
বিশ্বজুড়ে প্রচুর খেজুর খাওয়া হয় এবং ফেলে দেওয়া হয় এর বীজ। অথচ এই বীজ রোস্ট করে বানানো ডেট সিড কফি ক্যাফেইনমুক্ত এবং অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পান করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে কফির বিকল্প হিসেবে ও ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের নিরিখে বহুল আলোচিত এই উষ্ণ পানীয়।

খেজুর খাওয়ার চল আছে কমবেশি সব পরিবারেই। আর পবিত্র রমজান মাসে তো ইফতারপর্ব শুরুই হয় খেজুর খেয়ে। অতঃপর বর্জ্য হিসেবে সবাই এর বীজটি ফেলে দেন। অথচ এ এক মস্ত পুষ্টিখনি! ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল—কী নেই এতে? আপাত নগণ্য এই বীজ বিধিমতো গুঁড়া করে খেয়ে আমরা নিশ্চিত করতে পারি নিজের এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য। এমনকি মুক্তি পেতে পারি বিচিত্র স্বাস্থ্যজটিলতা থেকে। তা-ই শুধু নয়, কফিপ্রেমীদের কাছে এটা হতে পারে দারুণ এক বিকল্প। আসুন জেনে নিই খেজুরের বীজের স্বাস্থ্য-হিতকর গুণাগুণ আর তা সংরক্ষণ করে খাওয়ার উপায়।
আঁশের সমৃদ্ধ উৎস, কোষ্ঠবদ্ধতার দাওয়াই
খেজুরের আঁটির মতো একটা শক্ত জিনিস, তাতেও কিন্তু আছে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ। আশ্চর্য নয়তো কী! আরও বিস্ময়ের হলো, মূল খেজুরের চেয়ে এর আঁটিতেই বরং আঁশের পরিমাণ বেশি। খাদ্য আঁশ দুই প্রকার—সল্যুবল বা (পানিতে) দ্রাব্য আর ইনসল্যুবল বা অদ্রাব্য আঁশ। স্বাস্থ্যের পক্ষে দুই-ই ভালো। প্রথমটি কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে, সেই সঙ্গে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে বলে ডায়াবেটিস উপশমে সহায়ক। দ্বিতীয়টি রেচনক্রিয়া ত্বরান্বিত করে, তাই কোষ্ঠবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর। পাশাপাশি কিছু উপকারী অণুজীবের বিস্তার এবং ক্ষতিকর অণুজীবের বিনাশ ঘটায় বলে পাকস্থলীসহ গোটা পরিপাকতন্ত্রও থাকে ভালো। একে তাই প্রি-বায়োটিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

খেজুরের বীজে মেলে দুই ধরনেরই ফাইবারই। বিভিন্ন মাত্রায়, খেজুরের প্রজাতি ভেদে একেক রকম। তবে বেশি থাকে হেমিসেলুলোজ, সেলেুলোজ, লিগনিনের মতো অদ্রাব্য আঁশ। ১০০ গ্রাম খেজুরের বীজে প্রায় ৬৫ গ্রাম পর্যন্ত আঁশ পাওয়া যায়, মতান্তরে আরও বেশি। কোনো কোনো গবেষণায় এর পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ৭৫ গ্রাম।
সাধারণভাবে সুস্থতা বজায় রাখার জন্য খাদ্য আঁশ এমনই এক দরকারি উপাদান যে শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর রয়েছে এর উপকারী প্রভাব। আর এ খাদ্য আঁশেরই এক সমৃদ্ধ উৎস খেজুরের বীজ।
হৃৎস্বাস্থ্য ভালো রাখে, কমায় বাড়তি কোলেস্টেরল
ম্যাগনেসিয়াম। করোনারি আর্টারি বা হৃদ্ধমনির ভেতরের দেয়ালে চর্বি জমতে বাধা দেওয়া বা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস প্রতিরোধে এই খনিজের গুরুত্ব রয়েছে বেশ। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, সেই সঙ্গে রক্তনালিকে শিথিল ও প্রশস্ত করে বলে রক্তপ্রবাহকে সুগম রাখতেও এর রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।
এ খনিজের ঘাটতি হলে হৃদ্ধমনির অভ্যন্তরে হতে পারে কোনো ক্ষত, যার ফলে জায়গাটা স্ফীত হয়ে পুরু হয়ে উঠতে পারে ধমনির দেয়াল। রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে তাতে ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মতো বড় বিপদ।
বিভিন্ন প্রকার বাদামের বীজের মতোই এই ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে খেজুরের বীজেও, যা হৃৎস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।

একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, তিনবেলা খাবারের পর ২০০ মিলিগ্রাম করে দৈনিক ৬০০ মিলিগ্রাম খেজুরের বীজ গুঁড়া করে খেয়েছেন যে উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীরা, তাঁদের রক্তে টোটাল কোলেস্টেরল, এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে। বেড়েছে ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ, যা করোনারি ব্লকেজের সম্ভাবনা হ্রাস করে। ফলে হৃদ্যন্ত্র থাকে সুরক্ষিত।
ডায়াবেটিসে উপকারী, বাড়ায় ইনসুলিনের কার্যকারিতা
ডায়াবেটিসে ভুগছেন কিংবা এর ঝুঁকিতে আছেন, এমন সবার জন্য খেজুরের বীজ হতে পারে মহার্ঘ্য। কারণ, অগ্ন্যাশয়ের বিটা সেল কর্তৃক ইনসুলিন উৎপাদনকে সুরক্ষিত রাখতে এর ভূমিকা রয়েছে। ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও এটি সহায়ক।
ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা, কখনো বেড়ে গেলে তা হ্রাস করে। টাইপ ওয়ান এবং বিশেষত টাইপ টু ডায়াবেটিসে খেজুরের বীজ সেবনের উপকারিতা রয়েছে বলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি সূচক হলো রক্তের এইচবিএওয়ানসি, নিয়মিত খেজুরের বীজের গুঁড়া সেবনে এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকে বলে গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নির্দিষ্টভাবে ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সক্ষম এই খেজুরের বীজ।
অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেলে ভরপুর
ভুল যাপন পদ্ধতি, নানা প্রকার দূষণ ও তেজষ্ক্রিয়তার কারণে দেহের অভ্যন্তরে উৎপন্ন হয় ফ্রি র্যাডিকেল, যার ফলাফল অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও ডিএনএ ক্ষয়, পরিণতিতে বাড়ে প্রদাহ ও নানা রকম দুরারোগ্য ব্যাধি। উপরন্তু ধস নামে দেহের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায়। পরিণতিতে দেখা দেয় অকালবার্ধক্য আর নানা জরা-ব্যাধি। সবারই জানা, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীর থেকে এই ফ্রি র্যাডিকেলকে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস রোধ করে। ইমিউন সিস্টেম হয় জোরদার। কমে প্রদাহ ও ক্রনিক রোগের সম্ভাবনা।

