ঢাকার ৬টি পিঠাঘরে শীতরসনার পিঠাময় উদ্‌যাপন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ভরা শীতের দিনে চলছে পিঠাপুলির ভরপুর মৌসুম। এই একটা সময় আসলেই যেন আরও বেশি করে মনে হয়, ভোজনরসিক বাঙালির রসনায় হাজার বছরের খাবারের ঐতিহ্য কতটা সমৃদ্ধ করেছে আমাদের। এই শহুরে জীবনেও হিম হিম শীতে গরম-গরম পিঠা খেতে পারলে জীবনটা বড়ই সুন্দর মনে হয়। এবার তাহলে এই অথেনটিক পিঠাপুলির স্বাদ পেতে ঢাকার ছয়টি পিঠাঘরের কথা জেনে নিন

খিলগাঁও পিঠাঘর

মোহাম্মদ শেখ সোলাইমান ২০১১ সালে খিলগাঁও আপন কফি হাউসের পাশে প্রতিষ্ঠা করেন এই দোকানের। সপ্তাহে সাত দিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া যায় পিঠা। ভেতরে বসার জায়গাও আছে। পাকন পিঠা, মালপোয়া, নাড়ু পিঠা, সেদ্ধ পিঠা, মালাই পিঠা, সেদ্ধ কুলি পিঠাসহ মোট ২৫ রকমের পিঠা পাওয়া যায় এখানে। দাম ১০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। শেখ সোলাইমান নিজেই পিঠার কারিগর। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, ভাই, পরিবারের সবাই মিলে পিঠা বানান। তাঁদের কোনো শাখা নেই বলে জানান তিনি।

জসীমউদ্‌দীন পিঠাঘর

উত্তরা সেক্টর ৯, বাড়ি নম্বর ২, জসীমউদ্‌দীনে এই পিঠাঘর। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই পিঠাঘর সুনামের সঙ্গে পিঠা বিক্রি করে যাচ্ছে। সরপুলি, মালপোয়া, নকশিসহ ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যায় এখানে। পিঠাগুলোর দাম ৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া এখানে মিলবে চিকেন মোমো।

বিজ্ঞাপন

বেইলি পিঠাঘর

গুলশান ১-এ ১৫ বছর ধরে আছে এই পিঠাঘর। পাটিসাপটা, মালপোয়া, ভাজা পিঠা, ভাপা পিঠাসহ ৩৫ রকমের পিঠা পাওয়া যায় এখানে৷ দাম ২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। দোকানের মালিক হারুনুর রশিদ জানালেন, তাঁদের প্রধান শাখা বেইলি রোড। এ ছাড়া বসুন্ধরায় তাঁদের শাখা আছে।

উত্তরা পিঠাঘর

২০১৩ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে এই পিঠাঘর। উত্তরা মডেল টাউন, সেক্টর ১, রোড ৬-এ এই পিঠাঘর। ৬০ টাকার মধ্যে এখানে পাওয়া যায় দারুণ সব পিঠা।

বিজ্ঞাপন

মোশাররফ ভাইয়ের পিঠাঘর

লালবাগ কেল্লার মোড়, সোনালি ব্যাংকের সামনে ঢাকার সবচেয়ে পুরোনো এই পিঠাঘরের অবস্থান। ৪৫ বছরের পুরোনো পিঠার দোকান এটি। সব সময় ভিড় থাকে এ দোকানে। এখানে খুবই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পিঠা বানিয়ে বিক্রি করা হয়। মোশারফের বাবাও পিঠা বিক্রি করতেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তিনি ব্যবসা চালু রেখেছেন। পুলি ও ভাপা পিঠা ১০ টাকা, পাটিসাপটা ক্ষীরসা দিয়ে ১৫ টাকা, মালপোয়া ও নকশি পিঠা ১০ টাকা, মুগ পাকন পিঠা এবং সেদ্ধ ও ভাজা পুলি ১০ টাকা, নারকেলি পোয়া পিঠা ২০ টাকা, চিতই পিঠা ১০ টাকা, ডিম চিতই ৩০ টাকা দাম। সারা বাংলাদেশ থেকে পিঠার অর্ডার নেন তাঁরা। যেকোনো বিয়ে বা অনুষ্ঠানের আয়োজনে গিয়ে পিঠা বানান এই পিঠা কারিগর। তাঁদের আরও তিনটা শাখা আছে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই পিঠার দোকান। ০১৯৫৩৮১২৩৫৮—এই নাম্বারে ফোন দিয়ে অর্ডার দিতে পারবেন আপনি।

মিরপুরের পিঠার দোকান

মিরপুর–১, আড়ং ও জিমার্টের পেছনের গলিতে এই পিঠার দোকানে পাওয়া যায় বিখ্যাত চাপটি পিঠা। বিভিন্ন রকমের ভর্তা দিয়ে পরিবেশন করা হয় এ পিঠা। দাম মাত্র ১০ টাকা। আবার মিরপুর ডিওএইচএসে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে উঠান বৈঠক নামের এক পিঠার দোকান হাঁসের মাংস দিয়ে ছিটা পিঠার জন্য বিখ্যাত। বসে খেলে ১৫০ টাকা আর পার্সেল নিলে ১৬০ টাকা। এ ছাড়া পাটিসাপটা, পোয়া পিঠা, চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা পাওয়া যায় ২০ থেকে ৩০ টাকায়। পল্টু কাকার এ দোকানে শীতের মৌসুম থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি।

গুড্ডু মামার পিঠার দোকান

মিরপুর–১১ নম্বর বাংলা কলেজের ঢালের নিচে এই পিঠার দোকান। ৫২ রকমের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠার জন্য এ দোকান বিখ্যাত। এ ছাড়া ১২ রকমের পিঠা আছে। সব পিঠার দাম ১০ টাকা। স্পেশাল ভর্তা হচ্ছে আলুবোখারার ভর্তা ও পেঁয়াজের ভর্তা, যা খুবই মজার।

এ ছাড়া সেগুনবাগিচা শিল্পকলা একাডেমির সামনে নাসিম মিয়া রাস্তায় বিক্রি করেন পিঠা। তাঁর মতো অনেকেই পিঠার পসরা নিয়ে বসেন নগরীর বিভিন্ন মোড়ে। পিঠা শুধু খাবার নয়, আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এসব দোকানে যতই মজার পিঠা বিক্রি হোক, বাড়িতে পিঠা বানানোর ঐতিহ্য ছেলেবেলা থেকে দেখে বড় হলে সেই ধারা অব্যাহত থাকে। তা না হলে হয়তো শত বছর পর গুগল সার্চ করে প্রাগৈতিহাসিক পিঠার ছবি খুঁজতে হবে। আমরা চাই না ঐতিহ্যবাহী কোনো কিছু বিলুপ্ত হোক। পিঠাপুলির সংস্কৃতি বেঁচে থাক হাজার বছর। আর সে জন্য অবশ্য এই অথেনটিক পিঠার পসরা সাজানো পিঠাঘরগুলো অবশ্যই কৃতিত্বের দাবিদার।

ছবি: লেখক

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১১: ১০
বিজ্ঞাপন