কেমন ছিল ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ’
শেয়ার করুন
ফলো করুন

১০০ ডিজাইনারের কাজ, একাধিক ফ্যাশন শো, ঐতিহ্যনির্ভর সংগ্রহ আর টেকসই ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা—সব মিলিয়ে দুই দিনের আয়োজন ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ ২০২৬’ ছিল দেশের নকশা ও সৃজনশীলতাকে নতুন করে দেখার একটি উপলক্ষ।

৬ ও ৭ অক্টোবর রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে র‍্যাম্পের পোশাক উপস্থাপনা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, কারুশিল্প ও ডিজাইনের ভবিষ্যৎ।

‘ডিসকভারড, ডিজাইনড অ্যান্ড ডেভেলপড ইন বাংলাদেশ’—অর্থাৎ বাংলাদেশেই আবিষ্কার, নকশা ও উন্নয়ন—প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সপ্তাহের মূল ভাবনা ছিল দেশের নিজস্ব সৃজনশীলতাকে সামনে আনা। প্রদর্শনী, ফ্যাশন শো ও প্যানেল আলোচনা—সব মিলিয়ে আয়োজনটি শুধু পোশাক প্রদর্শনের মঞ্চ ছিল না; বরং দেশীয় নকশার পরিচয়, ঐতিহ্যের ব্যবহার এবং সৃজনশীল শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনারও জায়গা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাম্পে ঐতিহ্যের নতুন পাঠ

দুই দিনের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফ্যাশন শোগুলো। প্রথম দিনের রানওয়েতে কালেকশন উপস্থাপন করেন হুমায়রা আজবি জিনাস, নাফিসা তাসনিম জামানা ও হৃদিকা নুসরাত কুন্তলা। তাঁদের সংগ্রহের মধ্য দিয়ে সমসাময়িক ফ্যাশনে ডিজাইনারদের নিজস্ব ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

এর মধ্যে হৃদিকা নুসরাত কুন্তলার ‘ম্যাজেস্টিক্লো’ সংগ্রহে গুরুত্ব পেয়েছে ঐতিহ্যকে সমসাময়িক ফ্যাশনের সঙ্গে যুক্ত করার ভাবনা। ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) সহকারী অধ্যাপক হৃদিকার এই উপস্থাপনা আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দেশের ঐতিহ্যকে কেবল সংরক্ষণ নয়, বরং নতুন নকশার মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ের উপযোগী করে তোলার যে ভাবনা, এমন সংগ্রহে তারই প্রতিফলন দেখা যায়। র‍্যাম্প শুরুর আগে ছিল কাঁকনের ধ্রুপদি পরিবেশনা।

হুমায়রা আজবি জিনাসের সংগ্রহের কোরিওগ্রাফি করেন তৌফিকুর এলাহী সিয়াম। নাফিসা তাসনিম জামানা ও হৃদিকা নুসরাত কুন্তলার সংগ্রহের কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন ইমতিয়াজ তুষার।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় দিনের ‘আনটোল্ড স্টোরি’

দ্বিতীয় দিনের ফ্যাশন শো সাজানো হয়েছিল ‘আনটোল্ড স্টোরি’ শিরোনামে। এতে সংগ্রহ উপস্থাপন করেন কুহু প্লামান্দন, মাইমুনা আঞ্জুম ও ঐশী জাহান মরিয়ম।

তিন ডিজাইনারের সংগ্রহ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের রানওয়ে আয়োজন। কুহু প্লামান্দনের সংগ্রহের কোরিওগ্রাফি করেন হৃদিকা নুসরাত কুন্তলা, মাইমুনা আঞ্জুমের সংগ্রহে ছিলেন উমামা আহসান নামিরা এবং ঐশী জাহান মরিয়মের সংগ্রহের কোরিওগ্রাফি করেন সিমরিন আবসার নওমী।

ফ্যাশন শোর পাশাপাশি দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় ‘ঐতিহ্য, ফ্যাশন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি টেকসই সৃজনশীল রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তোলা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা।

আলোচনার বিষয়বস্তু আয়োজনটির পরিসরকে পোশাকের নকশার বাইরেও বিস্তৃত করেছে। ঐতিহ্য, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দেশের সৃজনশীল শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে ভাবনাই ছিল এর কেন্দ্রে।

ডিজাইনার ডিসকভারি প্যাভিলিয়ন

দুই দিনের আয়োজনজুড়ে ছিল ‘ডিজাইনার ডিসকভারি প্যাভিলিয়ন’, যেখানে ডিজাইনারদের কাজ দেখার সুযোগ ছিল। ফ্যাশন শোর পাশাপাশি এই প্রদর্শনীও ছিল আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কারণ, নকশার সম্ভাবনা বোঝার জন্য শুধু রানওয়ে নয়, ডিজাইনারদের কাজ ও সৃজনশীল উদ্যোগ কাছ থেকে দেখার সুযোগও প্রয়োজন।

ভবিষ্যতের ফ্যাশন নিয়ে ভাবনা

ডিজাইন ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণার উদ্যোগে আয়োজিত এই সপ্তাহে সহযোগী হিসেবে ছিল বিইউএফটি, বিসিক, টিএএটি বোর্ড, লার্ন লাইট ও টেক্সটাইল ফোকাস। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেড। আয়োজনের বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন বিইউএফটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ফ্যাশন, হেরিটেজ ও ফটোগ্রাফি ক্লাবের সদস্যরা।

দুই দিনের আয়োজনের দিকে ফিরে তাকালে ফ্যাশন শোগুলোই ছিল এর সবচেয়ে দৃশ্যমান আকর্ষণগুলোর একটি। একাধিক ডিজাইনারের সংগ্রহ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে নকশার বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার সম্ভাবনা।

তবে আয়োজনটির তাৎপর্য কেবল র‍্যাম্পে সীমাবদ্ধ নয়; বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্যকে কীভাবে সমসাময়িক পোশাকে নতুনভাবে তুলে ধরা যায়, ফ্যাশনশিক্ষার সঙ্গে শিল্পের সংযোগ কীভাবে বাড়ানো সম্ভব এবং দেশীয় ডিজাইনারদের কাজ আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ছবি: হালফ্যাশন

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ১০
বিজ্ঞাপন