
প্যারিসে আলোচিত ‘দেবী’ সংগ্রহকে এবার নতুনভাবে ভারতের দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন রাহুল মিশ্র। সেই উপস্থাপনার শেষ মুহূর্তে সবিতার উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে তুলে ধরে ভিন্ন আবেদনে।

সবিতার প্রথম উপস্থিতিই দর্শকদের নজর কাড়ে। আইভরি ও শ্যাম্পেন রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজে তৈরি বডিস, ক্রিস্টাল অলংকরণ এবং নিখুঁত এমব্রয়ডারিতে তৈরি পোশাক তাকে এনে দেয় স্বর্গীয় আবহ। পরে মঞ্চেই সেই পোশাকের সঙ্গে যুক্ত করা হয় ফুলেল নকশায় সজ্জিত ভারী লেহেঙ্গা, অলংকার এবং অন্যান্য অনুষঙ্গ। পুরো রূপান্তরটি ঘটে দর্শকদের সামনেই।
মুহূর্তটি যেন কোনো দেবীমূর্তিকে ধীরে ধীরে অলংকৃত করার আচার। ফ্যাশন শো নয়, বরং একটি জীবন্ত পারফরম্যান্স। যা মুগ্ধ করে দর্শকদেরও।
সবিতার ভাষায়, রাহুল মিশ্রর পোশাক শুধু পরিধানের জন্য নয়, অনুভব করার। প্রতিটি সৃষ্টিতে থাকে আবেগ, শিল্প আর গল্প বলার শক্তি। তিনি বলেন, এমন পোশাক পরলে মনে হয় কোন জীবন্ত চরিত্রে প্রবেশ করেছি।

এই লুকে তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল ম্যাগনোলিয়া ফুল থেকে অনুপ্রাণিত চুলের অলংকার। তার মতে, এটি পুরো সাজকে আরও ভাস্কর্যের মতো শৈল্পিক করে তুলেছে এবং পোশাকের গল্পকে সম্পূর্ণ করেছে।
চলচ্চিত্রে অভিনয় আর র্যাম্পে হাঁটা, দুই অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। তবে দুটির মধ্যেই একটি বিষয় অভিন্ন, তা হলো গল্প বলা।
সবিতা জানান, তিনি কখনো শুধু হাঁটার কৌশল নিয়ে ভাবেন না। বরং সংগ্রহটির আবেগ, ভাবনা এবং ডিজাইনারের দর্শন বোঝার চেষ্টা করেন। ডিজাইনার দর্শকদের কী অনুভব করাতে চান, সেটিই আগে উপলব্ধি করেন। এরপর পোশাকই যেন তাকে পথ দেখায়।

ভারতীয় কতুর নিয়ে সবিতার দৃষ্টিভঙ্গিও বেশ স্পষ্ট। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন ভারতীয় ফ্যাশন শুধু সূক্ষ্ম কারুশিল্পের জন্য নয়, বরং সৃজনশীলতা, কল্পনা ও সাংস্কৃতিক গভীরতার জন্যও সমানভাবে সমাদৃত।

তিনি মনে করেন, ভারতীয় ফ্যাশনের আর কোনো একক পরিচয় নেই। এটি একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী, নিরীক্ষাধর্মী, আধুনিক, স্থাপত্যনির্ভর কিংবা রোমান্টিক হতে পারে। এই বহুমাত্রিকতাই ভারতীয় কতুরকে বিশ্বমঞ্চে আলাদা করে তুলছে।

রাহুল মিশ্রর ‘দেবী’ সংগ্রহের অনুপ্রেরণা এসেছে প্রাচীন ভারতীয় মন্দিরের ভাস্কর্য এবং দেবীসত্তা থেকে। তার নিজস্ব সূচিশিল্প কৌশলে সুতো দিয়ে স্তর তৈরি করে এমন এক ভিজ্যুয়াল সৃষ্টি করা হয়েছে, যা দূর থেকে দেখতে পাথরের খোদাইয়ের মতো মনে হলেও বাস্তবে অত্যন্ত নরম ও গতিশীল।

এই সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি উৎসব মৌসুমের নতুন কতুর সংগ্রহও উন্মোচন করেন, যেখানে জরির কাজ, হাতে আঁকা বস্ত্র এবং ভাস্কর্যধর্মী ফুলেল নকশা ভারতীয় কারুশিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

রাহুল মিশ্রর শিল্পভাবনা আর সবিতা ধুলিপালার উপস্থিতি মিলিয়ে ইন্ডিয়া কতুর উইক ২০২৬-এর শেষ সন্ধ্যা হয়ে উঠেছে নিঃসন্দেহে বছরের অন্যতম স্মরণীয় ফ্যাশন মুহূর্ত। যেখানে র্যাম্প শুধু পোশাক প্রদর্শনের জায়গা ছিল না, বরং ভারতীয় শিল্প, ঐতিহ্য এবং সমকালীন কতুরের এক অনন্য উদযাপন।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম