ফ্যাশনে বছরসেরা থ্রিফট শপিং
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ফাহমিদা শিকদার

একসময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এক ভরসার জায়গা হয়েও থাকলেও পৃথিবীর প্রয়োজনে পরিবেশ সচেতন মানুষেরা থ্রিফট স্টোর থেকে কেনাকাটা করছেন।
থ্রিফট স্টোরে পোশাক–আশাক, আসবাবপত্র, মিউজিকাল বা ইলেকট্রিকাল যন্ত্রপাতিসহ যেকোনো জিনিস বিক্রি হতে পারে। সাধারণত অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত এসব স্টোর দান হিসেবে পাওয়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস কম দামে বিক্রি করে থাকে। তবে এর বাইরেও এটা ব্যবসা হিসাবে আস্তে আস্তে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিশ্বব্যাপী। আমাদের দেশেও থ্রিফট শপ জনপ্রিয় হচ্ছে।

হালে অনেক ভার্চ্যুয়াল থ্রিফট শপ ওয়েবসাইট চালু হওয়ায় ক্রেতারা ইন্টারনেটেই সেকেন্ডহ্যান্ড জিনিস পছন্দ করতে পারছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে থ্রিফট স্টোর এমন জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে টায়রা ব্যাংকস, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, জুলিয়া রবার্টস, সারা জেসিকা পার্কার, ড্রিউ ব্যারিমোর, হেলেন মিরেনের মতো এ-লিস্ট সেলিব্রিটিদেরও এখান থেকে শপিং করতে দেখা যায়। ২০১৩ সালে বিলবোর্ড হট হান্ড্রেড চার্টের শীর্ষস্থান দখল করে ম্যাকলমুর ও লুইসের গান ‘থ্রিফট শপ’। এই গানে বলা হয়, গুচির মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের জিনিস কেনা হলো ‘ব্যবসার ছলনায় ভোলা’। এ জন্য এই গানে থ্রিফট স্টোরে শপিং করার উৎসাহ দেওয়া হয়।  

বিজ্ঞাপন

সিনথেটিক ফাইবার (বিশেষ করে পলিয়েস্টার) আবিষ্কারের ফলে মানুষ নতুন কাপড়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। জমতে থাকে পরিত্যক্ত পোশাকের স্তূপ। এর সুবাদে পঞ্চাশের দশকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে কনসাইনমেন্ট (চালান) শপ। এই স্টোরে অনেকটা কম দামে সেকেন্ডহ্যান্ড ট্রেন্ডি পোশাক পাওয়া যেতো। ষাটের দশকে হিপিদের মধ্যেই থ্রিফট স্টোরের জিনিস ব্যবহার করার চল ছিল। আশি-নব্বইয়ের দশকে টিনএজারদের মধ্যেও এ প্রবণতা শুরু হয়।

আর্লি অটস (২০০০-০৯) ও টেনজিসের (২০১০-১৯) সময় যখন ফাস্ট ফ্যাশনের দৌরাত্ম্য চলছে, তখন প্রচলিত থ্রিফট শপের চিত্র বেশ বদলে যায়। তখন দেখা যায়, জিনিসের মানের চেয়ে কম দামের দিকেই ক্রেতারা বেশি ঝুঁকছেন। ‘ওভারড্রেসড: দ্য শকিংলি হাই কস্ট অব চিপ ফ্যাশন’ আর ‘দ্য কনশাস ক্লোজেট: আ রেভল্যুশনারি গাইড টু লুকিং গুড হোয়াইল ডুয়িং গুড’ বই দুটির লেখক ও সাংবাদিক এলিজাবেথ ক্লাইন বলেন, ‘অনেক বেশি পোশাক উৎপাদন হচ্ছে। আর মানুষের এক পোশাক চালিয়ে নেওয়ার সময়টা হুট করে কমেও এসেছে। ফলে পরিত্যক্ত পোশাকের সরবরাহ গিয়ে ঢুকছে সেকেন্ডহ্যান্ড পোশাক কেনাবেচা ব্যবস্থায়।’

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ডাস্টি রোজ ভিন্টেজের মালিক ম্যারেসা পনিচ টেক্সটাইল রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কী পরিমাণ পরিত্যক্ত পোশাক প্রতিনিয়ত এসে জমা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞতা রাখেন। জানান, ‘এখনকার যে থ্রিফট স্টোর সিস্টেম, সেটা শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন পোশাকের সংকট ছিল, তাই এর মূল্যও ছিল। এটি নিয়ে ফাস্ট ফ্যাশনের এই যুগে নতুন করে ভাবা আর কাজ করা দরকার। আগের সিস্টেমটা এখন প্রায় ভেঙেই পড়েছে। থ্রিফট স্টোরে এখন যা বিক্রি হয়, তার বেশির ভাগই আসলে অন্য কোনো দোকানে জায়গাই পায় না।’

তবে ধীরে ধীরে কমে আসছে ফাস্ট ফ্যাশন। থ্রিফট শপ ফিরে আসছে সেই পুরোনো রূপে। থ্রিফটিংয়ে ঝুঁকেছে মিলেনিয়াল থেকে শুরু করে জেন-জি সবাই। আমাদের দেশে টিনেজার আর তরুণদের জন্য অল্টারনেটিভ শপিং অপশনস বেশ বেড়েছে। থ্রিফট স্টোরের কারণে সেকেন্ডহ্যান্ড আর ভিন্টেজ পোশাক এসেছে হাতের নাগালে। এখানে একদল দৃঢ়চেতা ফ্যাশনমনস্ক তরুণ ধীরে ধীরে একটি থ্রিফট কমিউনিটি গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ থ্রিফট, কালারস ঢাকা, অ্যাসথেইজডটবিডি, ঢাকা ভিন্টেজ, পপ ট্যাগস টুডে হলো এমন কিছু অনলাইননির্ভর থ্রিফট শপ। এদের সব পণ্যই হয় সেকেন্ডহ্যান্ড, রিসাইকেলড বা আপসাইকেলড। পাওয়া যাচ্ছে বেশ সুলভ মূল্যে। থ্রিফট স্টোরগুলো এসব পোশাক ও সঙ্গানুষঙ্গ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে এনে দিতে গিয়ে ফ্যাশনেও গতি আনছে।

গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী বছরে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড পরিত্যক্ত পোশাক ভাগাড়ে জমা হয়। কিন্তু থ্রিফটিংয়ের মাধ্যমে পোশাকগুলো রিসাইকেল হয়ে অন্য কারও হাতে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। আর এভাবেই থ্রিফট স্টোরগুলো চাপ কমাচ্ছে আমাদের পকেট আর আবর্জনার বোঝা—দুইয়ের ওপরেই।

তথ্যসূত্র: বিবিস কালচার

হিরো ইমেজ: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮: ০৭
বিজ্ঞাপন