
আমাদের দেশে নারীদের ফরমাল অ্যাটায়ার বলতে বোঝায় শাড়ি, কামিজ, কুর্তা, ওয়াইড বা সেমি ওয়াইড প্যান্ট, সিগারেট প্যান্ট। তবে এখন অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ফরমাল প্যান্ট-স্যুটের চল আছে। তাই এ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে দুই ভাবে। এথনিক এবং ওয়েস্টার্ন পার্টি লুক।

যদি অফিস ওয়্যার হয় শাড়ি, তাহলে অফিস থেকে বেরিয়ে বা পার্টিতে গিয়ে এর ওপর পরে ফেলতে পারেন লং জ্যাকেট বা শ্রাগ। এগুলো না চাইলে শাড়ির সঙ্গে মিক্স বা ম্যাচ করে এক সাইডে ঝুলিয়ে নিতে পারেন একটা বড় ওড়না বা শাল। এগুলো পেছন দিক থেকে ঘুরিয়েও পরা যায়। কামিজ বা কুর্তির ক্ষেত্রেও একই জিনিস করা যায়। প্লেন ওড়না বা স্কার্ফ বদলে একটু জমকালো ওড়না বা স্কার্ফ পরে নেওয়া যায়। স্কার্ফটা পরা যেতে পারে অনেক ভাবেই। ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে বা টাই নট করে।

ফরমাল স্যুটকে অনেক ভাবেই স্টাইলিং করা যায়। ধরুন, আপনি পরে আছেন ফরমাল শার্ট বা টপস; এর সঙ্গে প্যান্টটি পরিবর্তন করে পরে নিতে পারেন কোনো র্যাপ, লং, মিডি বা ম্যাক্সি স্কার্ট বা ফ্লেয়ার প্যান্ট অথবা কিছু না করে কোটটা হাতে নিয়ে নিলেও হবে। চাইলে বাসা থেকে আসার সময় টোট ব্যাগে পুরুন নিজের পছন্দের গর্জাস টপস। অফিস থেকে বের হওয়ার আগে শার্ট খুলে ফরমাল প্যান্ট বা স্কার্টের ওপর পরে নিন।

কিছু পরিবর্তন না করে অ্যাকসেসরিজ দিয়েই একটা অসাধারণ পার্টি লুক তৈরি করা সম্ভব। অফিসে কোনো জমকালো গয়না পরা যায় না। পার্টির দিন ব্যাগে রাখুন পছন্দের সিলভার, মেটাল, মুক্তা, বিডস বা স্টোনের গয়না। যাঁরা কি রকমের গয়না পরবেন, বুঝে উঠতে পারেন না, তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হলো সিলভার, মেটাল বা মুক্তার গয়না। কারণ, অফিসে খুব হালকা রং এবং ডিজাইনের শাড়ি পরা হয়। এ ধরনের পোশাকের ক্ষেত্রে এগুলো ভালো মানায়। কামিজ বা কুর্তির ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।

ফরমাল স্যুটের সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কানে ছোট স্টাড, ছোট লকেটের চেইন নেকলেস বেশি পরতে দেখা যায়। এগুলো খুলে গলায় পরে নিতে পারেন চেইন নেকলেস, হাতে চেইন ব্রেসলেট। কানে বড় সাইজের হুপ বা জ্যাকেট ইয়াররিং। সিম্পল লং ড্রপ ইয়াররিং বা সিঙ্গেল বার ইয়াররিং বা ইয়ারকাফ। জুয়েলারি ট্রেন্ডে এখন এগুলো বেশ চলছে।

কমবেশি সবার ব্যাগে মেকআপ আইটেমগুলো থাকে। অফিস থেকে বের হওয়ার আগে এগুলো দিয়ে নিজেকে পার্টি লুকে সাজিয়ে নেওয়া যায়। পার্টির জন্য ঠোঁট বা চোখের সাজে বেশি গুরুত্ব দিন। এখন চোখের সাজে ট্রেন্ডি স্মোকি আই। খুব সহজে কেবল কাজল বা কালো আইশ্যাডো দিয়ে স্মোকি আই করা সম্ভব। অথবা পোশাকের সঙ্গে মিক্স বা ম্যাচ করে আইশ্যাডো লাগাতে পারেন। মুখে ব্লাশঅন বা হাইলাইটার লাগিয়ে নিন নিজের পছন্দমতো। পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে বা কনট্রাস্ট করে ঠোঁট রাঙিয়ে নিন লিপস্টিক দিয়ে। স্কারলেট রেড, ব্রাউন, মভ, পার্পেল, চকলেট, পিঙ্ক রং বেছে নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, চোখের সাজ ভারী হলে ঠোঁটের সাজ হালকা রাখা ভালো। সবশেষে নিজের পছন্দের পারফিউম ছিটিয়ে নিতে ভুলবেন না।
ছবি: সাইফুল ইসলাম