বিশ্বকাপের মাঠে শুধু গোল নয়, যে ১১ স্টাইল-মুহূর্তে মুগ্ধ ফ্যাশন দুনিয়া
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর একের পর এক রেকর্ড ভঙ্গের ইতিহাস। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আরও একটি কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, আর তা হচ্ছে ফ্যাশনের অনবদ্য উজ্জাপন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়, কোচ, তারকা ও ডিজাইনাররা এমন সব স্টাইল স্টেটমেন্ট উপহার দিয়েছেন, যা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ফ্যাশন অঙ্গন সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কেউ ফিরেছেন ভিনটেজ জ্যাকেটে, কেউ ইতিহাসকে জড়িয়ে নিয়েছেন জার্সিতে, কেউ আবার কোটি টাকার বিলাসবহুল ব্যাগ কাঁধে দেখিয়েছেন নিজের ফ্যাশন পরিচয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ১১ স্টাইল মুহূর্ত।

১. টিমোথি শ্যালামের ভিনটেজ জ্যাকেটেই বাজিমাত

ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালে হলিউড তারকা টিমোথি শ্যালামে পরেছিলেন ১৯৯৬-৯৮ সালের ভিনটেজ অ্যাডিডাস ফ্রান্স ট্র্যাক জ্যাকেট। রেট্রো ট্র্যাক জ্যাকেট, ওভাল সানগ্লাস আর রুপালি স্নিকার্স। পুরো লুকটি যেন প্রমাণ করল, পুরোনো ফ্যাশনই আবার নতুন ট্রেন্ড।

২. আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেথড ড্রেসিং

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নেভি রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। এটি শুধু একটি জার্সি ছিল না। ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলার কৌশল। ফ্যাশনের ভাষায় একে বলা হয় ‘মেথড ড্রেসিং’। যেখানে পোশাকই হয়ে ওঠে গল্প বলার মাধ্যম।

৩. পুরোনো বুটেই সবচেয়ে আলাদা মাইকেল ওলিসে

নতুন বুট নয়, বরং বহু আগে প্রডাকশন বন্ধ হয়ে যাওয়া নাইকির হাইপারভেনম বুটই এখনও পছন্দ ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসের। পরে শিল্পীদের দিয়ে জার্সির সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রঙে সাজিয়ে নেন সেগুলো। ব্যক্তিগত স্টাইল যে ব্র্যান্ডের চেয়েও বড়, এটি তারই প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন

৪. কঙ্গোর আগমনেই ফ্যাশনের জয়

৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ফুটবলাররা বিমানবন্দরে হাজির হন নিজ দেশের ডিজাইনার অ্যালভিন ম্যাকের তৈরি নিখুঁত কালো স্যুটে। চিতাবাঘের নকশা, রুপালি ব্রোচ ও তারকা-আকৃতির ব্যাগে ছিল আফ্রিকান ঐতিহ্যের গর্ব।

৫. বিশ্বকাপে নেই, তবু ফ্যাশনের প্রথম সারিতে

নাইজেরিয়া বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। কিন্তু গোলরক্ষক মাদুকা ওকোয়ে ঠিকই জায়গা করে নেন প্যারিস ওত কতুর উইকের প্রথম সারিতে। ফুটবল তারকা থেকে ফ্যাশন আইকনে রূপ নেওয়ার এই গল্পও কম চমকপ্রদ নয়।

৬. ফুটবলারদের কাঁধে এবার বিলাসবহুল ব্যাগের রাজত্ব

বিশ্বকাপে এবার জার্সির মতোই নজর কেড়েছে ব্যাগ।
* আর্লিং হালান্ডের ডলচে অ্যান্ড গাবানা টোট
* কিলিয়ান এমবাপ্পের ডিওর টোট
* জুড বেলিংহ্যামের লুই ভিতোঁ কিপঅল
* লিওনেল মেসির আরমেস এইচএসি ব্যাগ
* ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাস্টম ক্রোম হার্টস ডাফল
* লামিন ইয়ামালের শ্যানেল টোট
মনে হয়েছে, এবার যেন মাঠের বাইরের ''ম্যান অব দ্য ম্যাচ'' ছিল বিলাসবহুল ব্যাগগুলোই।

৭. ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম এখনও স্টাইলের রানি

একসময় ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্টাইল আইকনদের একজন ছিলেন ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম। দুই দশক পরও তাঁর পরিমিত, মার্জিত ও বিলাসবহুল উপস্থিতি দেখিয়ে দিল। সত্যিকারের স্টাইল কখনও পুরোনো হয় না।

বিজ্ঞাপন

৮. গোলাপি বুটের ঝড়ে রঙিন বিশ্বকাপ

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত ফুটওয়্যার ট্রেন্ড ছিল উজ্জ্বল গোলাপি বুট। নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা ও নিউ ব্যালান্স। প্রায় সব বড় ব্র্যান্ডই একই রঙে বাজি ধরেছিল। ফলে মাঠজুড়ে গোলাপি হয়ে উঠেছিল নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।

৯. জার্সিতে ফিরল ভিনটেজ কলার

ফ্রান্সের জার্সিতে নাইকি ও জাকম্যুসের যৌথ নকশা ছিল ছোট্ট কিন্তু দারুণ চমক। একটি সাধারণ কলারই পুরো জার্সিকে এনে দিয়েছে পুরোনো দিনের সৌন্দর্য।

১০. ইংল্যান্ডের অফ-ফিল্ড লুকেও গ্ল্যামার

নাইকি ও প্যালেসের যৌথ নকশায় ইংল্যান্ড দলের অফ-ফিল্ড পোশাক ছিল ঝকঝকে, আধুনিক এবং তরুণদের পছন্দের মতো। মাঠের বাইরেও স্টাইলের প্রতিযোগিতা যে সমান তীব্র, সেটাই যেন বোঝাল এই লুক।

১১. গোলরক্ষকদের জার্সিতেও ডিজাইনারের ছোঁয়া

পুমার গোলরক্ষকদের জার্সি নতুনভাবে ডিজাইন করেছেন মার্কিন স্নিকার ডিজাইনার সালেহে বেমবুরি। তাঁর স্বাক্ষরধর্মী নকশা গোলরক্ষকদের জার্সিকেও এনে দিয়েছে আলাদা ব্যক্তিত্ব।

শেষ বাঁশির পরও যে স্টাইলের জয়

২০২৬ বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে, ফুটবল এখন আর শুধু খেলা নয় এটি ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক মঞ্চ। মাঠে কেউ গোল করেছেন, কেউ ট্রফি জিতেছেন। কিন্তু স্টাইলের দুনিয়ায় টিমোথি শ্যালামে, মেসি, এমবাপ্পে, হালান্ড, লামিন ইয়ামাল কিংবা ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম প্রত্যেকেই রেখে গেছেন আলাদা স্বাক্ষর।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম ও এএফপি

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৪: ০০
বিজ্ঞাপন