হীরকচূর্ণে বোনানো কাপড়
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিলাসবহুল পোশাক শুনলেই সাধারণভাবে আমাদের মনে ভেসে ওঠে স্বর্ণখচিত, অলংকার জড়ানো রাজকীয় সব ঝলমলে পোশাক। কিন্তু সে যুগ পার হয়েছে এক শতাব্দী হলো। এখন সময়ের সঙ্গে মানুষ তাঁর রুচির মতো পাল্টে নিয়েছে লাক্সারি ফ্যাশনের ধরন-ধারণ।

মূল্যবান পোশাকে দামি ধাতু আর মণি-মুক্তার কারুকাজ পেছনে ফেলে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে সেলিন কিংবা সাঁ লরাঁর মতো ব্র্যান্ডগুলো বহু আগেই এনেছে জ্যাকেটের ইনসাইড কলার কিংবা ডেনিম ট্রাউজারের ইনসাইড বেল্টে ১৮ ক্যারেটের গোল্ড চেইন। অভাবনীয় ব্যাপার হলা, এখন এই লাক্সারি ফ্যাশনের ধারাবাহিকতায় কাপড়ের বুননেই যোগ করা হচ্ছে সূক্ষ্ম হীরকচূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে বহু ইতিহাস জড়িয়ে আছে। রয়েছে কারিগরদের অসীম ধৈর্য, গবেষকদের উদ্ভাবনী শক্তি আর ডিজাইনারদের মেধা ও অধ্যবসায়ের গল্প। যুগ যুগ ধরে ব্র্যান্ডগুলো নিরলস কাজ করে চলেছে গুণগত মান ও ব্র্যান্ডের ট্রেডমার্ক বিশেষত্ব ধরে রাখতে। বিশ্বের সেরা ১০টি দামি ফেব্রিক উৎপাদনকারী কোম্পানির মধ্যে নাম রয়েছে ‘স্কাবাল’-এর। লাক্সারি স্যুটিং ফেব্রিকে এরমানিজিলডো জেনিয়া, লোরো পিয়ানা, ফ্রাটেলি তাইয়াদির পাশাপাশি স্কাবালের নাম এখন অগ্রগণ্য।

২০০১ সালে বেলজিয়ান টেক্সটাইল কোম্পানি স্কাবাল বিলাসবহুল ফেব্রিক শিল্পে আনে যুগান্তকারী পরিবর্তন। তারা নিয়ে আসে ‘ডায়মন্ড চিপ’। এটি হচ্ছে একটি এক্সক্লুসিভ ফেব্রিক, যা মাইক্রোস্কোপিক হীরার চূর্ণ মিশ্রিত। আকর্ষণীয় ফেব্রিক তৈরির প্রক্রিয়াটি ভীষণভাবেই গোপনীয় ও সুরক্ষিত। আর ফ্যাশন জগতের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের অতি ধনীরা এই ‘ডায়মন্ড চিপ’–এর প্রতি এতটাই মুগ্ধ হয়েছে যে বিশ্বজুড়ে এখন এই ট্রেন্ড অনুসরণ করে বিলাসবহুল কাপড় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো  তাদের কাপড়ে ২৪ ক্যারেট সোনা, প্ল্যাটিনাম বা মূল্যবান পাথরের মতো ব্যয়বহুলসামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করা শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

পোশাকে মণি-মুক্তা, হীরা-জহরত বা দামি ধাতুর এমবেলিশমেন্ট বা তন্তু যোগ করার বিষয়টি আগেও প্রচলিত ছিল। কিন্তু ফেব্রিকের বুননে সূক্ষ্ম হীরকচূর্ণ মেশানো আর তা খালি চোখে দেখা না যাওয়ার পুরো ধারণাটিই খুবই অভিনব। খুব মোটা দাগে চাকচিক্য না দেখিয়েও এই অভাবনীয় রকমের বিলাসী ফেব্রিক ব্যবহারে বানানো স্যুটের আভিজাত্য আর এলিগেন্স একেবারেই আলাদা।

বেলজিয়ান কোম্পানি স্কাবাল তাদের এই কাপড় অর্থাৎ ডায়মন্ড চিপ মূলত ইংল্যান্ডের হাডার্সফিল্ডে তৈরি করে থাকে। অত্যন্ত বিশিষ্ট গুণাবলি সম্পন্ন উচ্চমানের মেরিনো উলের সঙ্গে সিল্ক এবং গুঁড়া করা হীরা মিশ্রিত হয়। যার ফলে মেলে এই বিলাসবহুল ফেব্রিক, যা বেশ আরামদায়ক। চমৎকার শাইনও রয়েছে কাপড়ে। পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়াটি প্রায় দুই দশক ধরে গোপন রয়েছে। বর্তমানে এই কাপড়ের মূল্যে কিছুটা হেরফের হলেও মিটার প্রতি সাধারণত মূল্য ধারণ হয় ১২ হাজার ৫০০ ইউরো, যা সাধারণ মানুষের চোখ কপালে তোলার মতোই বটে।

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০৫: ০০
বিজ্ঞাপন