
কারি মানেই শুধু ঝাল-মসলার রান্না নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস। সেই বৈচিত্র্যের স্বাদ এক জায়গায় তুলে ধরেছে উত্তরার হায়াত প্লেসের ‘ইন্টারন্যাশনাল কারি ফেস্টিভ্যাল’। ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই উৎসব চলছে হোটেলটির জিং রেস্তোরাঁয়।

ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—অঞ্চলভেদে কারির উপকরণ, রান্নার কৌশল ও স্বাদে রয়েছে বৈচিত্র্য। কোথাও পেঁয়াজ-টমেটোর ঘন মসলা, কোথাও নারকেলের দুধ, আবার কোথাও ভাজা মসলা, মরিচ ও টক স্বাদের প্রাধান্য।
উৎসবে ভারতের বালতি চিকেন, চিকেন ভিন্দালু ও পনির বাটার মাসালা যেমন রয়েছে, তেমনি পাকিস্তানের বিফ পেশোয়ারি, বাংলাদেশের বাঁশ দিয়ে হাঁস, শ্রীলঙ্কার ব্ল্যাক চিকেন কারি এবং বার্মিজ ফিশ কারিও রয়েছে। মালয়েশিয়ান চিকেন রেনড্যাং ও পেনাং চিকেন কারির মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় পদও তালিকায় জায়গা পেয়েছে। সিঙ্গাপুরিয়ান চিলি ক্র্যাব কারি যোগ করেছে সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ।

কারির ইতিহাসও এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে জড়িত। ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক রান্নার ঐতিহ্য ও উপকরণ থেকে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মসলাদার পদ। ‘কারি’ শব্দটি ইউরোপীয় বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও ঔপনিবেশিক ইতিহাসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পায়। তবে একই নামের আড়ালে বিভিন্ন অঞ্চলের রান্নার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আলাদা।

উৎসবে আছে ছিল পাকিস্তানি স্টাইলের চিকেন স্যুপ। রোস্টের স্বাদের সঙ্গে জায়ফল, জয়ত্রী ও কালো এলাচের সুগন্ধ স্যুপটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি ছিল সবজি দিয়ে তৈরি ভেজিটেবল কারি স্যুপ।

স্টার্টারের তালিকায় ছিল কাশ্মীরি চিকেন কাবাব, ভেজিটেবল কারি কিশ, চিকেন সিক্সটি ফাইভ উইথ কারি মেয়ো, চিকেন মাদ্রাজ রোলস ও মুঘলাই চিকেন শিক কাবাব। পরিচিত খাবারের সঙ্গে মসলার ভিন্ন ব্যবহার ও পরিবেশনা এখানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কারির স্বাদ উপভোগে তার সঙ্গে পরিবেশিত খাবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবে ছিল সুগন্ধি বাসমতি চালের ভাত এবং বসনিয়া রোটি ও কালাই রোটি।

বিফ পেশোয়ারি, পেনাং চিকেন কারি ও পনির বাটার মাসালা বাসমতি ভাতের সঙ্গে ভালো মানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বাঁশ দিয়ে হাঁসের সঙ্গে বসনিয়া রুটির সমন্বয় ছিল উল্লেখযোগ্য। রুটির হালকা মিষ্টি স্বাদ হাঁসের মসলাদার কারির ঝালের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করেছে।

এ ছাড়া ছিল মিক্সড কারি ভেজিটেবল, ভেজিটেবল কারি লাকসা, বার্মিজ ফিশ কারি উইথ ট্যামারিন্ড, শ্রীলঙ্কান ব্ল্যাক চিকেন কারি ও মালয়েশিয়ান চিকেন রেনড্যাং। একেকটি পদের স্বাদে কোথাও নারকেলের কোমলতা, কোথাও টক স্বাদ, আবার কোথাও ভাজা মসলার গভীরতা পাওয়া যায়।
একসঙ্গে অনেক পদ চেখে দেখার বদলে কয়েকটি বেছে নিয়ে ভাত বা রুটির সঙ্গে ধীরে ধীরে খেলে স্বাদের পার্থক্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব।
মিষ্টিমুখে দেশি-বিদেশি আয়োজন

খাবারের শেষ পর্বে ছিল দেশি ও আন্তর্জাতিক ধাঁচের নানা মিষ্টান্ন। মতিচুরের লাড্ডু, গোলাপজামুন, ফিরনি, ক্ষীর ও রসগোল্লার পাশাপাশি ছিল কেক, পেস্ট্রি, মুস ও ব্লুবেরি ইয়োগার্ট। ফলে পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টিমুখের সুযোগও রয়েছে।
• স্থান: জিং রেস্তোরাঁ, হায়াত প্লেস ঢাকা উত্তরা
• সময়: প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট
• শেষ দিন: ২৪ অক্টোবর ২০২৬
• মূল্য: জনপ্রতি ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা নেট
• অফার: নির্ধারিত শর্তে একটি কিনলে দুটি এবং একটি কিনলে তিনটি বিনা মূল্যে পাওয়ার অফার রয়েছে। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিনা মূল্যে সুইমিং পুল ব্যবহারের সুবিধাও থাকছে।
কারিপ্রেমীদের জন্য উৎসবটি বিভিন্ন দেশের রান্নার স্বাদ একসঙ্গে আবিষ্কারের সুযোগ। পদসংখ্যার বিশাল আয়োজনের বদলে এখানে গুরুত্ব পেয়েছে নির্বাচিত কারির বৈচিত্র্য এবং ভাত-রুটির সঙ্গে সেগুলোর স্বাদ উপভোগের অভিজ্ঞতা। তবে উৎসবটি শেষ হচ্ছে ২৪ অক্টোবর—নতুন স্বাদ চেখে দেখতে চাইলে হাতে সময় আর বেশি নেই।
ছবি: হাল ফ্যাশন