
ব্যারেল প্যান্টস এর বাঁকানো, মাঝে ফুলে ওঠা ও নিচের দিকে গিয়ে আবার সরু হয়ে আসা শেপ দেখে একে অনেকেই বলছে ‘হর্সশু প্যান্ট’, ‘বানানা প্যান্ট’ বা ‘বর্শেল সিল্যুয়েট’। যাই বলা হোক না কেন, ফ্যাশনের ভাষায় এটি এখন সাহসী, স্মার্ট এবং সর্বশেষ ট্রেন্ড। যদিও ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা এটিকে এখন আর ট্রেন্ড বলতে রাজি নন। তাদের ভাষায় এটি এখন একটি সিলুয়েট। আবার অনেকই বলছেন এখন এটি একটি নতুন বেসিক। ফ্যাশন সমালোচকেরা বলছেন, ব্যারেল প্যান্টস এখন স্কিনি জিনস, কার্গো, পালাজোর মতোই বেসিক সিলুয়েটের জায়গা নিয়ে ফেলেছে। মানে এটি ‘কিছুদিনের জন্য’ আসেনি। এটি স্থায়ী জায়গা দখল করে নিবে। তাই ট্রেন্ড সেটারদের এখন চিন্তা একটাই, ব্যারেল প্যান্টস কাকে মানাবে আর কাকে মানাবে না। অথবা কোন ব্যারেল প্যান্টস কার জন্য সেরা।

যদিও এই সিলুয়েটের শেকড় ১৯২০-এর রাইডিং প্যান্টস ও ওয়ার্কওয়্যার থেকে এসেছে। আধুনিক ব্যারেল প্যান্টসকে জনপ্রিয় করে তোলেন পারসিয়ান ফ্যাশন ব্র্যান্ড আলাইয়া-র ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর পিটার মুলিয়ের, ২০২৩ সালের ফল কালেকশনের মাধ্যমে। এরপর ফিবি ফিলোর রিটার্ন কালেকশনে স্টাইলটি আরও চমকপ্রদভাবে ফিরে আসে। বলা যায় তারপর থেকেই ব্যারেল প্যান্টসের যুগ শুরু হয়। কেটি হোমস, জিজি হাদিদ, কেন্ডাল জেনার, জুলিয়ান মুর-এর মতো তারকাদের নানা সময় দেখা যায় ব্যারেল জিন্সে। গত দুই তিন বছরে যখন ট্রেন্ড সেটাররা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন এই সিলুয়েটের সঙ্গে তখন ব্র্যান্ড গুলোও আর পেছিয়ে নেই যেন। এতদিন শুধু মাত্র হাই-স্ট্রিট ব্র্যান্ড যেমন কোস, আর্কেট, মাঙ্গো ও রিফরমেশন-এর হ্যঙ্গারে শোভা ছড়ালেও।

ফ্যাশন সমালোচকদের মতে আসছে বছর অতিপরিচিত ব্র্যান্ড গুলির হ্যঙ্গারেও জায়গা করে নিতে যাচ্ছে ব্যারেল লেগস জিনস। অর্থাৎ লোয়ে, টোটেম, আগোলডে, সিটিজেনস অফ হিউম্যানিটি ও লিভাইসের পরবর্তী কালেকশনে দেখা যেতে পারে এই সিলুয়েট।
ট্রেন্ড সেটাররা ইতমধ্যে এর স্টাইলিং গাইডও প্রস্তুত করে ফেলেছেন-

ব্যারেল প্যান্টসের শেপ এতটাই স্টেটমেন্ট প্রকাশ করে যে বাকি লুক যত সরল হয়, তত ভালো।
সঙ্গে পরা যেতে পারে-
* ফিটেড টপ
* টার্টলনেক
* বডিস্যুট
* ক্রপড টি-শার্ট
এগুলো শেপটিকে ব্যালান্স করে।

সাদা বা আকাশি শার্ট টাক-ইন করে কোমরে একটি বেল্টই যথেষ্ট।
এই লুক অফিস, ব্রাঞ্চ কিংবা সাধারণ যেকোনো অনুষ্ঠানে মানিয়ে যাবে।

পিটার মুলিয়েরের রানওয়ে লুকের মতো ওভারসাইজড ব্লেজার ও ব্যারেল প্যান্টস এখন অত্যন্ত আধুনিক জুটি। তবে ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার হলে তা আরও স্ট্রাকচার্ড দেখাবে।

স্টেটমেন্ট তৈরিতে এটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ ভুল জুতা মানেই প্যান্টের শেপ হারিয়ে যায়।
সেরা অপশন:
* স্লিম/পয়েন্টেড বুট
* মেরি জেন
* ব্যালে ফ্ল্যাট
* মিউলস
* মিনিমাল স্যান্ডেল
যা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
* খুব ভারী বা চাঙ্কি স্নিকার
* ভারী বুট
এগুলো প্যান্টের টেপারিং নষ্ট করে দেয়।

অ্যাঙ্কল-লেংথ: ব্যারেল শেপটি বেশি দৃশ্যমান—যারা স্টেটমেন্ট চান, তাদের জন্য।
ফুল লেংথ: ঢিলেঢালা, বেশি রিল্যাক্সড ভাইব। পায়ের ওপর সামান্য পুল করলে আরও স্টাইলিশ দেখায়।

যদি পুরু ডেনিমে শেপটা বেশি মনে হয়, শুরু করুন কটন, সফট ডেনিম, টুইল কাপড় দিয়ে। এগুলোতে ভলিউম কম লাগে, ফিগারে সহজে মানায়।

স্টাইল এক্সপার্ট ও হারপার’স বাজার–এর এক্সিকিউটিভ এডিটর ক্রিস্টিনা ও’নিলের মতো—
* ব্ল্যাক ব্যারেল জিনস
* সিকুইন জ্যাকেট
* স্লিক কালো ফ্ল্যাট জুতা
এই লুক রাতের ইভেন্টেও দুর্দান্ত।
ব্যারেল প্যান্টস দেখতে যতটা সাহসী, পরতে ততটাই আরামদায়ক। শারীরিক গঠন বা বয়স কোনোটিই এক্ষেত্রে বাধা নয়। সঠিক টপ, সঠিক জুতা আর একটু আত্মবিশ্বাস। এই সিলুয়েট আপনাকে অনায়াসেই এনে দেবে আধুনিক, ন্যাচারাল, ফ্যাশন-ফরওয়ার্ড আভা।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইম, ভোগ, এল
ছবি: ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও তারকাদের ইনস্টাগ্রাম