
ঝড়ের গতিতে চলছে ঈদের প্রস্তুতি। ঈদকে সামনে রেখে শত শত ভিনদেশি পোশাকপ্রেমীদের ভিড়ে দেশীয় নকশার পোশাকই প্রথম পছন্দ—এমন ক্রেতার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আবার যদি ঈদ না পেরোতেই দোরগোড়ায় এসে উপস্থিত হয় বাঙালির প্রিয় উৎসব পয়লা বৈশাখ, তবে তো কথাই নেই। ক্রেতার পছন্দ, চাহিদা, আরাম, আবহাওয়া ও উপলক্ষ—সব কথা মাথায় রেখেই পোশাকে নকশা তৈরির ছক কষেন দেশীয় নকশাকারেরা। সেই সঙ্গে ইতিহাসপ্রেমী ক্রেতার কথা মাথায় রেখে পোশাকে ওয়ার্লি আর্ট, রিকশা পেইন্ট, পৌরাণিক কাহিনী, ইসলামিক স্থাপত্য নকশা, মুঘল চিত্রকলা, এমনকি সিন্ধু সভ্যতার আজরাখ প্রিন্টও উঠে এসেছে।

ঢাকার রিকশা ও এতে আঁকা ছবি ইউনেসকো স্বীকৃত ‘কালচারাল হেরিটেজ’। রংবেরঙের ফুল-পাখি, মসজিদ-মিনার, তাজমহল ও তারকাদের ছবি এঁকে করা রিকশা পেইন্ট জনপ্রিয় হয় সত্তরের দশক থেকে। ২০০০ সালের মাঝামাঝি পোশাকে উঠে আসে রিকশার রংবেরঙের চিত্র, নকশা ও নাটকীয় সব লেখা।

আসন্ন পহেলা বৈশাখের কথা মাথায় রেখে এবারের ঈদের পোশাকে রিকশাচিত্রকে প্রাধান্য দিয়েছে অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘হরিতকী’। ড্রেস, স্কার্ট, কুর্তি, ওড়না ও শাড়ির জমিন আর পাড় জুড়ে ফুটে উঠেছে বিচিত্র সব রিকশাচিত্র।

ঐতিহ্যবাহী ওয়ার্লি আর্টের থিমে শাড়ি এনেছে সরলা। ভারতের মহারাষ্ট্রের এই আদি আর্টফর্মের আদলে ডিজিটাল প্রিন্ট করা হয়েছে এই শাড়িতে।
ডিজাইনারেরা অনেক সময়ই প্রাচীন স্থাপত্য ও ল্যান্ডস্কেপকে তুলে আনেন পোশাকের নকশায়।

সরলার শাড়িতে উঠে এসেছে প্রাচীন মোগল স্থাপত্য। ডিজিটাল প্রিন্টের মাধ্যমে এই ছবি শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


এবার ঈদে পুরাণের বিভিন্ন চরিত্র, বুদ্ধের চিত্র, ইসলামিক বিভিন্ন স্থাপত্য এবং মুঘল চিত্রকলার চিত্র পোশাকের জমিনে ফুটে উঠেছে। পোশাকের নকশায় বিভিন্ন ধরনের ইসলামিক মোটিফ ও ট্যাপেস্ট্রির প্যাটার্নের মিশেলে সালোয়ার–কামিজ চোখে পড়বে। আরও রয়েছে স্টেনসিল প্রিন্ট ও জিওম্যাট্রিক প্যাটার্নের পোশাক ও শাড়ি।
জনশ্রুতি আছে, প্রাচীনতম নকশা ‘আজরাখ’–এর যোগাযোগ প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার সঙ্গে। এরপর ভারতের কচ্ছ জেলার আজরাখপুর গ্রামে এ নকশার প্রচলন শুরু হয়। এবারের ঈদের বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আজরাখ প্রিন্টের সিল্কের শাড়ি।


আজরাখ মূলত কাপড়ের ওপর করা একধরনের ব্লক প্রিন্টিং, যাতে নকশাটি হয় জালের মতো। তাই আজরাখের স্ক্রিন বা ডিজিটাল প্রিন্ট করা ব্যতিক্রমী পোশাক দিয়ে এবারে ঈদের বাজার মাতিয়েছে ব্র্যান্ড, ‘ সাদা কালো’।