
ব্যানানা চিলি বা ব্যানানা পেপার নাম এর। দেখতে কলার মতো বলেই এই নামে ডাকা হয়। ঝালের স্কেলে বেশ নিচের দিকেই আছে এই মরিচ। কিন্তু পুষ্টিগুণে এটি বেশ শক্তিশালী, বিশেষ করে ভিটামিন সি–এর ক্ষেত্রে। বিশ্বজুড়ে বহুল প্রচলিত হলেও আমাদের দেশে নতুনই বলা যায় এই বড় ও কম ঝালের মরিচ। জেনে রাখা ভালো, লেবুর চেয়ে দ্বিগুণ ভিটামিন সি আছে এতে। আর বাজারে মিলছেও বেশ।
লেবু আর এই মরিচের দাম ও ভিটামিন সি-এর তুলনা
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা ব্যানানা চিলিতে গড়ে প্রায় ৮০–৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকতে পারে। সতেজতার ওপর কিছুটা তারতম্য হয়। অন্যদিকে, প্রতিটি মাঝারি আকারের ১০০ গ্রাম ওজনের লেবুতে ভিটামিন সি থাকে প্রায় ৪০–৫০ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ, সমপরিমাণ ওজনে তুলনা করলে ব্যানানা চিলিতে লেবুর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি ভিটামিন সি থাকতে পারে।

সংবাদ শিরোনাম বলছে, লেবুর হালি ২০০ এখন। এদিকে এই ব্যানানা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে প্রতি পিস ১৫ টাকা করে। তাই বলা যায়, অর্ধেকের চেয়েও কম দামে দ্বিগুণ ভিটামিন আছে এতে লেবুর তুলনায়।
এই মরিচের ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক সুস্থ রাখে, কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। সর্দি-কাশির মৌসুমে বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে খাবারের তালিকায় ব্যানানা চিলি যুক্ত করা উপকারী হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
ব্যানানা চিলিতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলো শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেলে হৃদরোগ ও কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
ভিটামিন এ ও চোখের সুরক্ষা
এই মরিচে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং রাতকানা প্রতিরোধে সহায়ক। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সহায়ক
যদিও ব্যানানা চিলি খুব বেশি ঝাল নয়, তবু এতে সামান্য ক্যাপসাইসিন থাকে। এই উপাদান শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) কিছুটা বাড়াতে পারে এবং চর্বি পোড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সচেতনদের জন্য এটি হতে পারে স্বাস্থ্যকর সংযোজন।
ফাইবার ও কম ক্যালোরি
ব্যানানা চিলি কম ক্যালোরিযুক্ত এবং এতে কিছু পরিমাণ খাদ্যআঁশ (ফাইবার) রয়েছে। এটি হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ডায়েট মেনে চলা ব্যক্তিদের জন্য এটি উপযোগী সবজি।

কীভাবে খাবেন
সালাদে কাঁচা কুচি করে, স্যান্ডউইচে স্লাইস করে, আচারে বা হালকা সতে করে খাওয়া যায় ব্যানানা চিলি। বেশি রান্না করলে ভিটামিন সি কিছুটা নষ্ট হতে পারে, তাই সম্ভব হলে কাঁচা বা অল্প রান্না করে খাওয়াই ভালো।
সতর্কতা
যাঁদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাঁরা পরিমিত পরিমাণে খাবেন। অতিরিক্ত পরিমাণে মরিচ রোজার দিনে পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

স্বাদে হালকা, রঙে আকর্ষণীয় আর পুষ্টিতে ভরপুর—ব্যানানা চিলি কেবল রান্নার গার্নিশ নয়, বরং একটি শক্তিশালী পুষ্টির উৎস। লেবুর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভিটামিন সি–এর উপস্থিতি একে আরও বিশেষ করে তোলে। প্রতিদিনের খাবারে বাজারের নতুন এই মরিচটি যোগ করলে স্বাদ যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে পুষ্টির মাত্রাও।
সূত্র: হেলথলাইন