
স্টেকপ্রেমীদের জন্য মাংসের স্বাদ আর লাইভ মিউজিককে একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ‘মিটস অ্যান্ড বিটস আনলিমিটেড’। ২০২৫ সালে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর এবার দ্বিতীয় পর্বে আয়োজনটি আরও বড় পরিসরে সাজিয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা ও বেঙ্গল মিট। ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার সিগনেচার স্টেকহাউস অ্যাম্বার রুমে চলবে এই বিশেষ আয়োজন।

২০ আগস্ট সন্ধ্যায় আয়োজনটির উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াসিফ, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, বেঙ্গল মিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম আসিফ, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার মহাব্যবস্থাপক ডেভিড ও’হ্যানলন, এক্সিকিউটিভ শেফ জুলিয়ান শীতল বোটলেরো, পরিচালক বিপণন সাদমান সালাহউদ্দিনসহ হোটেলের কর্মকর্তারা, লাইফস্টাইল সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অ্যাম্বার রুমে ঢুকতেই চোখে পড়ে ফাইন ডাইনিংয়ের পরিপাটি আয়োজন। দেয়ালে কাউবয় থিমের ফ্রেম, নরম আলো আর আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে অন্যরকম আবহ। তবে সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ অবশ্যই খাবার।

লাইভ কার্ভিং স্টেশনে অতিথিদের সামনে কেটে পরিবেশন করা হচ্ছিল একের পর এক স্টেক। প্রাইম রিব, ব্রিস্কেট, শর্ট রিবস, টেন্ডারলোইন, রিব-আই, টি-বোন, স্ট্রিপলোইন ও ব্রোচেট—বৈচিত্র্যময় কাটের পাশাপাশি ছিল ক্রিম অব চিকেন ও ক্রিম অব পাম্পকিন স্যুপ।
স্টেকের বৈচিত্র্য শুধু কাটে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি কাটের স্বাদকে আলাদা করে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে ভিন্ন ম্যারিনেশন, রান্নার পদ্ধতি ও সস। হল্যান্ডেজ, মাশরুম, পেপার, বারবিকিউ, চিমিচুরি এবং গ্রিলড আনারস সালসার মতো সস থেকে পছন্দমতো বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল অতিথিদের। লবণ ও গ্রিলড রসুনের মতো সহজ অনুষঙ্গও মাংসের স্বাদকে করেছে আরও গভীর।

স্টেকের সঙ্গে আছে বেশ বড়সড় সাইড ডিশের আয়োজন। ম্যাশড পটেটো, জ্যাকেট পটেটো, গ্রিলড সবজি, ইয়র্কশায়ার পুডিং, টমেটো ক্রিম সসে পেনি পাস্তা, স্যাফরন রাইস ও চিকেন সালাদ উল্লেখযোগ্য। কোল্ড স্টেশনে ছিল বিভিন্ন ধরনের সালাদ, কোল্ড কাট ও অ্যাপেটাইজার। স্যুপ স্টেশনে আছে ল্যাম্ব স্টু ও ভেজিটেবল স্টু। সঙ্গে ছিল নানা ধরনের ব্রেড ও মাখন।
ডেজার্টেও আছে বৈচিত্র্য। পেস্ট্রি, ব্রাউনি, পুডিং ও রেড ভেলভেট কেকসহ নানা মিষ্টান্ন দিয়ে সাজানো হয়েছে ডেজার্ট কর্নার। ফলে শুরু থেকে ডেজার্ট পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ডাইনিং অভিজ্ঞতার সুযোগ থাকছে অতিথিদের জন্য।

আয়োজনের বিশেষত্ব সম্পর্কে এক্সিকিউটিভ শেফ জুলিয়ান শীতল বোটলেরো বলেন, একই ধরনের মাংসের কাট হলেও রান্নার ধরন, ম্যারিনেশন, তাপমাত্রা ও পরিবেশনের ভিন্নতায় স্বাদে বড় পার্থক্য তৈরি হয়। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রতিটি কাটের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে মেন্যু সাজানো হয়েছে।
তিনি জানান, আয়োজনে বেঙ্গল মিটের মাংস ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর মান নিয়ে দেশি-বিদেশি অতিথিদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন তারা।
গত বছরের সাফল্য এবারের আয়োজনের প্রত্যাশাও বাড়িয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ‘মিটস অ্যান্ড বিটস’ মাত্র দুই দিনের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায়। অতিথিদের আগ্রহের কারণে আয়োজনের সময় আরও দুই দিন বাড়ানো হলেও সেই সময়ও দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আয়োজনটি আরও বড় পরিসরে করা হয়েছে।
খাবারের সঙ্গে প্রতি সন্ধ্যায় থাকছে লাইভ মিউজিক। ফলে অ্যাম্বার রুমে শুধু প্লেটে স্টেক নয়, থাকছে সুরের আবহও। একদিকে শেফের হাতে তৈরি স্টেক, অন্যদিকে লাইভ মিউজিক—সব মিলিয়ে নৈশভোজের চেনা অভিজ্ঞতায় যোগ হচ্ছে উৎসবের আমেজ।

রাতের এই আয়োজনের মূল্য জনপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেট। নির্বাচিত ব্যাংক কার্ডে থাকছে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ সুবিধা। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের কার্ড না থাকলেও আইএইচজি ওয়ান রিওয়ার্ডসে যোগ দিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এবং বিশ্বের অংশগ্রহণকারী আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসে খাবার ও পানীয়তে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে।
স্টেকের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এই আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শব্দটি হয়তো ‘আনলিমিটেড’। পছন্দের কাট, সস ও সাইড ডিশ যতবার ইচ্ছা উপভোগ করার সুযোগের পাশাপাশি এখানে খাবারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একটি সম্পূর্ণ সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা।

অ্যাম্বার রুমে বসে সামনে স্টেক কার্ভিং, গ্রিল করা মাংসের ঘ্রাণ, পছন্দের সস আর লাইভ মিউজিক—সব মিলিয়ে ‘মিটস অ্যান্ড বিটস আনলিমিটেড’ শুধু পেট ভরানোর আয়োজন নয়; বরং স্টেককে কেন্দ্র করে একটি সন্ধ্যাকে স্মরণীয় করে তোলারই আয়োজন।