
চলছে রিয়াদ সিজন ২০২৫। সূচনা থেকেই সৌদি রাজধানী রূপ নিয়েছে পরিপূর্ণ রসনাগন্তব্যে। বিশেষ করে সেসব বাংলাদেশি ভ্রমণকারীর জন্য, যাঁরা খুঁজে ফেরেন কাঙ্ক্ষিত স্বাদ, আতিথেয়তা ও হালালবান্ধব ডাইনিং অভিজ্ঞতা। বিশ্বের নানা প্রান্তের পপআপ রেস্তোরাঁ ও ফুড ট্রাকগুলোয় মিলছে কোরিয়ান নুডলস থেকে শুরু করে লাতিন বারবিকিউ, আমেরিকান বার্গার থেকে ভূমধ্যসাগরীয় মেজ। আর পরিবেশিত হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশে।

যাঁদের পছন্দ আরও একটু এগিয়ে, তাঁদের জন্য রয়েছে মিশেলিন—তারকা শেফদের রেস্তোরাঁ এবং আধুনিক ফাইন-ডাইনিং স্পট—যেমন বুলেভার্দ ওয়ার্ল্ড ও বুলেভার্দ সিটি। এক সন্ধ্যাতেই আপনি উপভোগ করতে পারেন ভুবনমাতানো শেফদের তৈরি সিগনেচার ডিশ; যেমন মিয়াজু, রোকা রিয়াদ বা টোকিও রেস্টুরেন্ট—এর পাশাপাশি খাঁটি সৌদি কাবসা উপভোগ করতে পারবেন নাজদ ভিলেজ বা আল অরজোয়ান-এ।
বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা—একসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বাদ আর পরিচিত আন্তরিক আবহ, রিয়াদের ঝলমলে আকাশের নিচে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, উৎসব এলাকাগুলোর প্রায় সব রেস্তোরাঁ ও ফুড স্টলই হালাল সার্টিফায়েড; আরও আছে নামাজের ব্যবস্থা। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য হলো দ্বিভাষিক মেনু—অতিথিদের উপভোগকে সহজ ও স্বচ্ছন্দ করতে।
রিয়াদের খাদ্য উৎসবগুলো স্থানীয় রন্ধনশৈলীকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে—উদ্ভাবন ও ফিউশনের মাধ্যমে। সৌদি শেফরা এখন ঐতিহ্যবাহী স্বাদকে আধুনিক রান্নার কৌশলে মিলিয়ে তৈরি করছেন নতুন এক ধারা—যা পরিচিত হচ্ছে ‘সৌদি ফিউশন কুইজিন’ নামে। বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এটি সৌদি স্বাদের নতুন ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়। কল্পনা করুন—খেজুর-ইনফিউজড স্টেক, কাবসা রিসোত্তো বা শাওয়ারমা টাকো—ঐতিহ্যবাহী রেসিপিকে আধুনিকভাবে রিক্রিয়েট করা হয়েছে নতুন প্রজন্মের জন্য।

বিশ্বখ্যাত শেফদের মধ্যে রয়েছেন কাট বাই উলফগ্যাং পাক–এর প্রতিষ্ঠাতা উলফগ্যাং পাক, উলফগ্যাং পাক ফাইন ডাইনিং গ্রুপের রিজিওনাল এক্সিকিউটিভ শেফ ব্রায়ান বেচার এবং স্প্যাগো রিয়াদের এক্সিকিউটিভ শেফ ড্যানিয়েল আরভিন।
যাঁরা চান অন্যতর রসনা অভিজ্ঞতা, তাঁদের জন্য আছে ‘ডাইন ইন দ্য স্কাই রিয়াদ—যেখানে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় নানা স্বাদের পদ। এ ছাড়া আছে ‘শেফ’স টেবিল’ সিরিজ; এখানে অতিথিরা বিখ্যাত শেফদের সঙ্গে রান্না করার সুযোগ তো পাচ্ছেনই, এর সঙ্গে আরও স্বাদ নিতে পারছেন সৌদি ঐতিহ্যপ্রাণিত এক্সক্লুসিভ সব পদের।
খাবার সব সময়ই ছিল সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন—স্বাদ, ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষকে একত্র করে। এখন সেই সেতুবন্ধনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে রিয়াদ। এখানে খাবার শুধু খাওয়া নয়, বরং এক সম্পূর্ণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতাও। কল্পনা করুন—মরুভূমির তারাভরা আকাশের নিচে ওপেন-এয়ার ডাইনিং, সাংস্কৃতিক প্যাভিলিয়ন, সরাসরি সংগীতানুষ্ঠান, আর শেফদের মাস্টারক্লাস—সব মিলিয়ে এক অনন্য রন্ধন অভিযাত্রা।

আগে যেখানে অধিকাংশ বাংলাদেশি ভ্রমণকারী সৌদিতে যেতেন শুধু ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, এখন সেই অভিজ্ঞতা বদলে গেছে। এখন আপনি একই সফরে ইবাদত করতে পারেন, আবার একই সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন সৌদি আরবের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বৈচিত্র্যময় জলবায়ু ও অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে সৌদিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ফ্লাইনাস ও ফ্লাইডিল।
রিয়াদ—সৌদির হৃদয়, আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গী হতে। কারণ, এখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে প্রতিটি সফরেই লেখা হয়ে যায় নতুন গল্প।
আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: https://www.visitsaudi.com/en
লেখক: ফিচার রাইটার ও খাদ্যরসিক