
শাহরুখ খানের স্ত্রী হিসেবে গৌরী খানকে চেনেন সবাই। কিন্তু গত কয়েক বছরে নিজের পরিচয়টি তিনি তৈরি করেছেন অন্য এক জগতে—ইন্টেরিয়র ডিজাইনে। তাই টোরিইর অন্দরসজ্জায় তাঁর ছাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। বরং বলা যায়, রেস্তোরাঁটি তাঁর নকশার ভাবনারই এক ধরনের প্রকাশ।

শাহরুখ খানের স্ত্রী হিসেবে গৌরী খানকে চেনেন সবাই; কিন্তু গত কয়েক বছরে নিজের পরিচয়টি তিনি তৈরি করেছেন অন্য এক জগতে—ইন্টেরিয়র ডিজাইনে। তাই টোরিইর অন্দরসজ্জায় তাঁর ছাপ থাকাটাই স্বাভাবিক; বরং বলা যায়, রেস্তোরাঁটি তাঁর নকশার ভাবনারই একধরনের প্রকাশ।

প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে তৈরি টোরিইতে একসঙ্গে বসতে পারেন ৮২ জন। পুরো জায়গাকে ভাগ করা হয়েছে তিনটি অংশে। প্রবেশমুখের গাঢ় সবুজ বড় দরজাটি প্রথমেই নজর কাড়ে। ভেতরে রয়েছে প্রশস্ত লাউঞ্জ, দ্বীপাকৃতির বার; আর বাইরে খোলামেলা ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা। সবুজ গাছপালা আর বড় আয়না সেখানে যোগ করেছে অন্য রকম আবহ।

ইনডোর অংশে আবার বদলে যায় দৃশ্যপট। লাল টেবিল, পুরোনো আবহের আয়নাযুক্ত ছাদ আর ব্রোঞ্জের নানা নকশায় তৈরি হয়েছে আধুনিকতার সঙ্গে আভিজাত্যের মিশেল। গৌরীর নিজের ভাষায়, তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে পরিশীলিত সৌন্দর্য অনুভব করা যায়।

আজকের ফাইন-ডাইনিং শুধু ভালো খাবারের নাম নয়, মানুষ সেখানে যায় একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য। টোরিই যেন সেই ধারণাকেই আরও একটু এগিয়ে নিয়েছে। এখানে আলো, আসবাব, আয়না, রং আর খাবার—সবকিছু মিলে তৈরি হয়েছে একটি নির্দিষ্ট আবহ।

গৌরীর ডিজাইনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এখানেই—কোনো কিছুই খুব বেশি বলে মনে হয় না; বরং প্রতিটি উপাদান নিজের জায়গায় থেকে পুরো পরিবেশকে সম্পূর্ণ করে। ফলে খাবার আসার আগেই রেস্তোরাঁর নান্দনিকতা অতিথির অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে যায়।

অন্দরসজ্জা যতই নজর কাড়ুক, টোরিইর আসল পরিচয় অবশ্য এর খাবার। এখানে মূলত প্যান-এশিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাদ ও উপকরণকে আধুনিক পরিবেশনার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে মেনু।

কোকোনাট অ্যাম্বার স্যামনে ধোঁয়াটে স্বাদের সঙ্গে লেবুজাতীয় সতেজতা।

ডার্টি ট্রাফল মাকি রোল ট্রাফলপ্রেমীদের জন্য সমৃদ্ধ স্বাদের সিগনেচার সুশি;

আর হটপট রাইস তৈরি হয় তানাফুজি চাল, মাশরুমের স্টক, ব্ল্যাক শোয়ু ও ভাজা মাশরুম দিয়ে; পাথরের পাত্রে ধোঁয়া ওঠা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়।

টোরিইতে কিছু খাবার শুধু পরিবেশন করা হয় না; বরং পরিবেশনের মধ্যেও তৈরি করা হয় অভিজ্ঞতা। টোরিই স্টেক তারই উদাহরণ। অতিথির টেবিলের সামনে সরাসরি আগুন জ্বালিয়ে পরিবেশন করা হয় এটি।

ট্রাফল চিকেন রামেন আসলে ঘন উমামি স্বাদের স্যুপের সঙ্গে নরম নুডলস ও সুগন্ধি ট্রাফল; আর কর্ন রিবস-এ ভিন্নধর্মী উপকরণের ব্যবহার খাবারের তালিকায় যোগ করেছে নতুনত্ব।


ডামপলিংপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ট্রাফল এডামামে ডাম্পলিং, হালাপেনিও কটেজ চিজ ডামপলিং, স্পাইসি চিকেন গিয়োজা ও পর্ক গিয়োজা। হাতে তৈরি এসব ডাম্পলিং ভাপে কিংবা ভেজে পরিবেশন করা হয়।


খাবারের শেষটা মিষ্টি না হলে যেন গল্পটাও সম্পূর্ণ হয় না। টোরিইর ডেজার্টের তালিকায় আছে জনপ্রিয় স্টিকি টফি পুডিং এবং ইস্টার্ন ব্রিজ পারফে। দুটিই রেস্তোরাঁটির মেনুতে মিষ্টিমুখের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।

টোরিইর গল্প অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালে পালি হিলে যাত্রা শুরু করেছিল রেস্তোরাঁটি। পরে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে গৌরী খানের উদ্যোগে নতুন সাজে আবার খুলে যায় এর দরজা। শুধু সাজেই নয়, নামেও আসে সামান্য পরিবর্তন—আগের ‘টোরি’ হয়ে যায় ‘টোরিই’।


তারপর থেকে মুম্বাইয়ের ভোজনপ্রেমীদের কাছে জায়গাটি তৈরি করেছে আলাদা আকর্ষণ। বিটাউনের তারকাদের আনাগোনাও এখানে নিয়মিত দৃশ্য। তবে টোরিইকে শুধু তারকাদের রেস্তোরাঁ বললে তার গল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
কারণ, টোরিই আসলে আজকের শহুরে বিলাসিতার নতুন সংজ্ঞাটিই তুলে ধরে। যেখানে দামি খাবারের সঙ্গে মাত্রাযোগ পরিবেশ, নকশা, অভিজ্ঞতা এবং একটি নির্দিষ্ট জীবনযাপনের স্বপ্ন।

গৌরী খান সেই স্বপ্নকে নকশায় ধরেছেন; আর টোরিই সেটিকে তুলে দিয়েছে খাবারের টেবিলে।
একটি সবুজ দরজা দিয়ে শুরু হওয়া সেই অভিজ্ঞতা তাই শুধু পেট ভরায় না, চোখ ও মনকেও একটু অন্য স্বাদের গল্প শুনিয়ে যায়।
ছবি: টোরিই পিআর ও ইন্সটাগ্রাম