
আমাদের কনজ্যুমাররা ঈদে দ্বিতীয় স্তরের অনুসারী হয়ে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই আন্তর্জাতিক মানের কোনো নতুন ট্রেন্ড সেট হয়নি এবারের ঈদে। তবে স্থানীয় ট্রেন্ডে দেশীয় সংস্কৃতির প্রভাব সব সময়ের মতোই দিয়েছে এথনিক আইডেনটিটি। বছরের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন বিজনেসের আমেজ তাই ঠিকঠাকই ছিল।

বছরে যতগুলো ট্রেন্ড সেট করা সুযোগ আছে, তার মধ্যে ঈদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর জমজমাট। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির স্বরূপ এই সময়ে স্পষ্ট হয়। এখানে প্রতিটি ব্র্যান্ডের বৈশিষ্ট্যই আলাদাভাবে ফুটের ওঠে। আর তাদের কাজেও প্রতিবছর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আগে ততটা চোখে না পড়লেও এবারের ঈদ ট্রেন্ডে বেশ স্পষ্ট ছিল ‘বিষয়ভিত্তিক সংগ্রহ’।

এখনকার পোশাক শোকেস করার একটা প্রধান মাধ্যম ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম। আমাদের বেশির ভাগই নিজের ডিজিটাল প্রোফাইলে ব্যক্তিত্ব নিজের মতো দেখতে চাই। তাই নানা গেটআপে ক্যামেরায় আপনাকে-আমাকে কেমন দেখাচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা এখন বলা যেতে পারে বিশ্বব্যাপী মৌলিক চাহিদা। ফলে, ফ্যাশনের বিশেষ বিশেষ উপকরণও সেভাবেই বাছাই করে থাকেন ডিজাইনাররা। গ্লোবাল ট্রেন্ডের লেজ ধরে আমাদের ঈদ ট্রেন্ডেও এসব মানা হয়েছে। সব মিলিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোয় আমাদের ফ্যাশনবিষয়ক কার্যক্রম উপমহাদেশের ‘ফোক-ওয়েস্টার্ন মিক্স ট্রেন্ড’ মেনেই চলেছে।

কখনো কখনো সরাসরি বিদেশি সংস্কৃতিই আমাদের ফ্যাশন। আবারও কখনো পশ্চিমা বিশ্বের উৎসাহে ভারতীয়রা যেটা করছে, তথা সেকেন্ডারি ট্রেন্ডই আমাদের দেশের ফ্যাশন হয়ে ওঠে। এই ঈদে দ্বিতীয়টা ঘটেছে। বেশির ভাগ সময়েই সেটা ঘটে থাকে। ছেলে-মেয়ে উভয় ক্ষেত্রেরই বিষয়টি লক্ষ করা গেছে। এখানে ট্রিকল ডাউন থিওরি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কারণ, প্রথমে উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তকে এই ট্রেন্ড প্রভাবিত করে। এরপর সেটা আরও নিম্নগামী হয়। আর নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যে কিছুদিন বিচরণ করে তারপর হারিয়ে যায়। এতে প্রতিবছর ঈদ ট্রেন্ডে বলির পাঁঠা হয় ফ্যাশন। এবারও সেই প্রক্রিয়া চলমান ছিল। সরাসরি নিজের সৃষ্ট স্টাইল যখন ট্রেন্ডে আসবে বা প্রাইমারি ফ্যাশন ট্রেন্ডে হিসেবে পরিচিত হবে, তখনই আমরা আমাদের ট্রেন্ডকে নিশ্চিত করতে পারব।

অনেক মন্দের মধ্যে কয়েকটা ভালো দিকের একটা হলো এবারের ঈদে ফ্যাশন ক্যাম্পেইন ও প্রোমোশনগুলো খানিকটা এগিয়েছে। ডিজিটাল প্রোমোশন নতুন নয়, কিন্তু তা এখন কিছু ক্ষেত্রে ভোক্তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে। আগের কয়েক বছরের মতো গতানুগতিক বিষয়ও চোখে পড়েছে অনেক ব্র্যান্ডের প্রোমোশনে। সব মিলিয়ে নিজের টার্গেট গ্রুপকে তাদের পছন্দমতো ঈদ কনটেন্ট দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার ট্রেন্ড একটু হলেও ছিল। যেমন ফ্যাশন ফিল্মে নতুন কিছু কাজ করতে দেখা গেছে। মনে হয় মহামারিতে মানুষের ডিজিটাল লাইফস্টাইলে সময় কাটানোর প্রবণতা বেড়েছে বলেই ইন্ডাস্ট্রির জন্য এ ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। যেটা অবশ্য ইতিবাচক।

চাহিদা অনুযায়ী সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সফলতা যতটুকু এসেছে, সেটাই আসলে ব্যবসা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঈদ কালেকশন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের ডিজিটাল প্রোফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে নিশ্চিত বলা যায়, ঈদের ব্যবসা হিসেবে ঠিকঠাকই ছিল। সব ক্ষেত্রে হয়তো শতভাগ ক্রেতাসন্তুষ্টি ছিল না।
পরিশেষে বলতেই হয়, ২০২২ সালের ঈদে কোনো নির্দিষ্ট ট্রেন্ড তৈরি হয়নি বা হতে দেখা যায়নি। তবে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ক্ষেত্রে ট্রেন্ড ছিল কয়েক ধরনের। সব হিসাব শেষে অবশিষ্ট ছিল ফ্যাশনে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব। কিন্তু মন্দের ভালোতে এ সংস্করণে ভালোর পাল্লা কতটুকু ভারী হয়েছে, সেটা গবেষণার বিষয়। শেষ কথা হলো, দিন দিন ভালোর পাল্লা ভারী হচ্ছে—এটাই আশার।