
জাম্বুরা এক অবাক করা পুষ্টিগুণের খনি। প্রকৃতির এক অমুল্য উপহার এই ফল। বর্ষায় ফলন হলেও এখনও বাজারে সহজেই দেখা মিলছে জাম্বুরার। সারাবিশ্বেই এই জাম্বুরা বা পমেলো এক মির্যাকল ফ্রুট বলে পরিচিত। একে মার্কিন মুলুকে গ্রেপ ফ্রুট বলা হয়। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় বাতাবিলেবু বলে জাম্বুরাকে। তবে কিছুটা পার্থক্য আছে এর কয়েকটি জাতে। জাম্বুরা আরও রসালো বাতাবির চেয়ে। কিছুটা হালকা গোলাপি থেকে শুরু করে বেশ লালচে আভা আভা গোলাপি রঙের হয় জাম্বুরা।


আর বলা হয়, এই ফল নিয়মিত খেলে চেহারার গ্লো বাড়ে, গোলাপি আভায় উজ্জ্বল হয় ত্বক। এর গুণের কথা বলে শেষ করা মুশকিল। চারদিকে রোগবালাই এখন। বলা হয় এজন্য রোজ জাম্বুরা খেলে ভালো। জাম্বুরায় থাকা ট্রিপটোফেন ভাল ঘুম হতেও সাহায্য করে। তাই ঘুমের আগে এক গ্লাস জাম্বুরার জুস খান আর শান্তিতে ঘুমান। জাম্বুরায় ভিটামিন, খনিজ আর ফাইবার দিয়ে পরিপূর্ণ। একটি জাম্বুরার চারভাগের একভাগ খেলেই একজন মানুষের প্রতিদিনের নানা খনিজ ও ভিটামিনের চাহিদা মিটবে।
১০০ গ্রাম জাম্বুরার পুষ্টিমান
ম্যাগনেসিয়াম ৯ মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম ১৩৫ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ১৮ মিলিগ্রাম

ভিটামিন সি ৩১.২ মিলিগ্রাম
ফোলেট ১৩ মিলিগ্রাম
ফাইবার ১.৬ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ২২ মিলিগ্রাম
জাম্বুরা খেলে যে সকল উপকারিতা পাবেন -
১. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকার কারণে এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যার ফলে নিয়মিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
২. এতে অনেক ফাইবার আছে যা আমাদের পরিপাকক্রিয়াকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩. এই ফলে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস রয়েছে। এই খনিজ দুটি আমাদের শরীরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
৪. নিয়মিত জাম্বুরা খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কেননা এতে থাকা ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৫. আমাদের শরীরের কোথাও ক্ষত হলে ভিটামিন সি-এ ভরপুর জাম্বুরা খেলে সেই ক্ষত দ্রুত সেরে যায়।
৬. জাম্বুরায় আছে লিমোনেনেড নামে এক ধরনের ফাইটনিউট্রিয়েন্ট। এটি ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৭. জাম্বুরায় ক্যারোটিন, ফোলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম এবং বেঁস্ফোরিক ভিটামিন আছে, যা আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করে।
৮. এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যার ফলে এটি রক্তাল্পতা কমানো এবং প্রয়োজনীয় রক্তবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
৯. জাম্বুরা খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
১০. খাদ্যতালিকায় রাখলে গ্যাস এবং এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১১. পেশির দুর্বলতা, ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দূর করার জন্য পটাসিয়ামযুক্ত জাম্বুরা খাওয়া ভালো।

১২. জাম্বুরা আমাদের শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে ভূমিকা রাখে।
১৪. ডায়েটে রাখলে অতিরিক্ত চর্বি কমে যায়, যার কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
১৫. পটাসিয়াম থাকার কারণে জাম্বুরা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এটি আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
১৬. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং শরীরের রক্ত বৃদ্ধি পায়।
১৭. এক গ্লাস করে নিয়মিত জাম্বুরার জুস পান করলে তা ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে।
১৮. জাম্বুরা নিয়মিত খাওয়ার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলত অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক জাম্বুরার মতোই পেলব ও সুন্দর থাকে।

সাবধানতা
যদি আপনার কিডনি রোগ থাকে, তবে বেশি খাওয়া ভালো নয় জাম্বুরা। এটিতে থাকা উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সাথে এর মিথস্ক্রিয়া কিডনির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, কিডনির পাথর প্রতিরোধে জাম্বুরা উপকারী হতে পারে কারণ এতে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা ক্যালসিয়ামকে আবদ্ধ করে এবং শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া, অতিমাত্রায় খেলে পেট খারাপ হতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: লেখক