের গল্প।

ফুড ফেস্টিভালের উদ্বোধন
ফুড ফেস্টিভালের উদ্বোধন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রন্ধনশৈলীও এমনই বহুমাত্রিক। ভারত, চীন, আরব ও ইউরোপীয় বণিকদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এই অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতি। তাই এখানকার রান্নায় যেমন পাওয়া যায় সুগন্ধি মসলার গভীরতা, তেমনি মেলে নারকেল দুধের কোমলতা, লেমনগ্রাসের সতেজ সুবাস, তেঁতুলের টক, মরিচের ঝাঁজ আর নানা ভেষজ উপাদানের অনন্য সমন্বয়। প্রতিটি দেশের স্বাদ আলাদা হলেও তাদের রন্ধন ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে এক অদৃশ্য সাংস্কৃতিক বন্ধন।

বিজ্ঞাপন

সেই স্বাদ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির গল্প এবার এক ছাদের নিচে নিয়ে এসেছে গুলশানের রেনেসন্স ঢাকা হোটেল। তাদের ‘আসিয়ান উইকেন্ড থিম নাইট’ শুধু একটি বুফে নয়; বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দশটি দেশের খাদ্যসংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ব্যতিক্রমী আয়োজন।

থাই গ্রিলড ফিস
থাই গ্রিলড ফিস

গত ৯ জুলাই হোটেলটির ‘বাহার’ রেস্তোরাঁয় শুরু হয়েছে এই বিশেষ ফুড ফেস্টিভাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত এইচ ই নগুয়েন মান কুয়ং, মালয়েশিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি হাজওয়ান এবং থাইল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ফাসিত চুধাবুদ্ধি। তাঁদের উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা ওঠে ‘আসিয়ান উইকেন্ড থিম নাইট’-এর।

বিজ্ঞাপন

রেনেসন্স ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, রেনেসন্সের মূল দর্শনই হলো ভ্রমণ, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করা। এই আয়োজন সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন।

সুশি স্টেশন
সুশি স্টেশন

‘বাহার’ রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করেই মনে হয় যেন ঢাকার ব্যস্ততা পেরিয়ে পৌঁছে গেছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো প্রাণচঞ্চল শহরে। আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, সঙ্গীত ও পরিবেশনায় রয়েছে আসিয়ান অঞ্চলের স্বতন্ত্র আবহ। অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন হোটেলের কর্মীরাও আসিয়ান দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী মোটিফ থেকে অনুপ্রাণিত পোশাকে। ফলে পুরো আয়োজনটি হয়ে উঠেছে কেবল খাবারের নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

মেনুতে স্থান পেয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও ব্রুনেইয়ের জনপ্রিয় নানা পদ। লাইভ কুকিং স্টেশন, সি-ফুড গ্রিল, সুগন্ধি কারি, বিভিন্ন ধরনের নুডলস ও রাইস, স্ট্রিট ফুড, ট্রপিক্যাল পানীয়, ভিয়েতনামী বান এবং ঐতিহ্যবাহী ডেজার্ট—সব মিলিয়ে এটি শুধু পেট ভরানোর আয়োজন নয়; বরং এক দেশ থেকে আরেক দেশের রসনাভ্রমণের সুযোগ।

গ্রিলড ডাক
গ্রিলড ডাক

বিশেষ আকর্ষণ ছিল লাইভ কুকিং স্টেশন। অতিথিদের সামনেই দক্ষ শেফদের হাতে তৈরি হচ্ছিল প্রতিটি পদ। থাই ডেজার্ট ম্যাংগো–স্টিকি রাইস–কোকোনাট মিল্ক থেকে গ্রিলড ডাক—প্রতিটি পরিবেশনেই ছিল তাজা উপকরণ, স্বাদের নিখুঁত ভারসাম্য এবং ঐতিহ্যবাহী রেসিপির প্রতি বিশ্বস্ততা। নতুন স্বাদসন্ধানীদের জন্য এটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি যারা আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন, তাঁদের জন্য অনেক পদই ফিরিয়ে আনবে পুরোনো ভ্রমণের স্মৃতি।

আয়োজনটি চলবে আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত, প্রতি বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার ‘বাহার’ রেস্তোরাঁয়। জনপ্রতি দিতে হবে ৩ হাজার ৯৫০ টাকা (নেট)। নির্বাচিত ব্যাংকের কার্ডধারী, জিপি স্টার, বাংলালিংক অরেঞ্জ ক্লাব, রবি এলিট সদস্য এবং গ্রুপ বুকিংয়ে থাকছে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়।

সব ভ্রমণের জন্য যে বিমানের টিকিট প্রয়োজন হয়, তা নয়। কখনো কখনো একটি ডাইনিং টেবিলও আপনাকে নিয়ে যেতে পারে হাজার মাইল দূরের কোনো সংস্কৃতির খুব কাছে। রেনেসন্স ঢাকা গুলশানের ‘আসিয়ান উইকেন্ড থিম নাইট’ ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রতিটি পদ শুধু খাবার নয়—একটি দেশের ইতিহাস, মানুষ ও সংস্কৃতির জীবন্ত গল্প।

ছবি: হাল ফ্যাশন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৪: ১০
বিজ্ঞাপন