জয়া আহসানের হাতের এই অবহেলিত দেশি সবজির অনন্য ৫টি স্বাস্থ্যগুণের কথা জানেন কি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গ্রামবাংলার চিরপরিচিত ফল এটি। এই ফলের উৎপত্তিস্থল দক্ষিন এশিয়াতেই। এর ফুল দুর্লভ বলে প্রবাদ থাকলেও আজকাল এই ফলই হারিয়ে যাচ্ছে। অভিনেত্রী জয়া আহসান আজ ফেসবুকে নিজের বাগানে হওয়া ডুমুরের ছবি শেয়ার করেছেন। তাঁর হাতের এই দেশি সবজির অনন্য ৫টি স্বাস্থ্যগুণের কথা আমরা মনে হয় কেউই জানি না।

জয়া আহসানের বাগানের ডুমুর
জয়া আহসানের বাগানের ডুমুর

প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে নানা রোগ নিরাময়ে ডুমুরকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ডুমুর দীর্ঘায়ুর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মূলত এর ভেষজ গুণের জন্যই বেশি পরিচিত।

বেশ কিছু অঞ্চলে ডুমুর কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়
বেশ কিছু অঞ্চলে ডুমুর কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়

ডুমুর বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে এখনো খাবার হিসেবে তেমন জনপ্রিয় নয়। তবে বেশ কিছু অঞ্চলে ডুমুর কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। ডুমুর প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারে ভরপুর। এসব উপকারিতা পেতে সবজি, সালাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে এই ফলটিকে খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই ফলের কী কী উপকারিতা রয়েছে।

হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে

ডুমুরে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও পটাসিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাগে আনে। খাবারের তালিকায় ডুমুর রাখলে  রক্তনালীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর।

ডুমুরে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও পটাসিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে
ডুমুরে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও পটাসিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে

ত্বক ও চুল ভালো রাখে

ডুমুরে রয়েছে ভিটামিন সি আর বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। সেই সঙ্গে এটি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো নতুনভাবে তৈরি হতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকে। পাশাপাশি ডুমুরে থাকা জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই খাবারের তালিকায় ডুমুর রেখে পেতে পারেন সুন্দর চুল ও ত্বক।

বিজ্ঞাপন

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে। ফাইবার অন্ত্রে পানির শোষণ বাড়ায়। যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তারাও ভালো ফল পেতে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন ডুমুর।

ডুমুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
ডুমুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

ওজন কমাতে সাহায্য করে

ডুমুরে ক্যালোরির মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে, যা ওজন কমানোর জন্য বেশ কার্যকর। এছাড়া ডুমুরে থাকা ফাইবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজম বাড়ায়। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হয় না। এছাড়া, এতে থাকে পানি ও  বেশ কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ। এগুলো শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়।

বিজ্ঞাপন

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

ডুমুরে থাকা মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টগুলো ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। এটি গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাও বাড়ায়। ডুমুর ফল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

ডুমুর ফল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ডুমুর ফল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

ডুমুরের পুষ্টিগুণ

ডুমুরে শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন এ, বি, সি এবং  বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে।একটা মাঝারি টাটকা ১০০গ্রাম ডুমুরে খাদ্যশক্তির পরিমান ক্যালোরি:

৩৭ফ্যাট:  ০.২ গ্রাম

সোডিয়াম: ০.৫ গ্রাম

কার্বোহাইড্রেট: ৯.৬ গ্রাম

ফাইবার: ১.৪৫ গ্রাম

প্রাকৃতিক চিনি: ৮.১৫ গ্রাম

প্রোটিন: ১.৩ গ্রাম

সতর্কতা

ডুমুরের তেমন কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে এটি অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। বিশেষভাবে যাদের ল্যাটেক্স বা বার্চ পরাগে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

সূত্র: ফ্রুট ইনফো, আয়ূর্বেদা ডট কম

ছবি: হাল ফ্যাশন,

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১৫: ০০
বিজ্ঞাপন