
ডায়াবেটিস, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই এখন চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু শীতকালে পিঠার এই ‘লোভনীয় স্বাদ’ থেকে দূরে থাকা কি আসলেও সম্ভব? কেমন হয় যদি পিঠা-পুলি থেকেও দূরে না থাকতে হয়, আবার স্বাস্থ্যের ওপরেও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে। এরই এক সহজ সমাধান জিরোক্যাল। শুধু পিঠাই নয়, মূলত চিনির বিকল্প হিসেবে চা, কফি, জুস, দুধ, ডেজার্ট বা বেকিং—সবকিছুতেই জিরোক্যাল ব্যবহার করা যায়। একটি স্যাচেট বা একটি ট্যাবলেট সাধারণত এক চা-চামচ চিনির সমপরিমাণ মিষ্টি দেয়।
অতিরিক্ত চিনি শুধু ওজনই বাড়ায় না, এটি দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী বা প্রিডায়াবেটিক অবস্থায় থাকা মানুষদের জন্য মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশ সতর্কতার একটি বিষয়। আবার যাঁরা ফিটনেস বা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে সচেতন, তাঁদের জন্যও চিনি কোনো স্বাস্থ্যকর খাদ্য–উপাদান নয়। তাই স্বাদ বজায় রেখেই চিনির বিকল্প পথ খুঁজছেন অনেকেই।

অনেকেই মনে করেন, চিনি ছাড়া পিঠা মানেই স্বাদহীন একটি ব্যাপার। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক তা নয়। আধুনিক চিনির বিকল্পগুলো স্বাস্থ্যে চিনির মতো ক্ষতিকর প্রভাব না ফেললেও স্বাদে কোনো আপস করে না। প্রায় সব ধরনের পিঠাতেই নারকেল বা দুধের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি বিকল্প যোগ করলে স্বাদ থাকে স্বাভাবিক। বরং অতিরিক্ত গুড় বা চিনির ভারী মিষ্টতা না থাকায় উপকরণগুলোর নিজস্ব ঘ্রাণ ও স্বাদ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে পিঠা হয়ে ওঠে উপভোগ্য ও স্বাস্থ্যবান্ধব।

চিনি ছাড়াও সহজেই তৈরি করা যায় নানা ধরনের জনপ্রিয় পিঠা। যেমন ভাপা, চিতই, দুধ পুলি, নারকেল পুলি, পাটিসাপটা ইত্যাদি। এসব পিঠার মূল স্বাদ আসে চালের গুঁড়া, নারকেল ও দুধ থেকে। মিষ্টতার জন্য গুড় বা চিনির পরিবর্তে জিরোক্যালের মতো ক্যালরিহীন সুইটেনার ব্যবহার করলে স্বাদ ঠিকই থাকে, কিন্তু স্বাস্থ্যের ওপর ক্যালরি ও শর্করার চাপ পড়ে না। বিশেষ করে দুধ পুলি বা পাটিসাপটা পিঠায় সুইটেনার ব্যবহার করলে মিষ্টতা থাকে পরিমিত এবং স্বাদ থাকে অপরিবর্তনীয়।

খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। চিনি ছাড়া পিঠা সেই ভারসাম্যই তৈরি করে। এতে যেমন শীতের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন থাকে, তেমনি স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনেও কোনোপ্রকার ব্যাঘাত ঘটে না। ডায়াবেটিসে ভোগা মানুষদের জন্য শীতকাল যেন বাড়তি দুশ্চিন্তার। বাঙালি হয়ে চারপাশে পিঠার আয়োজন থেকে দূরে থাকা প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। চিনি ছাড়া পিঠা এই জায়গায় এনে দিতে পারে স্বস্তির সমাধান। কারণ এতে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। একইভাবে যাঁরা ওজন কমাতে চান বা ক্যালরি গণনা করে খাবার খান, তাঁদের জন্যও এটি একটি নিরাপদ বিকল্প।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতের পিঠা মানেই যে অতিরিক্ত চিনি আর স্বাস্থ্যঝুঁকি—এমন ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। আধুনিক চিনির এই বিকল্পগুলো ব্যবহার করে ঘরেই বানানো যায় স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু পিঠা। এতে স্বাদ যেমন ঠিক থাকবে, পাশাপাশি শরীরও থাকবে চাপমুক্ত।
ছবি: হালফ্যাশন ও মেরিল