খেজুরের বীজে রয়েছে উচ্চমাত্রায় পলিফেনোলিক, ফেনোলিক অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনয়েডস আর ক্যারোটিনয়েডসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা শরীরজুড়ে নানা রকম ক্ষত সারাতে কার্যকর। ডিএনএর ক্ষয়রোধ তার মধ্যে অন্যতম। গবেষকেরা একে অভিহিত করছেন ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়ার হাউস’ বলে।
সেই সঙ্গে একাধিক ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ উৎস এই খেজুরের বীজ। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে পরিচালিত একটি গবেষণামতে, এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১ (থায়ামিন), বি২ (রিবোফ্লাবিন), বি৯ (ফোলেট), ভিটামিন সি, ই, কে।
মিনারেল বা খনিজের মধ্যে ম্যাগনেসিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পটাশিয়াম। সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, ফসফরাস নিকেল আর কোবাল্টও রয়েছে কিছু পরিমাণে। আরও আছে গ্লুটামিক অ্যাসিড, লিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিনের মতো অ্যামাইনো অ্যাসিড।
খেজুরের বীজের পটাশিয়াম ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়ামের সমপরিমাণ, খেজুরভেদে কখনো তার চেয়ে বেশি৷ এটি উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে হতে পারে কার্যকর উপাদান। নানা রকম ভিটামিন ও মিনারেলের উপস্থিতির কারণে দাঁত, হাড়, অস্থিসন্ধির জন্যও এটি উপকারী।
ক্যানসাররোধী, সুরক্ষিত রাখে লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র
ক্যানসারজনিত টিউমার প্রতিরোধের পাশাপাশি খেজুরের বীজে থাকা প্রো অ্যানথোসায়ানিডিনস লিভার ও কিডনিকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। কিডনিতে পাথর হওয়া ঠেকানোর পাশাপাশি সার্বিকভাবে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এর ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অল্প পরিমাণে হলেও এতে আছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। খেজুরের বীজ সেবনে তাই শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা বাড়ে। পেশির ব্যথা কমে।
ভারী ব্যায়াম কিংবা অতিরিক্ত পরিশ্রমজনিত দুর্বলতা আর অবসন্নতা কাটাতে এনার্জি ড্রিংক হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এর গুঁড়া দিয়ে তৈরি কফি বা পানীয়। দেহ-মনে একটা সতেজ ও চাঙ্গাভাব নিয়ে আসে। তাই এটা দুশ্চিন্তা ও বিমর্ষতা রোধে কার্যকর। স্মৃতিশক্তিও থাকে ভালো।
অন্যান্য প্রাণীর ওপর প্রাথমিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে পারে এ পানীয়টি।
এর মধ্যে আছে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কিছু উপাদানও। ফলে বিভিন্ন রোগের জন্যে দায়ী দুর্বৃত্ত কিছু ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও খেজুরের বীজের কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কফির সার্থক বিকল্প
খেজুরের বীজের গুঁড়া দিয়ে তৈরি কফি খাওয়া হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কফি যাঁদের প্রিয়, কিন্তু ক্যাফেইনের কারণে তা পান করতে মানা বা এড়িয়ে চলতে হয়, তাঁদের জন্য এর চেয়ে সার্থক বিকল্প আর হয় না। স্বাদ অনেকটা কফির মতোই, তাই ‘ক্যাফেইন ফ্রি কফি’ কিংবা ‘ক্যাফেইন ফ্রি এনার্জি বুস্টার’ ইত্যাদি নানা নামে একে অভিহিত করা হয়ে থাকে। অ্যাজমা বা শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায়ও এ পানীয়ের উপকারিতা আছে বলে কারও কারও অভিমত। উপরন্তু, কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় এবং বিপাকক্রিয়া বাড়ায় করে বলে এই পানীয় ওজন কমাতে সহায়ক। বিচিত্র সব উপকারী প্রাকৃতিক উপাদানে ঠাসা, অনেকে তাই এটি পান করেন ‘ন্যাচারাল ডিটক্স ড্রিংক’ হিসেবে।

