বৈশাখের শাড়ি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বৈশাখের প্রথম দিনে মেয়েদের পোশাক হিসেবে শাড়িই যেন কাঙ্ক্ষিত। সাদা আর লালেই উজ্জ্বল হয় দিনটি। তবে নানা রঙের অনুপ্রবেশ ঘটেছে ইতিমধ্যে। ফলে বৈশাখ সংগ্রহে এখন নানা বর্ণের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বৈশাখের শাড়ির নানা হদিস দিয়েছেন সারাহ্ দীনা

বিজ্ঞাপন

চৈত্রের শেষ প্রহর আসি আসি। বৈশাখের নতুন সূর্য অপেক্ষমাণ। আর মাত্র কয়েক দিন পরে নতুন বছরের তারিখ গুনবে বাঙালি। মেতে উঠবে আনন্দে। সাজবে নানা সাজে।

আর বছরের প্রথম দিনে নারীর পোশাক হিসেবে শাড়ির আবেদন অস্বীকার করার উপায় নেই। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায় বৈশাখের প্রধান অনুষঙ্গ ছিল লাল-সাদা হালখাতা। রং দুটির যুগলবন্দি আনকোরা বছরের শুভাগমনের সঙ্গে মিশে যাওয়ার শুরু সেখান থেকে। শুভ্রতার সঙ্গে লালিমা গলাগলি করে মিশে আছে পয়লা বৈশাখের সঙ্গে। বৈশাখের নতুন শাড়ির প্রধান রং হিসেবে তাই লাল আর সাদার উজ্জ্বল উপস্থিতি সবখানেই। দেশি পোশাক বাজারের দিকে লক্ষ করলে দেখ যায়, নতুন নতুন রঙের দেখা মিলছে ঠিকই, কিন্তু লালা আর সাদার ঐতিহ্য কমেনি একরত্তিও।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বৈশাখ বাজার জমে উঠেছে। দেশি ডিজাইনারদের দেশি সুতায় তৈরি শাড়ির জন্য চলে যেতে পারেন আড়ং, দেশি দশের দশ ব্র্যান্ড, আজিজ সুপার মার্কেট, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, দোয়েল সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক। যেতে পারেন মিরপুর বেনারসি পল্লি। বছরের শেষ ও শুরুর এই সন্ধি সময়ে লাল, সাদা বা লাল–সাদার মিশেলে তৈরি শাড়ির চাহিদা থাকে তাঁদের কাছেও।

আড়ংয়ে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এসেছে বিশেষ আয়োজন। এখানে রেশমি, ভয়েল, সুতি, চোষা কাতান, মিরপুর কাতানের সংখ্যাই বেশি বলা যেতে পারে। রঙের ক্ষেত্রে লাল-সাদার বৃত্ত ভেঙে অন্যান্য রঙের দিকেও নজর দিয়েছে। সাদার নানা শেডের ব্যবহার নজর কাড়বে। দুধ সাদা থেকে কাঠগোলাপের সাদা—আড়ংয়ের বৈশাখ আয়োজনে উপস্থিতি জানান দিচ্ছে সরবে। চোখের শান্তি প্যাস্টেলের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে সাদার সঙ্গে। দুনিয়াজুড়েই এখন প্যাস্টেল গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই বলা যেতে পারে, একান্ত বাঙালির উৎসবের সঙ্গে বেশ ভালোই মিশে গিয়েছে বিশ্ব ফ্যাশনের নতুন ধারা। বিশ্বায়নের যুগে এ দুয়ার তো খোলারই কথা ছিল। অলংকরণে ছাপা, অ্যাপ্লিকে, এমব্রয়ডারি, ডাইয়ের ব্যবহার দেখা গিয়েছে। হাজারের ওপরে বাজেটেই কেনাকাটা করে নেওয়া যাবে আড়ংয়ের বৈশাখী শাড়ি।

দেশি দশের দশ দেশি ব্র্যান্ড বাঙালির নিজস্ব উৎসব, পার্বণ আর দিবসনির্ভর পোশাক তৈরি করে। এর মাঝে বর্ষবরণের পোশাক হিসেবে শাড়ি বরাবরই গুরুত্ব পায়। দেশি দশের ব্র্যান্ডগুলো পয়লা বৈশাখের শাড়ি তৈরি করেছে দেশীয় তন্তুতে তৈরি ফেব্রিকের ব্যবহারে। তাঁতে বোনা কাপড় এ ক্ষেত্রে পেয়েছে প্রাধান্য। সুতি, সিল্ক, হাফসিল্ক শাড়িতে অলংকরণে দেখা যাচ্ছে ব্লক, টাই-ডাই, এমব্রয়ডারির ব্যবহার। অলংকরণে দেশি মোটিফ ব্যবহারের প্রাধান্য রয়েছে।

কে ক্র্যাফট এবার শাড়ি তৈরির জন্য ভিসকস, হাফ সিল্ক, সুতি ফেব্রিক বেছে নিয়েছে। লালা-সাদার পাশাপাশি নানা রকম উৎসবমুখর রঙের ব্যবহার আছে। যেমন হলুদ, কমলা, উজ্জ্বল গোলাপি। দেশালের এবারের পয়লা বৈশাখের থিম ‘তুমি তোমার মতো’। এই আয়োজনে সাদা ও লালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অঞ্জন’স-এ উজ্জ্বল রঙের শাড়ি দেখা যাচ্ছে। রঙ বাংলাদেশের শাড়িতে লালের নানান রকম শেডের ব্যবহার দেখা যায়। কমলা, মেরুন, সাদা, মিন্ট, পাউডার পিংক, নীল—এই রংগুলোও রয়েছে। সাদা রং শাড়িতে উজ্জ্বল রঙের অলংকরণ দেখা যাচ্ছে। ট্যাসেলের ব্যবহার রয়েছে কিছু শাড়ির আঁচলে যা শাড়িকে উৎসব উপযোগী করে তুলেছে।

আজিজ সুপারমার্কেট ঘুরে দেখা গেল দেশি তাঁতের শাড়ির আয়োজন। সুতি ও হাফ সিল্ক ব্যবহারে তৈরি করা হয়েছে শাড়ির বড় অংশ। ব্লক, টাই-ডাই, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ডপেইন্টে অলংকরণ করা হয়েছে।

রাজশাহী সিল্ক নিয়ে কাজ করেছে দোয়েল সিল্ক, নবরূপা ও সপুরা সিল্ক। বৈশাখের শাড়িতে লাল-সাদার প্রাধান্য থাকছে, তবে অন্য রংও ব্যবহার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরে তাঁতে বোনা সুতি, সিল্ক, জামদানি রয়েছে। লাল, সাদা, মাখন, সোনালি ও উজ্জ্বল রংগুলো বৈশাখের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে।
নতুন বছরের প্রথম দিন আরামদায়ক একটি শাড়ি বেছে নেওয়াটাই শ্রেয়। তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। স্বচ্ছন্দ অতএব গুরুত্বপূর্ণ।

পোশাক ও ছবি: কে ক্রাফট ও কিউরিয়াস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২২, ১৭: ২৪
বিজ্ঞাপন