
অরগানিক, শব্দটা এখন যেন এক ধরনের আশ্বাস। বাজারে বা সুপারশপে এই ট্যাগ লাগানো ফল-সবজি দেখলেই মনে হয়, এটাই সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর বিকল্প। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তবতা একটু ভিন্ন।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও বিজ্ঞানী ড. ত্রিশা পাশরিচা সাম্প্রতিক এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, “অরগানিক ও সাধারণ উৎপাদিত খাবারের পুষ্টিগুণে বড় কোনো পার্থক্য নেই।” তাঁর মতে, শুধুমাত্র বেশি ভিটামিন বা মিনারেল পেতে কেউ যদি অরগানিক খাবারের দিকে ঝোঁকেন, তবে তেমন লাভ নেই।

অরগানিক খাবার আর সাধারণ খাবারের মূল পার্থক্য আসলে কীটনাশকের ব্যবহারে। অরগানিক চাষে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার অনেক কম হয়, ফলে এই খাবারগুলোতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকে।
ড. পাশরিচা বলেন, “অবশ্যই অতিরিক্ত কীটনাশক ক্ষতিকর, কিন্তু বাজারের সাধারণ ফল-সবজিতে কীটনাশকের যে সামান্য অবশিষ্টাংশ থাকে, তা প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে প্রমাণিত।”

তবে গর্ভবতী নারী ও ছোট শিশুদের জন্য অরগানিক খাবার কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। কারণ, তাদের শরীর তুলনামূলক সংবেদনশীল এবং রাসায়নিকের প্রভাব দ্রুত পড়ে।
তবুও ড. পাশরিচা মনে করিয়ে দেন, “যারা অরগানিক খাবার খান, তারা সাধারণত অন্যভাবেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন। সেই ইতিবাচক জীবনধারাই আসলে বড় ভূমিকা রাখে।”
সবশেষে তিনি পরামর্শ দেন, খাবারের লেবেল নয়, প্লেটের বৈচিত্র্যই আসল কথা। “আপনার খাবারে যতটা সম্ভব রঙিন ফল ও সবজি রাখুন, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান। এটাই সুস্থতার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।”

অরগানিক হোক বা সাধারণ। সব খাবারই আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, যদি তা তাজা ও প্রাকৃতিক হয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মানে কেবল ‘অরগানিক’ বেছে নেওয়া নয়, বরং সচেতনভাবে প্রতিদিনের খাওয়ার অভ্যাসে ভারসাম্য আনা।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
ছবি: পেকজেলসডটকম