হজম হয় না বলেই এই খাবার শরীরের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

হজমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা থেকে রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ। সব মিলিয়ে ফাইবার জাতীয় খাবারের উপকারিতা অনেক। শরীরে হজম না হলেও ফাইবার বা আঁশ অন্ত্র পরিষ্কার রাখে, উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরার অনুভূতি দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার বা আঁশ গ্রহণ কোষ্ঠকাঠিন্য কমিয়ে সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করে। খাদ্য আঁশ শরীরে হজম হয় না বলেই এর আলাদা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখে, নিয়মিত মলত্যাগে সাহায্য করে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়।
তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেশির ভাগ মানুষই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় আঁশ গ্রহণ করেন না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এ ঘাটতি তুলনামূলক বেশি। তাই প্রতিদিনের খাবারে আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে চিকিৎসকেরা।

উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি  করে
উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

খাদ্য আঁশ মলের ভর বাড়িয়ে, তা নরম করে। ফলে অন্ত্রের ভেতর দিয়ে সহজে গমন সম্ভব হয়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।

২. অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি

প্রিবায়োটিক ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এই স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োম হজমশক্তি বাড়ায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।

বিজ্ঞাপন

৩. হজমজনিত রোগ প্রতিরোধ

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা দূর করে, একই সঙ্গে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS), ডাইভার্টিকুলাইটিস ও পাইলসের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। অন্ত্রের চলাচল স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে এই সুরক্ষা মেলে।

দীর্ঘ মেয়াদে এটি হজম ও বিপাকক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘ মেয়াদে এটি হজম ও বিপাকক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

৪. রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

ফাইবার বা আঁশ শর্করা ও চর্বির শোষণ ধীর করে। এর ফলে রক্তের গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে যায় না এবং কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রিত থাকে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি হজম ও বিপাকক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫. দীর্ঘস্থায়ী তৃপ্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ

আঁশসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরার অনুভূতি দেয়, যা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং রক্তের শর্করা ও কোলেস্টেরলও স্বাভাবিক থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যথেষ্ট আঁশ রাখা একটি স্বাভাবিক ও কার্যকর উপায়, যা হজমপ্রক্রিয়া মজবুত করে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখে।

সবুজ শাকসবজি ছাড়াও ডাল, ছোলা, ওটস, সম্পূর্ণ শস্য, ফলের খোসা, বাদাম ও বীজ খাদ্য আঁশের ভালো উৎস
সবুজ শাকসবজি ছাড়াও ডাল, ছোলা, ওটস, সম্পূর্ণ শস্য, ফলের খোসা, বাদাম ও বীজ খাদ্য আঁশের ভালো উৎস

আঁশের সহজ উৎস

সবুজ শাকসবজি ছাড়াও ডাল, ছোলা, ওটস, সম্পূর্ণ শস্য, ফলের খোসা, বাদাম ও বীজ খাদ্য আঁশের ভালো উৎস। প্রতিদিনের খাবারে এই উপাদানগুলো রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি হজম স্বাস্থ্যও উন্নত হবে।

সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত আঁশের নিয়মিত গ্রহণ শুধু হজম শক্তি বাড়ায় নয়, দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ ও সামগ্রিক সুস্থতারও এক প্রাকৃতিক উপায়।

সূত্র: হেলথলাইন

ছবি: পেকজেলসডটকম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন