
আজ আলু বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য। পৃথিবীর ১৫০টিরও বেশি দেশে এর চাষ হয়। ভাত, রুটি, পাস্তা বা মাংস সবকিছুর সঙ্গেই আলুর সহজ বন্ধুত্ব। কিন্তু এই ‘ইউনিভার্সাল ফুড’-এর পেছনে রয়েছে জিনগত বিবর্তনের এক চমকপ্রদ অধ্যায়।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক জিনোম বিশ্লেষণে জানা গেছে, আধুনিক আলুর উৎপত্তি কোনো সরল বিবর্তনের ফল নয়। বহু বছর আগে টমেটো পরিবারের এক বুনো উদ্ভিদ অন্য একটি প্রজাতির সঙ্গে সংকরায়িত হয়। সেই সংকরায়ণের ফলে উদ্ভিদটি তার স্বাভাবিক ফল উৎপাদনের ক্ষমতা হারায়। কিন্তু প্রকৃতি কখনও শূন্যে থেমে থাকে না। ফলের বদলে গাছটি মাটির নিচে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য বিশেষ গঠন তৈরি করতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সেই গঠনই বিবর্তিত হয়ে আজকের পরিচিত আলুর কন্দে রূপ নেয়।

এই কন্দ শুধু খাদ্য নয়—গাছের বেঁচে থাকার কৌশল। মাটির নিচে শক্তি সঞ্চয় করে আলু প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পেরেছে। তাই পৃথিবীর শীতল পর্বতাঞ্চল থেকে উষ্ণ সমতল—সবখানেই আলুর উপস্থিতি।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, আলু টমেটোর সরাসরি আত্মীয় নয়; বরং এটি এক বিরল সংকর উদ্ভিদ, যার জন্ম এক অপ্রত্যাশিত জিনগত পরিবর্তন থেকে। এই কারণেই আলুর বংশবিস্তার পদ্ধতি অন্য অনেক ফসলের চেয়ে আলাদা। মাটির নিচে কন্দের মাধ্যমে বংশবিস্তার করার ক্ষমতাই তাকে করেছে ব্যতিক্রমী ও টেকসই।

এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির পথে বড় পরিবর্তন অনেক সময় আসে হঠাৎ, অপ্রত্যাশিত রূপান্তরের মাধ্যমে। একসময় যে পরিবর্তন ছিল ‘ভুল’ বা দুর্ঘটনা, তা-ই পরবর্তীতে মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। আজ কোটি কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার ভরসা এই আলু।

হাল ফ্যাশনের পাঠকদের জন্য এই গল্প শুধু বিজ্ঞান নয়, অনুপ্রেরণাও বটে। কারণ প্রকৃতির মতো জীবনেও কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনই এনে দেয় নতুন সম্ভাবনা। টমেটোর ছায়া থেকে উঠে এসে আলু যেমন বিশ্বজুড়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছে, তেমনি প্রতিটি ছোট পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভবিষ্যতের বড় সাফল্য।
ছবি: এআই