সময়টা এখন শরতের দখলে হলেও মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির দেখা প্রায়ই মিলছে। এমন দিনে নিজেকে সাজাতে পারেন বোহো আমেজে। আসলে সাজপোশাক মানুষের জীবনে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে মেঘলা দিনগুলো রঙিন করতে পোশাক ও গয়নায় বোহো স্টাইলের জুড়ি মেলা ভার। অন্য কারও পছন্দ নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যই মূল বিষয় বোহো স্টাইলে। কিন্তু এর আগে জেনে নেওয়া যাক বোহো স্টাইল কী ও কেমন, তার ইতিহাস।
কোনো কিছুর পিছুটান নেই, ভবঘুরে কিংবা যাযাবর অর্থে প্রচলিত ‘বোহেমিয়ান’ শব্দটি। অনেকেই নিজেকে এই আখ্যা দিতে পছন্দ করেন। তবে শব্দটি এখন মানুষের জীবনধারা আর ফ্যাশনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চেক প্রজাতন্ত্রের একটি অঞ্চল হলো বোহেমিয়া। এ অঞ্চলের মানুষদের নির্দিষ্ট বাসভূমি নেই বা তাঁরা যাযাবর। এই গোষ্ঠী জিপসি ও রোমানি নামেও পরিচিত, যাঁদের বলা হয় বোহেমিয়েন্স। এখান থেকেই এসেছে বোহেমিয়ান শব্দটি। মুক্তমনা এসব মানুষের কোনো পিছুটান নেই। আর তাঁদের পোশাক-আশাকেও রয়েছে অন্য সবার চেয়ে ভিন্নতা।
ঢিলেঢালা, নানা রঙের প্রিন্ট আর পোশাকে খেয়ালি এমবেলিশমেন্টের খেলা থাকে এই স্টাইলে। বিশ শতকে পশ্চিমা ফ্যাশন ডিজাইনাররা তাঁদের পোশাকের ডিজাইনে নতুনত্ব আনতে বোহো স্টাইলের সাহায্য নেন। একসময় মূলধারার ফ্যাশনের সঙ্গে বোহো মিশে যায়। এভাবে বহু বছর ধরে বোহেমিয়ান স্টাইলটি আস্তে আস্তে তরুণদের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।
বোহো ফ্যাশনের ইতিহাস এখানেই শেষ নয়। তবে তরুণদের মধ্যে এর ধারাবাহিকতা এখন চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশে বৈশ্বিক ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বোহো ফ্যাশনে মেতে উঠছেন এখন ফ্যাশনপ্রেমীরা। শিল্পকে উপজীব্য করে ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই ফ্যাশন ট্রেন্ড।
এই স্টাইলের প্রতীক হচ্ছে উজ্জ্বল, পপিং রং, ট্যাসেল, পমপম, বীজ বা সি-শেলস (কড়ি, শামুক, ঝিনুক), পুঁতি, প্রাকৃতিক তন্তু থেকে বানানো ফেব্রিক, প্যাচওয়ার্ক, পেসলে প্যাটার্ন আর প্রচুর স্টেটমেন্ট জুয়েলারি।
বোহো স্টাইল বলতে সবার আগে মাথায় আসে ঢোলা প্রিন্টের শার্ট, পালাজ্জো, কাফতান, ঢোলা জামা, হারেম প্যান্ট, ফ্লোয়ি প্যাটার্নের স্কার্ট, ফ্লেয়ার দেওয়া প্যান্ট, কাউবয় বুট ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের দেশের অনলাইন ফ্যাশন উদ্যোগ ‘তাশা’র সৃজনশীলতায় বোহো স্টাইলে অন্য মাত্রা যোগ করেছে তাদের পোশাক ও অভিনব স্টাইলের গয়নাগুলো।
ব্র্যান্ডটির প্রতিটি পোশাকে রয়েছে রঙের ছোঁয়া আর বোহো আমেজ। এই আবহাওয়ায় মন ফুরফুরে রাখতে তাদের রয়েছে নানা স্টাইলের শার্ট। একেক শার্টে একেক কারুকাজ। ডলার বসানো মাল্টিকালার, সুতা ও ডলারের কাজ করা পকেট ও স্ট্রাইপ দেওয়া, ফুলের এমবেলিশমেন্ট করা ঢিলেঢালা কাটের, অ্যাপ্লিক আর প্যাচওয়ার্ক করা শার্ট আছে এখানে।
এ ছাড়া তাদের সংগ্রহে রয়েছে শাড়ি। কোনোটায় মাল্টিকালার পাড় বসানো, আবার কোনোটায় রয়েছে পকেট। শাড়ির জমিনে কিংবা পাড়ে নকশাকারেরা কড়ি, ঝুনঝুনি, পমপম আর নানা রকম বিডস নিয়ে খেলেছেন। তাতে বোহো ভাব ফুটে উঠেছে অনায়াসে। কুর্তি কিংবা ক্রপ টপের সঙ্গে চাইলে তাদের পকেটওয়ালা রঙিন ওড়নাও বেছে নেওয়া যায় এ রকম মেঘলা দিনে।
তবে পোশাকে শুধু এই স্টাইল ফুটে ওঠে, তা নয়; সাজ আর অনুষঙ্গেও থাকতে হবে বোহো ভাইব। যেমন কড়ি, পমপম, মিরর, বিডস, ঝুনঝুনি ইত্যাদি বসানো হাতের বালা কিংবা রঙিন পুঁতির ব্রেসলেট, কানে বহুরঙা ট্যাসেলের কিংবা ঝুলানো অক্সিডাইজড দুল, বর্ণিল সুতার নকশা করা কড়ির চোকার নেকপিস, রঙিন সুতা-পমপম আর কড়ির তৈরি চুলের অলংকার দিয়ে বিনুনি, চোখে মোটা করে দেওয়া কাজল, গাঢ় লিপস্টিক আর অনুষঙ্গ হিসেবে রাফিয়া কিংবা টোট ব্যাগ মানিয়ে যাবে বেশ।
বোহেমিয়ান লুকের অন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় আকারের সানগ্লাস, বোল্ড ডিজাইনের গয়না (কখনো কখনো বেশ বড় আকারের) আর পা খোলা স্যান্ডেল। তবে মনে রাখতে হবে, ফ্যাশন সর্বসাধারণের হলেও স্টাইল কিন্তু নিজস্ব। তাই নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে হবে নিজেকেই। ধরাবাধা নিয়ম না মেনে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকে এগিয়ে রাখাই মূল বিষয় বোহো স্টাইলে।
ছবি: তাশা