
শহরের ব্যস্ততার ভিড়ে খাবারের জন্য নতুন জায়গা খুঁজে বের করা এখন অনেকের কাছে এক ধরনের আনন্দ। বিশেষ করে বসুন্ধরা আবাসিকের অভিজাত এলাকায়। যেখানে সপ্তাহান্তে বা সন্ধ্যার আড্ডা জমে ওঠে পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভিন্ন স্বাদের খাবার উপভোগ করতে করতে। ঠিক এমন এক অভিজ্ঞতা উপহার দিতে হাজির ‘আপস্টেয়ার্স ফুড কোর্ট’। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফুড কোর্টটি ইতিমধ্যে একটি প্রাণবন্ত ও আধুনিক খাবার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কেননা এখানে রয়েছে খাবারের বৈচিত্র্য, আরামদায়ক পরিবেশ ও আড্ডার উচ্ছ্বাস। সব মিলেয়ে এক অনন্য রূপ পেয়েছে ‘আপস্টেয়ার্স ফুড কোর্ট’।

‘আপস্টেয়ার্স ফুড কোর্ট’ শুধু একটি খাবারের জায়গা নয়, এটি এক রঙিন মিলনমেলা। এককথায় বলা যায় ‘ইনস্টাগ্রামেবল ফুড কোর্ট’। জেন-জিরা তাদের পছন্দের হ্যাংআউট প্লেসকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এই ট্রেন্ডিং শব্দটি বেশি ব্যবহার করে। ‘ইনস্টাগ্রামেবল’ বলতে তারা বোঝায়। এমন একটি ফুড কোর্ট বা রেস্তোরাঁ যেটি দেখতেও আকর্ষণীয় এবং ছবি তোলার উপযোগী। এটি শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ বা মানের ওপর নির্ভর করে না, বরং পুরো অভিজ্ঞতা-পরিবেশ, সাজসজ্জা, লাইটিং, টেবিলের স্টাইল, ওয়াল আর্ট, ওপেন স্পেস, কিংবা থিম। সব মিলিয়ে এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যেন অতিথিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করতে উৎসাহী হয়।

সে দিক থেকে ‘আপস্টেয়ার্স ফুড কোর্ট’কে এই শব্দের সঙ্গে অনেকটাই পারফেক্ট ম্যচ বলা যায়। কেননা আপস্টেয়ার্সের রয়েছে ভিজ্যুয়াল আপিল। অর্থাৎ সুন্দর ডেকর, লাইটিং ও টেবিলে সাজানো। খাবারের পরিবেশনা ফটো ফ্রেন্ডলি: কেক, কফি, ডেজার্ট বা খাবারের প্লেট এমনভাবে সাজানো যা ছবিতে সুন্দর দেখায়। থিম ভিত্তিক ইন্টেরিয়র: বিশেষ থিম, ওয়াল আর্ট, গ্রিনারি বা খোলা বারান্দা। যা ছবি তুলতে আকর্ষণীয়। এই সব মিলিয়ে আপস্টেয়ার্স ফুড কোর্টকে বলা যায় ইনস্টাগ্রামেবল।

এছারাও এখানে রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, যেখানে পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসা যায়। যারা একটু আড়াল চান, তাদের জন্য আছে আলাদা লাউঞ্জ। আবার কাজের ফাঁকে যারা কফি হাতে ল্যাপটপ খুলে বসতে চান, তাদের জন্য রয়েছে কাজ করার কর্নার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো খোলা বারান্দা, যেখানে খোলা আকাশের নিচে বসে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা ঢাকার অন্য খাবার কেন্দ্র থেকে আপস্টেয়ার্স-কে আলাদা করে তোলে।

