ফ্লেভার্স অব মালয়েশিয়া: ক্রাউন প্লাজা গুলশানে মালাক্কান স্বাদের চমক
শেয়ার করুন
ফলো করুন

রোজা উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকায় চলছে সপ্তাহব্যাপী মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলীর “ফ্লেভার্স অব মালয়েশিয়া: রমজান বুফে ২০২৬”। ঢাকার মালয়েশিয় দূতাবাসের উদ্যোগে এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের সহযোগিতায় ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। ২৬ মার্চ বিকেলে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিশর, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, কর্পোরেট কর্মকর্তা, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি এবং অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফ্লেভার্স অব মালয়েশিয়ার সূচনা অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে, মালয়েশিয় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান ও অতিথি
ফ্লেভার্স অব মালয়েশিয়ার সূচনা অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে, মালয়েশিয় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান ও অতিথি

মালয়েশিয় রাষ্ট্রদূত বলেন, এই আয়োজন কেবল ইফতার বুফে নয় এটা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক। মালয়েশিয়ার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তথা মালয়, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান ও আদিবাসী ঐতিহ্যের সম্মিলনকে এই আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকার অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই উদ্যোগ ভিজিট মালয়েশিয়া ইয়ার ২০২৬–এর প্রচারণার অংশ, যেখানে মালয়েশিয়ার কালিনারি ঐতিহ্যকে সে দেশের পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচয় করানো হচ্ছেও বলে জানান তিনি এবং প্রত্যাশা করেন এ বছর বাংলাদেশ থেকে অন্তত তিন লাখ পর্যটক মালয়েশিয়া ভ্রমণ করবেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা
অনুষ্ঠানে অতিথিরা

কালিনারি টিমের নেতৃত্বে দিচ্ছেন প্রফেসর ড. শারিম করিম। তিনি ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ার মালয়েশিয়ান হেরিটেজ ফুড অ্যান্ড কালচারের অধ্যাপক এবং ঐতিহ্যবাহী মালয়েশিয়ান রান্নার স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। তিনি মালয়েশিয়ার রন্ধন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়োজিত আছেন এবং শতাধিক প্রবন্ধ ও একাধিক বই লিখেছেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শেফ জুলকিফলি বিন আবদুল, যিনি আতিথেয়তা শিল্পে তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ রন্ধনবিশেষজ্ঞ। “ফুড ইঞ্জিনিয়ার” হিসেবে পরিচিত এই শেফ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক শেফ হিসেবে কর্মরত।

ইফতারে মিলবে মালক্কান স্বাদ
ইফতারে মিলবে মালক্কান স্বাদ

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে বলেন, “আমরা অর্থবহ সংযোগ, স্মরণীয় অভিজ্ঞতা এবং অতিথিদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু দেওয়ায় বিশ্বাস করি। মালয়েশিয় হাইকমিশনের সঙ্গে এই আয়োজন বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা গর্বিত।”

‘ফ্লেভার্স অব মালয়েশিয়া’ বুফের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক কন্টিনেন্টাল খাবারও উৎসব চলাকালে পাওয়া যবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই বিশেষ বুফেতে পরিবেশিত হবে অথেনটিক মালয়েশিয়ান খাবার, যা তৈরি করা হচ্ছে মালয়েশিয়া থেকে আসা দুজন খ্যাতনামা শেফের তত্ত্বাবধানে। এটা কেবল ব্যতিক্রমী ইফতার অভিজ্ঞতা নয়, বরং মালয়েশিয়ার বহুসাংস্কৃতিক খাদ্য ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা হয়ে উঠেছে। এসব পদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে সব মসলা মালেশিয়া থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে কথা হয় শেফ জুলফিকার বিন আবদুলের সঙ্গে। তিনি জানান, মালেশিয়া বহুসংস্কৃতির দেশ হওয়ায় একেক অঞ্চলের খাবার একেক রকম। মালাক্কান প্রণালী ধরে কখনো এসেছে ভারতীয়, কখনো চৈনিক, কখনো আবার আরবরা; তারা মিলেছে স্থানীয় আদিবাসিদের সঙ্গে। এভাবে তৈরি হয়েছে বহুসংস্কৃতির সমাজ। সেই সম্মিলনের প্রভাব পড়েছে রন্ধনশৈলীতেও। এজন্যই মালেশিয়ার ইফতারে আছে ভিন্নতা। মালেশিয়ান ইফতারের মূল উপাদানের কথা জিজ্ঞেস করলে শেফ জানান, নারকেল, পাম সুগার, বিভিন্ন ধরনের হার্ব ও মসলা; বিশেষত মরিচ, বিভিন্ন রকমের চাল উল্লেখ্যযোগ্য। সূচনাদিনের ইফতারে মূলত ভারতীয়দের অভিবাসীদের অনুপ্রানিত পদের দেখা মিলেছে।

উৎসবের দিনগুলোর একেকদিন একেক অঞ্চলের পদ পর্যায়ক্রমে পরিবেশন করা হবে। এদিনের মেন্যুতে ছিলো সাগু গলু মালেকা (টপিকাল পারলস উইদ কোকোনাট পাম সুগার), রাইস পুডিং, আরমানি তাব্বুলেহ, আর্টিচোকে অ্যান্ড ইয়োগার্ট, রোস্টেড পামকিন উইদ ফেতা চিজ, কোরগেতিস উইদ ভিনেগার মিন্ট অ্যান্ড গার্লিক, সাইয়র ক্যাম্পুর (স্টার ফ্রায়েড মিক্সড ভেজিটেবল), ভেজিটেবল ফ্রিটাস, কেরাবু মাংগা (গ্রিন ম্যাঙ্গো সালাদ), লবস্টার কারি, ঘি পোলাও, বিশেষ সুপ মি সোতো আয়ামসহ অন্যান্য পদ।

নানা স্বাদের সমাহার
নানা স্বাদের সমাহার

হোটেলের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, অতিথিদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ। র্যাফেল ড্রয়ে বিজয়ী পাবেন ঢাকা–কুয়ালালামপুর–ঢাকা বিমান টিকিট। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়া হাইকমিশন এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ছবি: হাল ফ্যাশন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ২৬
বিজ্ঞাপন