২০২৫ সালে ফিটনেস দুনিয়ার বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ওয়্যারেবল টেকনোলোজি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ফিটনেস গিয়ার বলতে এখন আর শুধু ডাম্বেল বা ট্রেডমিল বোঝায় না, স্মার্ট ওয়্যারেবল, স্টাইলিশ অ্যাথলিজার আর যেকোনো জায়গায় ব্যবহারযোগ্য হালকা ও কার্যকর সরঞ্জামই হয়ে উঠেছিল নতুন ফিটনেস ট্রেন্ড।

ওয়্যারেবল টেকনোলজি: শরীরচর্চায় ডিজিটাল রেভল্যুশন

২০২৫ সালে ফিটনেস ট্র্যাকার ও স্মার্ট ওয়াচ যেন হাতে থাকা এক অপরিহার্য সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। ফিটবিট চার্জ এইচআর কিংবা জ’বোন আপ টুর মতো ডিভাইসগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ, এগুলোর মাধ্যমে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই শরীরের নড়াচড়া নজরে রাখা সম্ভব। কত পা হাঁটলেন, কত ক্যালরি পোড়ালেন, ঘুমের মান কেমন—সব তথ্যই মুহূর্তে চলে আসে হাতের মুঠোয়। এই ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয় স্মার্ট অ্যাপারেল। অ্যাডিডাস বা অ্যাথোসের মতো ব্র্যান্ড হৃৎস্পন্দন মাপার সেন্সরযুক্ত স্পোর্টস ব্রা ও ক্যাপ্রি বাজারে আনে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে আরও নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত ডেটা সংগ্রহে সক্ষম। দৌড়বিদদের জন্য জিপিএস ঘড়ি, রাতের দৌড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্ল্যাশ লাইট’, এমনকি চৌম্বকীয় রানিং পাউচ—সব মিলিয়ে বিদায়ী বছরে ফিটনেস–জগতে প্রযুক্তির একপ্রকার জয়জয়কারই দেখা গেছে।

অ্যাথলিজার: জিম থেকে প্রাত্যহিক লাইফস্টাইলের সংযুক্তি

২০২৫ সালে ‘অ্যাথলিজার’ আর কেবল ফ্যাশন ট্রেন্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছিল একধরনের লাইফস্টাইল। নাইকি, লুলুলেমন, অ্যাথলেটা কিংবা ফেবলেটিকসের পোশাকগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে জিম থেকে বেরিয়েই সেগুলো পরে ক্যাফে, আড্ডা কিংবা অফিসে যাওয়া যায় অনায়াসে। কমপ্রেশন টাইটস, স্লিভস ও মোজা তখন শুধু পেশাদার অ্যাথলেটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; সাধারণ মানুষও পারফরম্যান্স বাড়ানো ও দ্রুত রিকভারির সুবিধার জন্য এগুলো বেছে নিতে শুরু করে। ময়েশ্চার উইকিং ফেব্রিক, আরামদায়ক ফিট আর সাহসী ডিজাইনের কারণে অনেকের ওয়ার্ডরোবেই ধীরে ধীরে জিনসের জায়গা দখল করে নেয় ফিটনেস টাইটস।

বিজ্ঞাপন

হালকা কিন্তু কার্যকর সরঞ্জাম

বডিওয়েট ট্রেনিং ২০২৫ সালের সবচেয়ে আলোচিত ফিটনেস ট্রেন্ডগুলোর একটি হয়ে ওঠে। এর প্রভাবেই এমন সরঞ্জামের চাহিদা বাড়তে থাকে, যেগুলো সহজে ব্যাগে ভরে যেকোনো জায়গায় নিয়ে ব্যবহার করা যায়। এমনকি বার্সের মতো পোর্টেবল সাসপেনশন ট্রেইনার কিংবা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড জনপ্রিয়তা পায় তাদের সহজ ব্যবহার, হালকা গঠন আর বহুমুখী ব্যায়ামের সুবিধার কারণে। এমনকি পানির বোতলও তখন ফিটনেস স্টেটমেন্টে পরিণত হয়। পোলার বোতলের মতো ইনসুলেটেড বোতল ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি ঠান্ডা কিংবা গরম রাখতে সক্ষম হওয়ায় ফিটনেসপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয়। জুতার ক্ষেত্রেও ছিল স্পষ্ট বৈচিত্র্য—ওয়েট লিফটিংয়ের জন্য কনভার্সের মতো ফ্ল্যাট জুতা, আর শীতকালীন দৌড়ের জন্য সালোমন স্পাইকক্রসের মতো বিশেষায়িত রানিং শু থেকেছে পছন্দের শীর্ষে।

সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের ফিটনেস গিয়ার আমাদের শিখিয়েছে ফিট থাকা মানে কেবল ঘাম ঝরানো নয়, বরং স্মার্টভাবে নিজের শরীরকে বোঝা, আরাম আর স্টাইলের সঙ্গে সক্রিয় থাকা। সেই রেশ অব্যাহত থাকবে ২০২৬ সালে—এমন প্রত্যাশা ফিটনেস–বিশেষজ্ঞদের।

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ০০
বিজ্ঞাপন