এখানে এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে পনেরোটি রেস্টুরেন্ট। যেগুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় নিয়ে আসে বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব। প্রতিটি রেস্টুরেন্টের রয়েছে সত্বন্ত্র বৈশিষ্ট।
১. চিকিং। আন্তর্জাতিক মানের ফ্রাইড চিকেনসহ ঝটপট খাবারের জন্য জনপ্রিয়।
২. টেস্টি বাইট। স্ন্যাক্স আর ফিঙ্গার ফুডের জন্য সবার দারুণ পছন্দের।
৩. আদিল সুগার ভ্যালি। ডেজার্টপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য।
৪. বেভারেজ কর্নার। ঠান্ডা পানীয়, কফি, জুস সব মিলিয়ে ক্রেতাদের মুহূর্তেই করে তুলবে চাঙা।
৫. গ্র্যান্ড বিস্ট্রো। ফিউশন খাবার আর কন্টিনেন্টাল আয়োজনের বিশেষ ঠিকানা।
৬. গ্রিডেল। গ্রিল আইটেমের জন্য আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
৭. গ্রিন বিন। স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য সালাদ ও সবজিভিত্তিক খাবারের আয়োজন।

৮. নুন। দেশি খাবারের স্বাদ যারা মিস করতে চান না, তাদের জন্য।
৯. দি ডাম্পলিং হাট। এশীয় ধাঁচের ডাম্পলিং ও স্যুপপ্রেমীদের প্রিয় জায়গা।
১০. দালাস এক্সপ্রেস। টেক্স-মেক্স স্বাদ ও আন্তর্জাতিক খাবারের মিশ্রণ।
১১. টোকিও কর্নার। জাপানি খাবারের অনন্য আয়োজন।
১২. ফ্লেভার হাব। নানা স্বাদের মিশ্রণে তৈরি পদ, সত্যিই নামের মতোই স্বাদ সমৃদ্ধ।
১৩. টাং টুইস্ট। মসলাদার খাবার পছন্দকারীদের জন্য সেরা ঠিকানা।
১৪. দি টেস্টি অ্যাপ্রোন। এশিয়ান কুজিনের আভিজাত্যময় উপস্থাপনা।
১৫. ফ্রিতো। ফ্রাইড ও ক্রিসপি খাবারের জন্য আদর্শ।

যারা সন্তানদের নিয়ে আসেন, তাদের জন্য আপস্টেয়ার্স আদর্শ জায়গা। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা খেলার স্থান, যেখানে বাচ্চারা খেলায় মেতে উঠতে পারে, আর অভিভাবকেরা নিশ্চিন্তে খাবার উপভোগ করতে পারেন।
বন্ধুদের আড্ডা জমানোর পর্যাপ্ত জন্য জায়গা, খোলা বারান্দা রয়েছে এখানে। সঙ্গে ঝালমশলাদার গ্রিল বা ঝটপট ফাস্টফুড, যে কোনো ধরনের আড্ডাকে জমিয়ে তোলে। কাজের ফাঁকে যারা কফি হাতে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য আপস্টেয়ার্স সত্যিই আরামদায়ক।

বিভিন্ন মাধ্যম ও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, আপস্টেয়ার্স-এর খাবারের মান ভালো এবং বৈচিত্র্যময়। তবে দাম কিছুটা বেশি বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। কেউ বলেছেন, “খাবারের মান ভালো, কিন্তু দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।” আবার অনেকে জানিয়েছেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা এবং পারিবারিক পরিবেশ আপস্টেয়ার্স-কে আলাদা মান দিয়েছে।

বৈচিত্র্যময় খাবার: ১৫টি ভিন্ন রেস্টুরেন্টের ভিন্ন ভিন্ন খাবার এক জায়গায়।
আরামদায়ক পরিবেশ: বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, খোলা বারান্দা ও লাউঞ্জ।
পরিবারবান্ধব: বাচ্চাদের জন্য খেলার জায়গা।
আধুনিক সুবিধা: ওয়ার্কিং স্পেস ও ল্যাপটপ ব্যবহার উপযোগী বসার ব্যবস্থা।
ঢাকায় এখন অনেক খাবার কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, তবে ‘আপস্টেয়ার্স ফুড কোর্ট’ তাদের পরিবেশ, বৈচিত্র্য আর পরিকল্পনার কারণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মী সবার জন্যই এখানে রয়েছে বিশেষ কিছু।
ছবি: আপস্টেয়ার্স ফুড কোর্ট