খেজুরের বীজের তেল: ত্বক, চুল ও নখের যত্নে ধন্বন্তরি
খেজুর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল, তারও আছে বহুমুখী উপকারিতা। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রসাধনের উপকরণ হিসেবে এর ব্যবহার সুবিদিত। ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ও স্ক্রাব থেকে শুরু করে খুশকি দূর, মাথার চুল পড়া কমানো, চুল পাকা ও ধূসর হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ, চুলকে আর্দ্র রাখা, এমনকি নতুন চুল গজানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার হয়ে থাকে। ত্বকের ক্ষয় রোধ করতেও এ তেল কার্যকর। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা অটুট রেখে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার চোসান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুরের বীজ গুঁড়া বা এর তেল দিয়ে তৈরি প্রসাধনসামগ্রী মুখের ত্বক কুঁচকে যাওয়া, ব্রণ ও বিভিন্ন দাগ দূর করতে সক্ষম। সূর্যের অতিবেগুণি রশ্মি থেকেও সুরক্ষা দেয় এটি। এই গুঁড়া অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসমাস্ক হিসেবে ব্যবহারের চল রয়েছে কোথাও কোথাও।
এই তেল কিন্তু ভোজ্য; অর্থাৎ রান্নায় ব্যবহার করেও অনেক জায়গাতেই খাওয়া হয় এবং একে নিরাপদ বলেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এই তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিডের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই অলিক অ্যাসিড, যা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বলে স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। খেজুরের বীজের গুঁড়াতেও মেলে এই অলিক অ্যাসিড।
কীভাবে কোন উপায়ে খাবেন
খেজুর-বীজের প্যাকেটজাত গুঁড়া বা পাউডার পৃথিবীর অনেক দেশে তো বটেই, অনলাইন শপিংয়ের যুগে আজকাল বাংলাদেশেও চাইলে যোগাড় করা সম্ভব। তবে আপনি নিজেও ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন এটি।
খেজুর খেয়ে বীজগুলো সংরক্ষণ করে রাখুন।
বেশ কিছু জমা হলে পরে ভালোমতো পানিতে ভিজিয়ে ও ধুয়ে দুদিন কি তিনদিন রোদে শুকিয়ে নিন।

তারপর একটা প্যানে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট নেড়েচেড়ে সেগুলোকে ভেজে নিন গাঢ় বাদামি রং ধারণ না করা পর্যন্ত। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়। ওভেনে ১৭৫ থেকে ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রোস্ট করে নেয়ারও পরামর্শ দিয়ে থাকেন কেউ কেউ। আবার কড়াইতে বালি নিয়ে অনেকটা বাদাম ভাজার মতো করেও ভেজে নেন অনেকে।
বীজগুলো শক্ত কিছু দিয়ে যতদূর পারেন গুঁড়া করে নিন, তারপর গ্রাইন্ডারের সাহায্যে আরো ভালোভাবে গুঁড়া করে নিয়ে কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করুন বাড়ির শুষ্ক ও শীতল কোনো স্থানে।
চা-কফির বিকল্প হিসেবে গরম পানিতে স্বাদ বুঝে আধা থেকে এক চা-চামচ মিশিয়ে পান করতে পারেন। তবে পানীয়টা স্বাস্থ্যকর করতে চাইলে চিনি অবশ্যই নয়, বড়জোর গুড় বা মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। এভাবে নিজের পছন্দমতো কোনো স্মুদিতেও এটা যোগ করতে পারেন কিংবা এটা দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন একটা কোনো স্বাস্থ্যকর স্মুদি। এছাড়াও রুটি তৈরির সময় এই গুঁড়া যোগ করতে পারেন। ছাতু, ওটস কিংবা দুধ এমনকি সালাদেও এটি যোগ করা যেতে পারে।

পথ্য হিসেবে এসব একবার কি দুবার কিংবা কদাচিৎ খেয়ে উপরোল্লিখিত বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকার আশা করাটা ভুল হবে। উপকার পেতে চাইলে নিয়মিত খান। সপ্তাহে প্রতিদিন না হলেও অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন। আর খুব ভালো জিনিস বলে পরিমাণে বেশি খেয়ে অনর্থ ঘটাতে যাবেন না। দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পূর্ণবয়সী সুস্থ স্বাভাবিক কারো জন্যে এটা দিনে তিন থেকে চার চা-চামচ খাওয়াই যথেষ্ট।

খেজুর-বীজের গুঁড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে আর রক্তের গ্লুকোজ কমায় ঠিকই, তাই বলে এটা খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেয়াটা হবে বোকামি। আপনার রক্তচাপ ও গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এলে চিকিৎসক নিজেই বলবেন ওষুধ বন্ধ করতে, সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন। আর ইতোমধ্যে কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন যারা, যাদের জন্যে উচ্চ পটাসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার যেমন: ডাবের পানি কিংবা বিভিন্ন প্রকার বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারগুলো খাওয়া বারণ, তাদের এটি খাওয়ার আগে সাবধানতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম