
বাংলাদেশের অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপ্যান্ডা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘২০২৫ ইন বাইটস’। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গত বছরে দেশের মানুষের অনলাইন খাবার ও গ্রোসারি অর্ডারের প্রবণতা, সময় ও স্বাদের একটি পরিষ্কার চিত্র।

২০২৫ সালে অনলাইন ফুড অর্ডারে গ্রাহকদের প্রথম পছন্দ ছিল নিঃসন্দেহে দেশি খাবার। ফুডপ্যান্ডার তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে সবচেয়ে বেশি অর্ডার করা খাবারের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাসমতি কাচ্চি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে প্লেইন পরোটা এবং চিকেন চাপ। আধুনিক ডেলিভারি অ্যাপের ভেতরেও ঐতিহ্যবাহী স্বাদের এই জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে, খাবারের ক্ষেত্রে বাঙালির আবেগ এখনো নিজের জায়গায় অটল।
শুধু নির্দিষ্ট একটি রেস্টুরেন্ট নয়, গ্রাহকেরা ২০২৫ সালে গড়ে অন্তত চারটি ভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করেছেন। অর্থাৎ নতুন স্বাদ, নতুন রান্নাঘর আর ভিন্ন অভিজ্ঞতার খোঁজে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী অনলাইন গ্রাহকেরা। প্রতিবেদনে উল্লেখিত সবচেয়ে ইউনিক অর্ডার ছিল ‘এগ অ্যান্ড সসেজ র্যাপ’, যা এই বৈচিত্র্যপ্রবণতারই প্রতিফলন।

সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবার ছিল সবচেয়ে ব্যস্ত। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘরে বসে খাবার অর্ডার করাই যেন অনেকের পছন্দের রুটিন হয়ে উঠেছে। মাসের হিসাবে, ২০২৫ সালে ফুডপ্যান্ডার জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময় ছিল অক্টোবর। অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় ওই মাসেই সবচেয়ে বেশি অর্ডার এসেছে।
ডেলিভারি গতির দিক থেকেও ২০২৫ সাল ছিল স্মরণীয়। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মাত্র এক মিনিটে অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার রেকর্ড, যা বছরের সবচেয়ে দ্রুত ডেলিভারি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দ্রুততা যে এখন গ্রাহকের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা, এই রেকর্ড তারই প্রমাণ।
খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি অর্ডারেও অনলাইন নির্ভরতা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ফুডপ্যান্ডার প্যান্ডামার্ট ও বিভিন্ন সুপারশপ থেকে গ্রোসারি অর্ডারে এগিয়ে ছিল প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব স্টোর ব্র্যান্ড ‘ব্রাইট’। গত বছরে সবচেয়ে বেশি অর্ডার হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল ‘ব্রাইট ফার্মস ডায়মন্ড এগ’ ও ‘ব্রাইট ফার্মস ডায়মন্ড পটেটো’। আইটেম হিসেবে চিনি জায়গা করে নিয়েছে সবচেয়ে বেশি অর্ডার হওয়া গ্রোসারির তালিকায়।
২০২৫ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, ২০২৬-এর শুরুটাও হয়েছে অনলাইনে। ঠিক রাত বারোটায় ফুডপ্যান্ডায় এসেছে বছরের প্রথম অর্ডার—যা অনলাইন ফুড ডেলিভারির প্রতি মানুষের অভ্যস্ততার আরেকটি ইঙ্গিত।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ফুডপ্যান্ডার এক মুখপাত্র জানান, এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশে অনলাইন খাবার ও গ্রোসারি অর্ডারের ইকোসিস্টেম দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী খাবারের জনপ্রিয়তা বজায় থাকলেও গ্রাহকেরা এখন নতুন স্বাদ, নতুন রেস্টুরেন্ট এবং দ্রুত ডেলিভারির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
এক কথায় বলা যায়, ২০২৫ সালে অনলাইন অর্ডারের ট্রেন্ড শুধু খাবারের তালিকাই নয়—বাংলাদেশের শহুরে জীবনের বদলে যাওয়া অভ্যাস আর রুচির গল্পও বলে যায়।
তথ্যসূত্র: ফুডপ্যান্ডা
ছবি: ফুডপ্যান্ডা